Skip to main content

গোপালের জামা

#গোপালের_জামা#
রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী

".. আরে হৈ রিক্সাওয়ালা,আরে শুনতা হৈ। আরে দুপ্পুরবেলা বইয়‍্যা বইয়‍্যা ঘুমায়েগা রিক্সা মে।"
লতিকা মাসীমার বাঁজখাই গলায় চমকে ওঠে রিক্সাওয়ালা।
--"হাঁ মাইজী বোলিয়ে কিধার যানা হ‍্যায়?"
----কিধারমে যায়েগা আবার?হাতীবাগান যায়েগা।
উধার যাকে বাজার করেগা মানে খরিদ্দারি করেগা।
---নেহি নেহি মাইজী মেন রোড মে হম্ নেহি যায়েগা। পুলিশ পাকড় লেগা উধার বহুত ভিড় ভাড় হ‍্যায়।
---নেহি যায়েগা মানে, তবে আমি ক‍্যায়া করেগা দেখতা নেহি হামারা চলনে ফিরনে কো অসুবিধা হ‍্যায়।
--তো হাম কেয়া করেগা? আপ কিউ নিকলি ঘর সে?
----তুমারা সাহস তো কম নেহি। হামকো ইনসাল্ট করতা। নেহি নিকালতা তো হামারা গোপালকা জামা কোন কিনেগা শুনি।
-----ইসমে হামারা ক‍্যায়া লেনাদেনা আপ গোপাল কো বলিয়ে খুদ যাকে খরিদ্দারি করনে।
----রিক্সা চালাকে চালাকে তুমারা বুদ্ধি লোপ পা গেয়া,,গোপাল যায়েগা জামা কিনতে? গোপাল মতলব দেবতা, ভগবান, মালুম হ‍্যায়। উশকা জন্মদিন মানে হ‍্যাপি বার্থডে হ‍্যায়।
----মালুম হুয়া মাইজী বালগোপাল। যশোদা মাইয়াকা লাল্লা।
----ও বাল গোপাল হামারা পোলা মতলব লেড়কা য‍্যায়সা হ‍্যায়। পূজাকা দিন গোপালের জামা লেনা হ‍্যায়। তুম চলো নাইলে পাপ লাগ যায়েগা। কুছ সমঝা।
---গোপালজী কি বাত ক‍্যায়সে ডালু, চলিয়ে আইয়ে। দশ রুপিয়া একস্ট্রা দিজিয়ে গা। মগর টাউন স্কুলকে পাশ গল্লি মে উতরনা পড়েগা,গোপালজী কি কসম।
---"আচ্ছা সে হোগা হোগা এখন তো হামকো ধইর‍্যা বসাইয়া দাও রিক্সায়। খাড়াইয়া খাড়াইয়া বাত করকে আমার পা দরদ হো গ‍্যায়া।"
    লতিকা মাসিমা একসময় লতার মতোই ছিলেন তন্বী কিন্তু এখন তিনি কর্তার যত্নে মহীরুহ। তাকে রিক্সায় তুলতে রিক্সাওয়ালার গলদঘর্ম অবস্থা কিন্তু গোপালজীর জামা কিনতে যাচ্ছেন মাইজী না নিয়ে গেলে পাপ লেগে যাবে তাই সে কিছুই বলতে পারলো না।
    রিক্সাওয়ালার টুংটাং ঘন্টির আওয়াজে লতিকা মাসিমা ভাবতে লাগলেন গোপালের জামা কিনে ফেরার সময় ফুচকা আর চুরমুর খেয়ে আসবেন সাথে আইসক্রীমও। পূজোর গন্ধ আসছে এইসময় হাতিবাগানের ফুটপাথ ধরে হেঁটে বেড়ানোর মজাই আলাদা,চারিদিকে কত জিনিস দেখেও সুখ। ভুলেই গেলেন পায়ে ব‍্যাথার কথা।
  হঠাৎই মনে হলো ফিরবেন কিভাবে ? শান্তি পেলেন এই ভেবে গোপাল আছেতো, চিন্তা কি। জয় গোপালের জয়।

