Skip to main content

Posts

লিভিং টুগেদার

#লিভিং_টুগেদার# #রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী# #শেষটুকু#    "আচ্ছা এমন শুনেছিস কখনো বিয়ের কথা শুনে ছেলে বাড়ি থেকে চলে যায়? মেয়েরা শুনেছি অনেক সময় বাড়ি থেকে চলে যায় কিছু না বলতে পেরে ভয়ে।"            " মা ও কোথাও যায়নি কলকাতা গেছে। এই আমাকে মেসেজ করেছে।কাল ওদের বন্ধুদের মধ‍্যে কথা হয়েছে ওখানে ঠাকুর দেখবে ওরা। কি পাজি দাদা দেখেছো কতদিন আমি কলকাতার ঠাকুর দেখিনা।"            " বাড়ির পুজো ছেড়ে কলকাতা যাওয়া সাত সকালে চুপিচুপি, দাঁড়া দেখাচ্ছি আমি।"             যতবারই ফোন করে শান্তা দেখে ছেলের ফোন নেটওয়ার্ক সীমার বাইরে। বিরক্ত হয়ে ফোন রেখে বলে..." শোন কাউকে কিছু বলিসনা, বলবি অফিসের একটা কাজে যেতে হয়েছে। আমার হয়েছে জ্বালা ছেলের দোষ ঢাকতে মিথ‍্যে কথা বলা।"             মায়ের কথাতে মাথা নাড়ে ডল।       যথারীতি আবার বাড়ির কাজে ব‍্যস্ত হয়ে পড়ে সবাই।পুজোর বাড়ি আবার অতিথি আসছে তাই অনেক কাজ আছে।           মাঝে কেটে গেছে কিছুটা সময় অতিথিরা চলে এস...
সুবর্ণা যখন কপালে সিঁদুরের বেশ একটা বড় টিপ এঁকে জড়ির পাড় শাড়ি পরে ঠাকুর বরণ করত তখন সত‍্যি অনেকেই চোখ ফেরাতে পারত না। সুবর্ণার নাক চোখ একটু চাপা হলেও গায়ের রঙেই ভুলেছিলেন প্রদীপ্ত। মাঝে মাঝেই সাইকেল চালিয়ে চলে যেতেন আড্ডা দিতে কিছুটা দূরে পিসতুতো দাদার বাড়িতে। সুবর্ণা নিখিলদার ছোট শালী। প্রদীপ্তকে সাইকেল নিয়ে আসতে দেখেই লম্বা বিনুণী দুলিয়ে ছুটে আসত সুবর্ণা। সুবর্ণা বর্ধমানে থাকত। নিখিলদাও অনেকদিন ছিলেন বর্ধমানে কিছুদিন হল ট্রান্সফার হয়ে ওদের শহরে। বৌদির সাথে পরীক্ষার পর চলে এসেছিল নতুন শহর দেখতে সুবর্ণা। তবে নতুন শহরে এসে যে নতুন কাউকে দেখলেই পা দুটো এভাবে ছুটে আসতে চাইবে তা কখনও ভাবেনি।               মাসখানেক আসানসোলে থেকে বর্ধমানে ফেরার সময় সুবর্ণা মনটা রেখে গিয়েছিল সেই আসানসোলেই। তবে ভাইয়ের মতিগতি দেখে আর বেশি দেরি করেনি নিখিল। নিজেই মোটামুটি ঘটকের ভূমিকা পালন করে খুব তাড়াতাড়ি ব‍্যবস্থা করেছিলেন ওদের চার হাত এক করে দেবার জন‍্য। প্রদীপ্ত বাড়ির ছোট ছেলে সবার আদরের ছোট বৌ হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পা রেখেছিল সুবর্ণা।       লাবণ‍্য বলেছিলেন,"...

ছোট মা

#ছোট_মা# #রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী# রিপোস্ট চন্দন কাঠের বাক্সটা আলমারি থেকে বের করে নিয়ে বসেছে প্রতিমা অনেকদিন বাদে। এর আগেও মাঝে মাঝেই বের করে দেখেছে আবার যত্নে গুছিয়ে রেখে চাবির গোছা যত্নে বেঁধেছে আঁচলে। ও যখন এই বাড়িতে বিয়ের পর নতুন বৌ হয়ে এসেছিল তখন অলক আর অদিতি ছোট। প্রতিমা প্রমথেশের দ্বিতীয় স্ত্রী। যদিও অপরাজিতা চলে যাবার পর বিয়ের কোন ইচ্ছেই ছিল না ভেবেছিল ঐ দুই ছোট ছেলেমেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে কাটিয়ে দেবে সারাটা জীবন। কি দরকার আবার কাউকে ঘরে এনে মায়া বাড়ানোর? যদি মা হিসেবে সে উপযুক্ত না হয়? অবহেলিত হয় মা হারা দুই সন্তান? একসাথে অনেকগুলো প্রশ্ন ভিড় করত মনে যখনই কেউ বিয়ের কথা বলত।       কিন্তু একটা সময় নিজের ব‍্যবসার কাজ সামলে একা বাড়িতে কাজের লোকের ভরসায় ওদের মানুষ করা অসুখ বিসুখে দেখভাল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।             হঠাৎই একদিন ছোটবোন ইভা এল। মনটা খারাপ হয়ে গেল দাদার সংসারের এলোমেলো ছবি দেখে তাই বলেই ফেলল," দাদা আমার দূর সম্পর্কের ননদ প্রতিমা আমাদের গ্ৰামেই থাকে। স্বামী ঘরে নেয় না কিছুদিন সংসার করার পর তাড়িয়েছিল কারণ বাচ্চাকাচ্চা...