Skip to main content

Posts

জং ধরা গেটটায় হাত রাখে এক মেয়ে বহু বছর পর ধাক্কা দিয়ে খুলতে চায় তার সোনালী দিনের রং ছড়ানো বাড়িটার দরজাটা। দরজাটাতে জং ধরেছে তবুও খুলে যায় একটু চেষ্টা করতেই,পায়ে পায়ে ভেতরে আসে সে দুচোখ ভরা কত স্মৃতি নিয়ে। কিছুক্ষণ চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকে রংচটা সাদা নীল বাড়িটার বারান্দার দিকে,একটু একটু করে ছায়াছবির মত ভেসে ওঠে কত পুরোনো ছবি চোখের সামনে...দেখতে পায় বারান্দায় দাঁড়ানো বন্ধুদের,সবাই যেন কলকলিয়ে হাসছে আর কথা বলছে। কেউ বা আনমনে দাঁড়িয়ে বারান্দায়,আবার কেউ বারান্দায় হেঁটে হেঁটে খাতা হাতে পড়া মুখস্থ করছে। ঐতো শেষ থেকে তিন নং ঘরটা থেকে ভেসে আসছে গরম গরম ডিমের ঝোলের গন্ধ আর বালতি হাতে বারান্দা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে খুব চেনা কেউ। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুল শুকোচ্ছে বুঝি মিষ্টি হাসিমাখা কোঁকড়া চুলের বন্ধুটা। হঠাৎই মনে হল ওমা! নীচের বারান্দাটা ফাঁকা কেন? আজ কী কেউই নেই আড্ডা দেবার মত? ইশ্ মাঠটাতে জমেছে কত আগাছা! কেউ বুঝি আর বসে না সেই মাঠে? এই মাঠেই না বসে কত সময় কেটে যেত আমাদের...  -' দিদি কিছু বলবেন?'  অতীত থেকে বর্তমানে ফেরে মেয়েটা,ইশ্! মনে হয় সে আর এখন মেয়ে নাকি? শুধু মেয়েবেলায় ফেরার লোভ মনে। ...
Recent posts
এখনকার প্রজন্ম শৈশবেই মানসিক চাপ নিতে পারছে না,যার ফল হচ্ছে আত্মহত‍্যা এই খবরগুলো সংবাদমাধ্যমে আর ফেসবুকে দেখছি কদিন ধরে। আর যখন দেখছি এইজন‍্য শিক্ষক সমাজ দায়ী নিজেরও খারাপ লাগছে খুবই। এক্ষেত্রে শিক্ষক সমাজের প্রতি যেমন সতর্কীকরণ বার্তা যায় যে কোন ছাত্র বা ছাত্রীর প্রতি যে কোন কারণেই হোক প্রতিশোধমূলক আচরণ এতটাই হবে না যে সে তার শিক্ষাপ্রাঙ্গণকে জেলখানা বলে মনে করে। আমি নিজের ছাত্রীজীবনেও অনেক শিক্ষককে দেখেছি যারা সবসময় পক্ষপাতে অভ‍্যস্ত,আমাদের সময়ে মারধোরও ছিল সুতরাং কোন এক বিশেষ ছাত্র প্রায়শঃই নিগ্ৰহ এবং মারধোরের শিকার হত। এখন যেমন বাড়ির অভিভাবক,মিডিয়া অনেক সচেতন সে সময় টিচার মেরে পিঠের ছাল তুলে দিলেও ছেলেটির বলার তেমন জায়গা ছিল না। আবার কখনও অভিভাবকদের দল বেঁধে অকারণে টিচারকে কোন রাজনৈতিক কারণে হেনস্থা করতেও দেখেছি।      আমার সময় গেল,ছেলের স্কুল শুরু হল। দেখলাম পক্ষপাতিত্ব এবং টিউশনলোভী একদল শিক্ষক রয়েই গেলেন তখনও। টিউশন যদি তাঁর কাছে না পড়ো তাহলেই তুমি স‍্যারের নজরে কালো ভেড়া,রাগ এবং অত‍্যাচারের শিকার। এই শাসনে বিগড়োত ছেলেপুলে কারণ আমাদের মত কড়া অভিভাবক যাদের বাড়িতে তা...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...

