Skip to main content

#মন খারাপের টিচার্স-ডে#

#মন খারাপের - টিচার্স ডে#

(সমগ্ৰ শিক্ষক সমাজ কে জানাই #শিক্ষকদিবসের# বিনম্র শ্রদ্ধা)

#রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী#

মেট্রোতে বসে আজ বড় ক্লান্ত লাগে শর্মির, তবুও ভালো ,বসার জায়গাটা পেয়ে গেছে রবীন্দ্রসদনে। কদিন ধরে খুব মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটছে। আজকাল কেন যেন আর স্কুলেও আসতে ভালো লাগেনা । কি সব যে ঘটছে!

খুব ছোট স্কুল শর্মিদের ,তাই ওদের স্কুলের সবাই চেষ্টা করে প্রতিটি মেয়ের দিকে সমান নজর দিতে। অনেকেই দুঃস্থ কারো বা বাড়িতে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। আবার কারো বা সারাদিনই বাড়িতে বাবা মা থাকেনা। কত রকম সমস্যা ওদের তবুও ওদের মা বাবারা আর শর্মিরা চায় ওরা আলো দেখুক। শিক্ষার আলোতে ধুয়ে মুছে যাক সব অন্ধকার।
   বিভিন্ন সময় আজকাল শর্মিদের ট্রেনিং হয়, অনেকভাবে নিজেদের সমৃদ্ধ করে সেখানে। এই তো সেদিনও ট্রেনিং নিয়ে এলো শর্মি সেখানে সবসময় বলা হয় ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশোনা ছাড়াও অন্য সমস্ত ভালো দিক যেমন তাদের সৃষ্টিশীলতা,খেলাধূলা , আঁকা আবৃত্তি সমস্ত গুণগুলোর বিকাশ করে তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

ছাত্রীদের মধ‍্যে যেন থাকে সমানুভূতি তাই শুধু শিক্ষাব‍্যবস্থা এখন শুধু পড়াশোনা নির্ভর বা সিলেবাস নির্ভর নয় শিক্ষক সমাজের এখন অনেক দায়িত্ব। প্রত‍্যেককে নিজের হাতে আয়রন ট‍্যাবলেট খাওয়ানো,ওদের ওজন উচ্চতা মেপে বি এম আই বের করা হেল্থ চেক আপ করানো। সরকারের অনেক চেষ্টা ভবিষ‍্যত প্রজন্মকে আলো দেখানো। তাই এখন বই খাতা , ইউনিফর্ম সবই ছাত্র ছাত্রীরা পাচ্ছে। শর্মিরা সাধুবাদ জানায় এই পদক্ষেপকে।
    
অনলাইনে কন্যাশ্রী শিক্ষাশ্রীর সবকাজ শিক্ষিকাদেরই করে নির্দিষ্ট সময়ে জমা দিতে হয়। এখন ষষ্ঠশ্রেণী থেকে সব ছাত্রীদেরই ব‍্যাঙ্ক আ্যকাউন্ট বাধ‍্যতামূলক। ওদের হাসিমুখ গুলো দেখে সত‍্যিই মন ভরে যায়। আর হয়ত ওরা টাকার অভাবে পড়া ছাড়বেনা। এছাড়া কি সুন্দর গরম গরম মিড্ ডে মিলের খাবার আসে! ভালো থাক ওরা, পাখা মেলুক আনন্দে।

এখন যখন ওদের স্কুলের মেয়েরা কোথাও আবৃত্তি, কোথাও বা আঁকায় বা গানে পুরস্কার নিয়ে আসে মনটা ভরে যায় ফুল ফোঁটানোর আনন্দে। কাছে টেনে নিয়ে আদর করে ওরা ছাত্রীদের বলে ,'তোরা আমাদের গর্ব'।
      তবুও হঠাৎ সব গর্ব কোথায় যেন মিলিয়ে যায়, আজ শুধু মনখারাপের দিস্তা দিস্তা কাগজ শর্মির মনে।
কদিন ধরেই শর্মির কানে আসছে দশম শ্রেণীর একটি ছাত্রী স্কুলে মোবাইল ফোন এনে একদল মেয়ের সাথে বসে দেখে। কিন্তু কিছুতেই তাকে ফোন হাতে ধরতে পারছেনা শর্মিরা।

