Skip to main content

Posts

বাজলো বিয়ের সানাই

পা রাখতে চলেছি নারী জীবনের আরেক অধ‍্যায়ে,এবার শাশুড়ি হওয়ার পালা। একদিকে একটু মন কেমন আর নষ্টালজিয়ায় ভেসে যাওয়া। বারবারই মনে হয় জীবন বড় তাড়াতাড়ি চলেছে এগিয়ে,এই তো যেন সেদিনই প্রাণ ভরে নিয়েছিলাম প্রথম মা হওয়ার আনন্দ। সব কষ্ট ভুলে গেছিলাম বেবি কটে শুয়ে থাকা বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে। সদ‍্য মা হওয়া যুবতী মেয়েটার তখন অবাক হওয়া মনটা বলেছিল এই আমার সন্তান? মানে এতদিন এই পুচকেটাই একটু একটু করে বড় হয়েছে আমার শরীরে? তারপর ওকে ঘিরে কত স্বপ্ন আর ভালোবাসার বন‍্যা। প্রথম নাতি হওয়ার আনন্দে বাবা আত্মহারা হয়ে ছুটে গিয়ে কিনে এনেছিলেন আমার সোনা চাঁদের কণা,ভুবনে তুলনা নেই গানের ক‍্যাসেট। মা গিয়েছিলেন দক্ষিণেশ্বরে পুজো দিতে। সবাইকে খুব আনন্দ দিয়েছিল আমাদের প্রথম সন্তান তাই তার নাম হয়েছিল জয়। তারপর ছোট্ট গোলাপী তোয়ালে জড়িয়ে দিদার কোলে চেপে একদিন ভরিয়েছিল আমাদের শোবার খাটটা।          চোখ বুজলে আজও সব দেখতে পাই মনের আয়নায়। তারপর শুরু হয়েছিল মা হিসেবে সন্তানকে আদরে শাসনে গড়ে পিটে মানুষ করার লড়াই। ও হবার ছয় বছর বাদে এসেছিল আমার দ্বিতীয় সন্তান কন‍্যা। এক এক সময় হাঁফিয়ে উঠে ভাবতাম ভগবান কবে এর...

মনের খাতা

আজকাল রাজোর অনেক সময় চলে যায় বাড়ি গোছগাছ করতে কত কাজ যে বেড়েছে তার শেষ নেই। মাঝেমধ্যে সে হাঁফিয়ে ওঠে তবুও আবার মনে আনন্দের হাজার বাতি জ্বালিয়ে একাই নেমে পড়ে ময়দানে টালমাটাল পায়ে। রাজো মানে রাজশ্রী,আপনাদের নিশ্চয় অবাক লাগছে শুনে টালমাটাল পা আবার কী? রাজো নিশ্চয় গৃহবধূ তার আবার টালমাটাল পা কেন? সত‍্যিই টালমাটাল রাজো তার হাঁটু নিয়ে। মাঝেমধ্যে সে ভাবে হাঁটুটা যদি মাথায় তুলে রাখা যেত। এক পায়ে তার স্ক্রু আরেক হাঁটু একসময়ের অতিরিক্ত পরিশ্রম আর হাঁটাহাঁটির ফলে এখন আর কাজ করতে চায় না,বিদ্রোহ করে সবসময়। যার ফলে রাজো মাঝেমধ্যে ভূপতিত হয় তার বিশাল বপু নিয়ে,কখনও কেটে ছড়ে একাকার হয় তার মুখ তবুও জীবন চলতেই থাকে লেংচে খুড়িয়ে। অবশ্য এই জীবন বড় পানসে তার কাছে তাই ডাক্তারের হাঁটু পাল্টানোর থ্রেট সে কানে নেয় না লড়ে যাচ্ছে নিজের মত। মনে ভাবে যা হয় হবে। তবে মাঝেমধ্যে মন দূর্বল হয়ে যায় তবুও,তখন সে একলা কাঁদে তার ইষ্টদেবতা প্রভু জগন্নাথদেবের কাছে তারপর তাকে চুপিচুপি বলে এবার থেকে রাস্তায় বেরোলে আমার হাতটা তুমি ধরে থাকবে যাতে আমি আর পড়ে না যাই। কত আর সবার বকুনি খেতে ভালো লাগে বলো? বর বলে সবাই রাস্তা দিয়ে হাঁটে...