নরওয়ে আর আইসল‍্যান্ড

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর দীর্ঘ পরিকল্পনার শেষে আমাদের যাত্রা শুরুর দিন এগিয়ে এলো। যদিও এই যাত্রাপথে হাঁটা শুরু করেছিলেন আমার কর্তা প্রায় আটমাস আগে থেকে। সঙ্গে ছিল আমাদের পথ প্রদর্শক হিসেবে আমার পুত্র। প্রতিদিনই বাবা আর ছেলে সময় পেলেই বসত আলাপ আলোচনায় কিভাবে সব হবে,কোথা থেকে শুরু করে কোথায় শেষ হবে যাত্রাপথের। ভিসা কেমন করে পাবো ইত‍্যাদি। যদিও ইউরোপে যাওয়া এই নিয়ে আমাদের চতুর্থ বার সুতরাং ভিসা করতে কী লাগে সবই আমাদের জানা তবুও পাবো কী পাবোনা এই দোটানা থেকেই যায়।    নির্দিষ্ট সময়ে ভিসা আসার পর সমস্ত তোড়জোড় শেষে আমরা গত পয়লা অক্টোবর রওনা দিলাম নরওয়ের উদ্দেশ্যে। আমাদের প্রথমে ইন্ডিগোর ডোমেস্টিক ফ্লাইট ছিল,সেখান থেকে দিল্লি এসে দিল্লি থেকে কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দোহা এসে পৌঁছোলাম। দিল্লি এসে টার্মিনাল চেঞ্জ করে টি ওয়ান থেকে টি থ্রী এলাম। সেখানেই আমাদের ইমিগ্ৰেশন হল। তারপর যাত্রা শুরু। ইমিগ্রেশনের সময় আমাদের রিটার্ন টিকিট দেখাতে হয়েছিল,যে কবে আমরা ফিরছি দেশে। তবে এয়ারপোর্টে জুতো চক্করে প্রথমে একটু ভুগলাম,দেখলাম নিয়মকানুন একেক এয়ারপোর্টে একেক রকম।  দোহাতে ঘন্টা তিনেকের লেওভার ছিল,আ...

দরিয়াপুর শিল্পগ্ৰাম

কলকাতা থেকে ছোট্ট ওয়ান ডে ট্রিপে দৌড়ে গিয়ে ছুট্টে ফিরে আসা যায় এবং দেখে নেওয়া যায় একসাথে অনেকগুলো জায়গা। তো আমরাও ছুট লাগালাম,কী ভাবছেন দুই পায়ে? আরে না না...নিজেদের বাহনে। প্রথমেই শক্তিগড়ে নেমে সকালে পেট নামক ইঞ্জিনে দিলাম কিছুটা পেট্রোল..এই যাঃ সেই পেট্রোল নয় তবে কিছু জ্বালানি মানে দানা আর পানি..সেটা অবশ‍্যই গরম কচুরি আর মিষ্টি। কী ভাবছেন? চরম আনহেলদি,হুঁ সত‍্যিই কিন্তু বেড়াতে এসে নিয়মের বাঁধ ভাঙতেই ইচ্ছে করে। সবাই কচুরি খাবে আর মুই খাবুনি? তা হয় নাকি?   সুতরাং আবার পথ চলা শুরু,পথে পড়লো বর্ধমানের একশো আট শিবমন্দির। দেখা বলে আর নামলাম না। সেদিনের সফরে আমাদের প্রথম গন্তব‍্য ছিল দরিয়াপুর ডোকরা শিল্পগ্ৰাম সুতরাং বর্ধমান পেরিয়ে সাহায্য নিলাম গুগলমামার উনিই বক বক করে ডাইনে যাও,বাঁয়ে যাও বলে আমাদের পৌঁছে দিলেন দরিয়াপুরে। জায়গাটা আউশগ্ৰাম এক ব্লকে এবং পূর্ব বর্ধমানে। একদম রাস্তার ওপরেই সুন্দর ডোকরার গেট করা। দেখেই মন ভালো হয়ে গেল আমাদের। ঢুকে একটা বড় মাঠ মত তার বাম দিকে উনুন রয়েছে,যেগুলোকে ভাটি বলে। ওখানে পোড়ানো হয় ডোকরার জিনিসগুলো। তারপর এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে। খুব সুন্দর সুন্দর ডোকরার...