সেদিন টিফিনের ঘন্টা পড়ে যাবার বেশ কিছু পরে  সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে গিয়ে শর্মির নজরে পরে যায় মেয়েরা এক জায়গায় গোল হয়ে বসে কি যেন দেখছে, শর্মি একটু এগিয়ে যায় কারণ কিছু কথা তার কানে এসেছে ইতিমধ‍্যেই।

মেয়েরা হাসাহাসি করতে আর মোবাইল ফোনে এতই ডুবে রয়েছে যে ওরা টের পায়না শর্মির উপস্থিতি। আশ্চর্য হয়ে যায় শর্মি, বার বার বারণ করা সত্ত্বেও ওরা স্কুলে মোবাইল এনে ইন্টারনেট দেখছে। রাগ হয়ে যায় শর্মির ," কি  ব‍্যাপার তোমাদের? কি দেখছো এভাবে গোল করে বসে? জাননা স্কুলে ফোন আনা বারণ এসব কি হচ্ছে? দাও দাও ফোনটা আমাকে দাও। এটা আমাদের কাছেই থাকবে , তোমার মাকে কাল নিয়ে এসো।
    যারা ভাবছেন এমন ঘটনা তো হামেসাই ঘটে এ আর এমন কি? শর্মিরাও তেমনি ভেবেছিলো। কাল ওর মা এলে ফোনটা ফেরত দিয়ে দেবে।
     মেয়েদের দল এরপর টিচার্স রুমে ভিড় করে নানা ভাবে চাপ দিতে থাকে ফোনটা ফেরত দেবার জন্য। মেয়েটি বলতে থাকে ," দিদি ফোন টা দিয়ে দিন, আর হবেনা, মাকে আনতে পারবোনা ,মা বাড়ী থেকে বার করে দেবে। আমার ফোনটা নিয়ে নেবে।" 
     কিছুটা নরম হয়ে যায় মনটা, তবুও শর্মি বলে আচ্ছা দিতে পারি কিন্ত তোরা এত মন দিয়ে কি দেখছিলি বল? তোরা দশম শ্রেণীতে পড়িস আমাদের বাচ্ছা মেয়ে গুলোও তো তোদের দেখে শিখবে। কি এমন আছে তোদের ফোনে যা তোরা দল বেঁধে উপভোগ করছিলি? মেয়েদের মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে দেখে শর্মিকে কঠোর হতে হয় ।
 আজ শর্মির বড্ড মনে হচ্ছে গ‍্যালারির ছবিগুলো না দেখলেই ভালো হত। তাহলে হয়ত ফুলের মত নিষ্পাপ মুখগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা অচেনা মুখগুলোকে দেখে শিউড়ে উঠতে হতনা ।
    
