জং ধরা গেটটায় হাত রাখে এক মেয়ে বহু বছর পর ধাক্কা দিয়ে খুলতে চায় তার সোনালী দিনের রং ছড়ানো বাড়িটার দরজাটা। দরজাটাতে জং ধরেছে তবুও খুলে যায় একটু চেষ্টা করতেই,পায়ে পায়ে ভেতরে আসে সে দুচোখ ভরা কত স্মৃতি নিয়ে। কিছুক্ষণ চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকে রংচটা সাদা নীল বাড়িটার বারান্দার দিকে,একটু একটু করে ছায়াছবির মত ভেসে ওঠে কত পুরোনো ছবি চোখের সামনে...দেখতে পায় বারান্দায় দাঁড়ানো বন্ধুদের,সবাই যেন কলকলিয়ে হাসছে আর কথা বলছে। কেউ বা আনমনে দাঁড়িয়ে বারান্দায়,আবার কেউ বারান্দায় হেঁটে হেঁটে খাতা হাতে পড়া মুখস্থ করছে। ঐতো শেষ থেকে তিন নং ঘরটা থেকে ভেসে আসছে গরম গরম ডিমের ঝোলের গন্ধ আর বালতি হাতে বারান্দা দিয়ে ছুটে যাচ্ছে খুব চেনা কেউ। বারান্দায় দাঁড়িয়ে চুল শুকোচ্ছে বুঝি মিষ্টি হাসিমাখা কোঁকড়া চুলের বন্ধুটা। হঠাৎই মনে হল ওমা! নীচের বারান্দাটা ফাঁকা কেন? আজ কী কেউই নেই আড্ডা দেবার মত? ইশ্ মাঠটাতে জমেছে কত আগাছা! কেউ বুঝি আর বসে না সেই মাঠে? এই মাঠেই না বসে কত সময় কেটে যেত আমাদের...
-' দিদি কিছু বলবেন?'
অতীত থেকে বর্তমানে ফেরে মেয়েটা,ইশ্! মনে হয় সে আর এখন মেয়ে নাকি? শুধু মেয়েবেলায় ফেরার লোভ মনে।
-' আমি একটু ওপরে যেতে পারি? একটু দেখতাম আমার ঘরটা,মানে যেখানে আমি থাকতাম।'
একগাল হেসে ভদ্রমহিলা বলেন,' বাইরের মানুষ অ্যালাও নেই ম্যাডাম।'
সত্যিই তো কী ভীষণ অবুঝ হয়ে ওঠে মন একেক সময়। কেউই তো নেই এখানে চেনা,যাদের কথা মনে হল কেউ নেই। কিন্তু একটু আগেই সবাইকে দেখতে পাচ্ছিলাম যেন।
আমাদের একটু সাহসী আর স্বাধীন হবার দুটো বছরে ফিরেছিলাম অনেক অনেক বছর পর। সবই যেন কেমন কেমন হয়ে গেছে,হয়ত বা ওদেরও বয়েস হয়েছে আমার মতনই। তবুও কাজের ফাঁকে ঘুরে বেড়ালাম এদিক সেদিক অতীতের স্মৃতির খোঁজে। দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে বসলাম কালভার্টে একা,তখন বিকেল ফুরিয়ে প্রায় সন্ধ্যে নেমেছে।
Comments
Post a Comment