জলটুঙ্গী

কে বলে বরেরা বৌদের জন‍্য ভাবে না? কী বলছেন? একটুও ভাবে না.. আরে ভাবে,ভাবে তাদের ভাবনা হোক বা দুর্ভাবনা হোক সবই বৌদের ঘিরে। তবে হ‍্যাঁ রাজামশাইরা বৌদের কথা রাজাদের মত করেই ভাবে। আর আমার আপনার ঘরের কর্তামশাইরা বৌদের কথা তাদের মত করেই ভাবে।   আজ বলি এক রাজার বৌকে খুশি করার জন‍্য ভাবনার গল্প। হ‍্যাঁ এমন গল্প অনেক আছে,তবুও আজ বলি আমাদের কাছাকাছি থাকতেন এমন এক রাজার গল্প। এই গল্প প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো।   বর্ধমানে ছিলেন এক রাজা,নাম তাঁর কীর্তি চাঁদ। তিনি ১৭০২ থেকে ১৭৪০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। তো রাজা থাকবেন আর রানী থাকবেন না তা হয় নাকি? রাজা বিয়ে করে আনলেন এক পাঞ্জাবী সুন্দরী কন‍্যেকে। নাম তার রাজরাজেশ্বরী। নামেও যেমন তিনি অপরূপা রাজ মহিষী তেমনি সুন্দর তার রূপ। চাঁদনী রাণী যখন ঝিলের জল মুঠোয় তুলতেন তখন সেই মুঠোতে ধরা পড়ত স্বয়ং চাঁদ।   তো এমন সুন্দরী রানী উদাস থাকলে কোন স্বামীর ভালো লাগে? রাজা অনেক আদর করে জানতে পারলেন রানীর এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না। এখানে কিছুই নাকি তার বাপের বাড়ির মত নয়। অন‍্য স্বামী হলে হয়ত জ্ঞান দিয়ে দিতেন,মানিয়ে নিতে শেখো। তোমার মন যদি এতেই খারা...

পুর্ণেন্দু পত্রী স্মৃতি শিল্প গ্ৰাম

বর্ষায় মন উড়ু উড়ু তাই উঠল বাই চলো করি ঘুরু ঘুরু। কিন্তু কোথায় যাই? হাতে মাত্র একটা পুরো দিন,নো থাকাথাকি। ভাবি চলো ভাবি,এই ভাবতে ভাবতেই ঠিক হল বেশি দূরে নয় যাব কাছাকাছি। দূরে গেলে যাতায়াতেই কেটে যায় অনেকটা সময়,সুতরাং সংক্ষিপ্ত হয় থাকার সময়টা।      পুর্ণেন্দু পত্রী স্মৃতি শিল্পগ্ৰামের কথা ফেসবুকে পড়েছি। তাই ঠিক হল সেখানেই যাবো,কারণ কলকাতা থেকে মাত্র ঘন্টা দুয়েকের মধ‍্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় সেখানে।     আমরা গাড়ি করে গেছিলাম,আপনারা চাইলে ট্রেনে করে উলুবেড়িয়া স্টেশনে নেমে সেখান থেকে টোটো বা বাসে করে মোহিনী মোড়,তারপর মোহিনী মোড় থেকে ধান্ধালিয়া পুর্ণেন্দু পত্রী শিল্পগ্ৰামে পৌঁছে যেতে পারেন।    ভগবানের কাছে হাত পেতে মন খুলে চাইলাম হে ভগবান বৃষ্টি দিও,আহা মরসুমের প্রথম বর্ষা সুখ মাখতে মাখতে যাবো। ভগবান ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করলেন,সক্বাল সক্কাল বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি মাথায় করেই,মনে খুশি নিয়ে বেরোলাম সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ। গাড়ি চললো এগিয়ে,আমরা দলে পাঁচ। আমাদের আগেরদিন পর্যন্ত প্ল‍্যান ছিল আমরা পটচিত্র গ্ৰামে যাবো,কিন্তু হঠাৎই ওদিকে বন‍্যা থাকতে পারে ভেবে মত ঘুরেছে রাতে। ...