"ও বোধহয় আর কোনদিন লেখা শিখতে পারবেনা,আমি কি করে ওকে অ আ লিখতে শেখাবো। কিছুই ভালো লাগছেনা আমার।"
......অসহায় হয়ে আমার অত্যন্ত ভালো পতিদেবতাটির ঘাড়ে মাথা রেখেছিলাম কোন একরাতে,বয়স তখন আমারও খুব কম। প্রথম সন্তানকে নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। কিছুতেই লেখা শেখাতে পারছিনা,কখনো ধমকাই কখনো বা চেঁচাই নরম হাতে পেন্সিল ধরে অসহায় হয়ে তাকায় আমার মুখের দিকে। কাঁদতাম আমিই মাঝে মাঝে ওর জন্য,খুব খারাপ লাগতো ওকে শাসন করে।...."তোমার কি মাথাটা খারাপ হয়েছে? ঐটুকু ছেলে লেখা শিখছে না বলে তুমি কাঁদছো? সত্যিই তুমিই এখনো বাচ্ছা। এমন কোন লোক আছে যে অ আ ক খ শেখেনি!"...সত্যি তো সবাই তো শেখে অ আ তাই আমার ছেলেটাও শিখবে। সময় লেগেছিলো অনেক ব্যাথা হয়েছিলো ওর নরম আঙুলগুলোতে মনে ব্যাথা পেয়েছিলাম আমি যখন ওর ফোলা গালে জমতো জল তবুও হাল ছাড়িনি। শিখিয়েছিলাম অনেক কষ্টে এক এক করে লেখানো। তারপর আবার ফাঁসলাম নামতা আর অঙ্ক শেখাতে,পুরো নাজেহাল অবস্থা আমার আর ওর বাবার। মাঝে মাঝে মনে হত ওর বোধহয় পড়াশোনা হবেনা। স্কুলের দিদিমণিরাও বলতেন ডেকে খুব মন খারাপ হোত,পিটানিও দিতাম ছেলেটাকে কখনো।
অন্য সব ছেলেরা যখন প্রচুর নম্বর পেতো তখন আমার ছেলেটা টেনেটুনে পাশ করতো,খুব খারাপ লাগতো,ফাইভ প্লাশে ওর ক্লাশ ওয়ান হয়েছিলো কিছুতেই যেন সামলাতে পারছিলোনা।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল। এখন সামার ভ্যাকেশন চলছে...
Comments
Post a Comment