Skip to main content

Posts

কুম্ভমেলা

বহুদিন আগেই সংসার ছেড়েছিলেন বিহারীনাথ তারপর থেকে অমলা একা ছেলেকে মানুষ করেছেন কষ্ট করে কিন্তু অমলার মাথাটা একটু গন্ডগোল তখন থেকেই। বহু খুঁজে বিহারীকে কেউ পায়নি। অমলাকেও সিঁদুর মোছানো যায়নি। মাঝেমধ্যেই দরজায় বাড়ি পরলে অমলা বলতেন খাড়াও আসতেছি। কিন্তু কেউই আসত না,সেই অমলা হঠাৎই হারিয়ে গেলেন কুম্ভমেলা এসে অনেক খুঁজেও তাকে পাওয়া গেল না। ছেলে একটু খোঁজ করলেও ছেলের বৌ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো যে পাগলটা বিদায় হয়েছে। সত‍্যিই কী হারিয়ে গেল অমলা? নাকি মারা গেল?
সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতেই হাতের ফোনটা দেখে শোভন। হ‍্যাঁ এই ফ্ল্যাটটাই তো মনে হচ্ছে। তবে একবার ফোন করে নেবে ভাবলো। কিন্তু দরজায় দাঁড়িয়ে ফোন করার আগেই ভেতর থেকে নতুন গুড়ের গন্ধ ভেসে আসে শোভনের নাকে। একবার নাক উঁচু করে গন্ধ নেয় তারপরে আনমনা হয়ে যায় হঠাৎই। মনটা হারিয়ে যায় ছেলেবেলায়..পৌষপার্বণ এলেই মাকে ব‍্যস্ত করে তুলত,' মা আমাদের কবে পিঠে করবে গো? আমি কিন্তু তিনদিন ধরে পিঠে খাবো। ভাত খাব না তখন মোটেই। মা হেসে বলত,' আরে হবে তো,তোর বাবা হাট থেকে নতুন খেজুর পাটালি আর নারকেল আনলে। আমি চাল পাটায় বেটে গুড়ো করে পিঠে বানিয়ে দেব।’   হাসিতে মুখটা ভরে যেত মায়ের কথা শুনে। তারপর আবদারের সুরে বলত,' মা দুধ দিয়ে জ্বাল দিয়ে বেশ ক্ষীর ক্ষীর করে পিঠেগুলো করবে তো? ঐ যে গতবার করেছিলে ক্ষীরপিঠা। মায়ের মুখটা একটু মলিন হলেও হাসি ফুটিয়ে বলত,' আমরা যে গরীব মানুষ বাবা অত দুধ কোথায় পাবো? আচ্ছা তোর বাবাকে বলব গয়লার থেকে একটু বেশি দুধ আনতে। তোকে ক্ষীর পিঠা করে দেব তখন।' -' আমি শুধু খাব কেন তোমরা খাবে না?' -' খাবো তো,সবাই খাবো।'   একটু বড় হয়ে শোভন বুঝেছিল অভাবের সংসারে ছেলের মন রক্ষার্থে...

চলে যাবো

আত্মসম্মান বাঁচাতে মরে যাওয়া ভালো অথবা একা থাকাও ভালো সবটুকু জেনেও কিছু করতে পারেনি মুক্তা কারণ ওর একা থাকার মত সাহস নেই হয়ত অথবা এতদিন ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসারটা ছাড়তে ইচ্ছে করেনি সেই লোভেই চলে গেল না। আসলে যাবেই বা তখন কোথায়? চলে যাবো ভাবলেই চলে যাওয়া যায় না।

Athens trip

লালের প্রতি একটা দূর্বলতা বোধহয় আমার মত অনেকেরই আছে। শ‍্যামলা আর কালো রঙে লাল রঙ বড্ড বেশি মানায় বলে আমার ধারণা। লাল বেনারসী পরে তার আলোর ছটায় দশদিক আলো করেন স্বয়ং মা কালী। লাল রঙ আমাদের কাছে শুভ,লাল রঙ নারীকে করে লাবণ‍্যময়ী। আর তাই বোধহয় জীবন থেকে লাল কেড়ে নেওয়ার লোকেরও কোন অভাব নেই। যে কোন কারণেই আগেই লালকে সরিয়ে দেওয়া হয় জীবন থেকে তোমাকে অসুন্দর করার জন‍্য। আমরাও লোকে কু কথা বলবে এই ভেবে পছন্দের রঙখানা পরতে ইচ্ছে হলেও তা গায়ে চড়ানোর সাহস পাই না অনেক সময়ই। বছর দুয়েক আগে আমি কোন একটা বিয়েতে লাল বেনারসী পরে নাকি আত্মীয়মহলে সমালোচিত হয়েছিলাম। আমি অবশ‍্য সেটা উপভোগ করেছিলাম,কে জানে এখন এই বয়েসে এসে সমালোচনাটা খুব উপভোগ করি। নিজেকে বেশ সেলেব সেলেব মনে হয়। আনন্দ পাই এই ভেবে যে আমাকে নিয়েও মানুষ ভেবে কত্ত সময় নষ্ট করে। আমি যতটুকু রঙ বুঝি তাতে জানি শ‍্যামাদের রূপ খোলতাই হয় গাঢ় রঙে। বয়েসের সাথে সাথে নিশ্চয় পরিণত হতে হয়,বয়স্ক হতে হয়। তবে নিজেকে বেশি বয়স্ক ভাবতে শুরু করলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই থাকে না জীবনে।             এবার বেড়াতে গিয়েছিলাম একখানা ল...
অসুস্থ অবস্থায় মা এলেন মালদা থেকে,তাকে নার্সিংহোমে দিলাম। তারপর টানা পাঁচদিনের ভুল চিকিৎসার মাসুল স্বরূপ তখন সারা শরীর ফুলে ঢোল। বন্ড সই করে বাড়ি আনলাম ঐ অবস্থায় কোথাও ভর্তি না করতে পেরে অগত‍্যা ক‍্যালকাটা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করলাম। যদিও ছেলের মত ছিল না তবুও নিরুপায় হয়ে সেখানেই দেওয়া। ও তখন ওখানে এম এস করছে। ছেলের পড়ার জায়গাতে এর আগে ভর্তির সময় একবার গেলেও মায়ের জন‍্য প্রতিদিনই এবেলা ওবেলা যেতে হত। স্কুল ফেরত অনেকটা সময় মায়ের কাছে কাটিয়ে বাড়ি ফিরতাম,বেশিরভাগ ছেলের সাথে দেখা হত না। একটা ফোন করে বেরিয়ে আসতাম,কখনও বা দেখা হত।     সেই সময় দেখেছি সরকারী হসপিটালে ডাক্তারদের ওপরে কথা বলে আয়া মাসীরা আর যারা ট্রলি টানে বা মেল অ্যাটেন্ডেন্ট তারাও। আর সিকিউরিটিদের তো কথাই নেই। আমার চব্বিশ ঘন্টার কার্ড ইস‍্যু করা সত্ত্বেও অনেকভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে। মাকে ইউএসজি করাতে অথবা অন‍্য কোন ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যেতে হলে পাওয়া যায়নি কাউকেই।        চারদিকে শুধু কাজের হিসেবে ফাঁকি আর রোগীদের সাথে তো বটেই এবং কখনও কখনও ডাক্তারদের সাথেও দেখেছি এদের খারাপ ব‍্যবহার করতে। দীর্ঘ সময় থাক...