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
সালটা দুহাজার এগারো,মেয়েটা তখন বেশ ছোট,ছেলেটা সে বছরেই কলেজে ঢুকেছে। আর আমার মেয়ের কথায় আমরা তখন খুব গরীব ছিলাম। তবে সে আরও বলে তখন আমাদের মুঠোতে সুখ ছিল,আমরা তখন বেঁধে বেঁধে ছিলাম। ডাইনিং স্পেশে পাতা পুরোনো সোফাটায় আমি বসে শনিবার রাতে ডিডি ন‍্যাশনালে সিনেমা দেখতাম আর বুধবারে দেখতাম চিত্রহার। কখনও ওরাও এসে বসত আমার কোলে পিঠে,একসাথে বসে আমাদের চলত কত কথা আর ওদের দুই ভাইবোনের খুনশুটি। কখনও বা ঝগড়া আর মারামারিও হত,ধুপধাপ তাল পড়ত পিঠে। ওদের বাবা অফিস থেকে এলে দুজনেই উৎসুক হয়ে তাকাতো বাবার হাতের দিকে,তারপর পড়ার মাঝে জুটত ব্রেক বাবার আসার উপলক্ষে চপ,বেগুনী আর চুরমুর সেলিব্রেশনে। আমাদের হাতে তখন ফোন এলেও মুঠোতে বিশ্ব ছিল না,ছিল না ফেসবুক পাড়ায় যখন তখন ভ্রমণ। আমরা একই ছাদের তলায় বাস করেও আলাদা ছিলাম না,আমাদের অনলাইন শপিং ছিল না তখন তাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে শপিং করে কিছু খেয়ে ফেরার দিনগুলো খুব আনন্দের ছিল। ছেলের দীর্ঘ পরীক্ষার সমাপ্তির পর আমরা চলে গিয়েছিলাম তালসারিতে। গত দুদিন ধরে তালসারির কথা এত পড়ছি যে আজ হঠাৎই মনে হল আমরাও তো গেছিলাম তালসারিতে। ছবিগুলো অ্যালবাম করে রাখা ছিল বলে পেলাম। আমাদের মধ‍...
আমার পরিবারে আপনাকে স্বাগত জানাই...আমি আপনার পরিবারে এলাম,আপনিও আসবেন আমার পরিবারে। ইত‍্যাদি অনেক কথা আমরা প্রায়শই দেখে থাকি। সত‍্যিই কী এই নেটজগতের মানুষজন আমাদের পরিবার হতে পারে? আমাদের দুঃখ,ব‍্যথা কী তাদের সেভাবে ছুঁয়ে যায়? অথচ আমরা আমাদের রাগ আর মন খারাপের মুহূর্তে অনেক ব‍্যক্তিগত কথা শেয়ার করে ফেলি সেখানে কখনও লাইভ করে,বা লিখে। পরিবারের মত আগলে রাখা,পরিবারের পাশে থাকা সহজ কথা নয়। বন্ধু সবাই হতে পারে না বা বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার মুরোদ সবার থাকে না। যে সময়টা আমরা আমাদের স্বামী,সন্তান,মা,বাবা,দাদা,দিদি,মামা,পিশি,কাকুকে দিতে পারি সে সময়টা এখনকার যুগে আমরা অপচয় করে ফেলি অন‍্য পরিবারের জন‍্য যাদের অনেকেই আমাদের অপরিচিত। একটা কথা জানবেন অপরিচিত অনেক মানুষের আমাদের জানার ইচ্ছে থাকে। যেই আপনাকে জানা বোঝা শেষ,কথাও শেষ।তবুও ঐ যে আমার লেখা কটা কথাই আবার বলতে হয়, প্রয়োজন শেষে যারা রয়ে গেল পাশে তারাই আসল প্রিয়জন। এমন প্রিয়জন আমারও কয়েকজন আছেন। আমার মা,বাবা নেই তবুও আমি আমার যাঁরা প্রিয়জন আছেন,যাদের স্নেহ পেয়েছি বড় হবার এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁদের খোঁজ খবর নিই যতটা পারি। হয়ত আমি অপ্রয়োজনীয় তাঁদের...