একের পর এক কুৎসিত ছবি আর ভিডিও দেখে লজ্জায় কুকড়ে যায় শর্মিরা, কখনও বা ওরা চার বন্ধু মিলে হুকা পারলারে গিয়ে একদল ছেলের সাথে নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া বার করে হুকো খাচ্ছে। কোন ছবিতে সিগারেট খাচ্ছে আবার কোথাও বা ছোট জামা পরে উদ্দাম নৃত‍্য করছে।
        এ কি দেখছে! যে মুখগুলোকে সরল নিষ্পাপ ভেবে কত অহংকার করেছে ভরসা করেছে সেগুলোকি শুধুই মুখোশ। ওদের পেটব‍্যাথা করলে কখনো শর্মি ছুটে গেছে নাক্স এর শিশি নিয়ে । কখনও বা ব‍্যাথার ওষুধ লাগিয়ে দিয়েছে অপত্যস্নেহে। আজ কি দেখছে ! নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে ইচ্ছা করেনা ওদের।
      আরও অনেক কিছু অপেক্ষা করছিলো শর্মিদের জন্য। মেয়েদের বারবার প্রশ্ন করেও তারা জানতে পারেনি, কেন ওরা হুকো খেতে গেলো, কে ওদের নিয়ে গিয়েছিলো ওই জায়গায়? অসহায় শর্মি ভেবেছিলো সে যখন কিছুতেই ওদের কাছে কিছু জানতে পারলোনা তখন সর্বশিক্ষার দফতরে যারা কাউন্সিলিং করে তাদের সাহায্য নেবে। মূলস্রোতে ফেরাতেই হবে হারিয়ে যাওয়া মেয়েগুলোকে , ভালো থাকুক ওরা।
      হঠাৎ চমকে ওঠে শর্মি একটি মেয়ের কর্কশ চিৎকারে তার সাথে গলা মেলায় অন্য আরেকজন ও," আমরা এইসব স্কুলের বাইরে করছি, স্কুলের বাইরে আমরা যা খুশি করতে পারি আমাদের ফোন দেখে আপনারা অন্যায় করেছেন। " স্তব্ধ হয়ে যায় শর্মি , এ কোন প্রজন্ম? এরা কি তার এতদিনের তিলতিল করে গড়ে তোলা আগামী দিনের স্বপ্ন?
        শর্মি মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তাই নিতান্ত নাবালিকা স্কুলছাত্রীদের এই অধঃপতন কিছুতেই মেনে নিতে পারেনা। এই তো সেদিনই এক সংবাদপত্রে পড়লো রিক্সাচালক বাবার ছেলে IAS অফিসার হয়েছে বা কখনও শোনে রিক্সাচালক স্বামীর স্ত্রী রাজস্থানের গ্ৰাম থেকে ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
      তাই নিজেদের দায়ী করে শর্মি হয়ত তারাই দোষী এর জন্য।  ওরা দেখে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে,বলে মানছি বাইরে করেছো কিন্তু ছবিগুলো স্কুলে বসে দেখছো কেন?তোমাদের অন‍্য বন্ধুরা,ছোট বোনেরা কি শিখবে বলো? উত্তর আসে, মিথ‍্যে বদনাম দেবেননা। সবাই ফোন নিয়ে এসে নেট দেখে। তাহলে কি সত‍্যি পচন ধরেছে ওদের স্কুলের গোড়ায়?

       
    অসহায় হয়ে অভিভাবকদের ব‍্যাপারটা না জানিয়ে পারেনা শর্মিরা , সেখান থেকেও পায় একই মতামত। আঙ্গুল ওঠে শর্মিদের দিকেই।তাদের ও এক মতামত যা করেছে স্কুলের বাইরে।কিছুটা কঠোর হওয়ার চেষ্টা করে ওরা , ঠিক আছে মানছি, কিন্তু ছবিগুলো স্কুলে বসে অন্য মেয়েদের সাথে দেখছে কেন?জবাব মেলেনা।অপত্যস্নেহে অন্ধ অভিভাবকরা আজ বড়ো ভয় পায় তাদের সন্তানদের।

আজ বড় অসহায় লাগে শর্মির বুঝতে পারে শিক্ষকসমাজ এখন সমাজের হাতের পুতুল।আর তাই হয়তো খবরে দেখে প্রায়ই শিক্ষকরা হেনস্থা হচ্ছে কখনো ছাত্রদের কাছে কখনও বা অভিভাবকদের কাছে। কোথা থেকে ওরা এত টাকা পাচ্ছে? কোন সদুত্তর পায়না শর্মি। এখন তো ওদের সবারই ব্যাঙ্ক আ্যকাউন্ট আছে। তবে কি যে অর্থ ওদের এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সরকার দিচ্ছেন তা কি অন্য কাজে লাগছে? দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে আসে শর্মির বুক থেকে। নিজেদের বড় অসহায় লাগে।

 আজ তাই বড় রণক্লান্ত শর্মি। মাথাটা যন্ত্রণায় ছিঁড়ে যাচ্ছে। শরীরটা এলিয়ে দেয়, নীল তিমি কি সত্যি ঢুকে পড়েছে আজ সবার ঘরে?  প্রযুক্তির হিংস্র শ্বাপদের থাবা কি এভাবেই নষ্ট করে দেবে তিল তিল করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে? ওরা বই পড়েনা , গেলে ইন্টারনেট।

    ঘুম ভেঙ্গে যায় শরতের মিঠে রোদ চোখে লেগে অনেকটা বেলা হয়ে গেছে আজ, কটা বাজলো? ঘড়ির দিকে তাকাতেই সময় আর তারিখ দুটোতেই চোখ পড়ে যায় শর্মির। তাইতো আজ ৫ই সেপ্টেম্বর , এই কদিনের মন খারাপের মেঘ সব কিছুকেই ঢেকে দিয়েছিলো।
     অন্য বছর কত পরিকল্পনা থাকে এই দিনটা নিয়ে। এই কদিন নিজের অস্তিত্বের লড়াই করতে করতে দিন তারিখের হিসেব সবই গুলিয়ে গেছিলো। বড় বিস্বাদ লাগে আজকের দিনটা। চুপ করে বসে থাকে কমন রুমের চেয়ারে, একদলা কান্না ঠেলে আসে গলা দিয়ে।
       হঠাৎই একটা পরিচিত আদুরে গলার দিদি ডাকে চমক ভাঙ্গে শর্মির , টুক করে এসে প্রণাম করে শর্মির পায়ে এবার একদম শর্মির গা ঘেঁষে দাঁড়ায় একটু আদর পাওয়ার জন্য। অন্য পাঁচটা মেয়ের থেকে অনেকটা পিছিয়ে পড়া ছাত্রী তিতলি ,সমাজের কারো কারো চোখে তিতলি আ্যবনরমাল। কিন্তু আজ তিতলিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে শর্মি ,আজকের মন খারাপের টিচার্স ডে তে সমাজের চোখে পিছিয়ে পড়া নিষ্পাপ তিতলিই বোধহয় শর্মির সেরা উপহার। অপূর্ব আবৃত্তি করে তিতলি। ভালো থাকিস সোনা মেয়ে তোর সরল মুখখানা যেন চাপা না পড়ে মুখোশের আড়ালে, বিড় বিড় করে বলে শর্মি।

     কয়েকবছর আগে দশম শ্রেণীতে Most Beautiful বলে একটা গল্প পড়াতো শর্মি। তাই শর্মির ও আজ মনে হলো সমাজের চোখে যারা abnormal শর্মির কাছে তারাই সবচেয়ে সুন্দর, Most Beautiful  গল্পের সুরেশের মতো। ভালো থাক তিতলিরা, নীল তিমির থাবা থেকে নিজেদেরকে বাঁচিয়ে।

      তিতলির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ঝাঁক কচিমুখ একসাথে বলে ওঠে,' হ‍্যাপি টিচার্স ডেএএএ দিদি। '
    

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...

জন্মে জন্মে

চাকরির বদলি নিয়ে এক নির্জন জায়গাতে গেছেন একজন। জায়গাটা নির্জন তাই বৌকে নিয়ে যেতে পারেননি। তারপর বদলি হয়েছেন বিজয় নগরে। এখানকার মিউজিয়াম দেখাশোনার দায়িত্ব তার ওপরে।     এবার ঠিক করেছেন কুসুমকে নিয়ে আসবেন এখানে। মায়ের কাছে শুনেছেন কুসুম খুব মন মরা। কুসুমকে বিজয়নগরে আনার পরই সে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। জায়গাটা তার ভীষণ পছন্দের। তার বায়নাতে ছুটি পেলেই সুরজ সিংকে ঘুরিয়ে দেখাতে হয় জায়গাটা।    কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা। কুসুমকে পাওয়া যায় না। বিজয়নগরের শুকনো চান ঘরে কলকলিয়ে ঢোকে জল। আর সেই জলে ভাসে কুসুম।     অবাক হয় সুরজ ওর সাথে কে? কেয়ারটেকার ছেলেটাকে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে।