#জমিয়ে_ষষ্ঠী#
#রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী#
"মা বলছি তো এবার আর আমাদের জামাইষষ্ঠীতে যাওয়া হবেনা। প্রত্যেকদিন এক কথা বলো কেন? এবার ভিডিও কলে জামাইকে পাখার বাতাসটা দিয়ে দিয়ো,কিছু করার নেই।"
...." হ্যাঁ ঐ হয়েছে তোদের এক ভিডিও কল,এরপর ওতেই খাওয়া দাওয়া সব সারবি আরকি,আসতে হবে না ছাড়।"
"আরে রাগ কোরোনা হলুদ সুতো,পাখা সব তুলে রেখো আমরা যখন যাবো তখন হবে। আর খাওয়াটা কিন্তু মাষ্ট ওটা যেন বাদ না পড়ে,কি গো চুপ করে গেলে কেনো? কিছু তো বলো। "
....." কত বদলে গেলি বিয়ের পর তাই ভাবছি,শ্বশুরবাড়ি নিয়ে কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি শুরু করেছিস। তুই নতুন বৌ,এতো কিসের দায়িত্ব তোর শুনি?"
......."রাগ কোরোনা প্লিজ,ও ছুটি পাচ্ছেনা,আর আমার ননদরা খুব বায়না ধরেছে এই ষষ্ঠীটা আমাদের সাথে থাকবে। জানোই তো তুমি মা ওদের তো মা নেই।"
......"মানছি তোর শাশুড়ি নেই,ওদের তেমনভাবে ষষ্ঠী হয়না তবে সব দায়িত্ব কি এখন থেকে তোর ঘাড়ে চাপলো নাকি?"
......" এটা আমার দুই ননদের একটা ছোট আবদার,সাথে মাসতুতো ননদও আসবে। কি করে না করি বলতো?"
......" না না তুমি গিন্নীপনা করো ওখানে,খাওয়া দাওয়া মহোৎসব সব সামলাও একা,আর খেটে মরো। এত কাজের অভ্যেস আছে নাকি তোর?"
....." ওহ্ মা ম্যানেজ হয়ে যাবে,আমরা একটু একটু করে তৈরি হচ্ছি তো,আর আমার রান্নার লোক তো আছেই। অত চাপ নিয়োনা।"
....."আর কি আমি আর তোর বাবা এখানে শুকনো মুখে বসে থাকি,মনখারাপ করে একটা মাত্র মেয়ে,সেও আসবেনা ষষ্ঠীতে।"
....." মা একটা কথা বলি,তোমরাও বরং এখানে চলে এসো,কতটা আর রাস্তা। কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি। এসোনা মা,পুরো জমে যাবে ব্যাপারটা।"
...." একদম নেই বাবা আমি,ঐসব হুজুকে। চোখের সামনে বসে দেখতে পারবোনা আমার মেয়েটা খেটে খেটে মরছে।"
....." আচ্ছা ভেবে দেখো একবার,বাবাকে বলো। আমি রাখি এখন। ওর আসার সময় হয়ে যাচ্ছে।"
ফোনটা রেখে রাগে গজগজ করতে থাকেন সুষমা,একদম হয়েছে বাপের মত মেয়েটা হুল্লোরবাজ। এতটা যে কাজের চাপ পড়বে ঘাড়ে সে হুঁশ নেই একটা বোকার ডিম। বর আর শ্বশুরবাড়ি নিয়ে মেতে আছে। ওর ননদদুটো তো একেবারে মহা চালাক,এই সুযোগে বেড়ানো আর ষষ্ঠীর আনন্দ দুই করে নেবে। মাঝের মাঝ তুলিটার আসা হচ্ছেনা বাপের বাড়ি।
তুলি তখন মাতোয়ারা জামাইষষ্ঠীর প্ল্যানিং নিয়ে,মনে মনে ভাবে সত্যিই তো তুহিনের মা মারা গেছে বেশ কয়েকবছর আগে ও বিয়ের পর শাশুড়ির আদর পায়নি। ননদাইদের তেমন ভাবে আনন্দই আর হয় কোথায়! যে জামাই আদর করবে সেই তো নেই মানে উইদাউট শাশুড়ি জামাইষষ্ঠী। তাই ওরাই বলেছিলো এখানে চলে আসতে,সেলিব্রেশনও হবে আর বেড়ানোও হবে।
..... তুহিনের অফিসের জিপের আওয়াজটা পেয়ে এগিয়ে যায় কোয়ার্টারের গেটের দিকে। এনজিপির গায়েই প্রায় ওদের এই বাংলো টাইপের কোয়ার্টার,মন জুড়োনো সুন্দর। প্রথম যখন এখানে এসেছিলো মন ছুঁয়ে গিয়েছিলো তুলির,একছুটে চলে গিয়েছিলো বাগানের দিকে। কত গাছ বাগানে,সবুজের ছোঁয়ায় মনটা ভরে গিয়েছিলো। বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে চা খেতে খেতে চোখ চলে যায় দূরের পাহাড়ের দিকে। ভালো হয়ে যায় মনটা,ছুঁতে চায় স্নিগ্ধতাকে মন ভরে।
...." আজ কোন স্পেশাল ব্যাপার নাকি তুলি,একদম ব্লাশ করছো। তোমার লাল সবুজ কুর্তাটা একদম একটুকরো মন ভালো করা ডুয়ার্স,এটা এর আগের বার কিনেছিলাম না কলকাতা থেকে?"
....." এই যে আজ কি সব ট্রেন রাইট টাইমে চলছে নাকি? এতো খোশমেজাজ? অন্য দিন তো তাকিয়েও দেখোনা।"
..." কি যে বলোনা! সারাক্ষণ তো তোমার দিকেই তাকিয়ে বসে আছি। মাত্র তো দুবছর হলো,এভাবেই তাকিয়ে কাটিয়ে দিতে পারি সারাজীবন।"
কাছাকাছি বসে,বিকেলের পড়ন্ত বেলায় চা খেতে খেতে অনেক প্ল্যানিং হয়ে যায় দুজনের। " এই শোন না,মা কিন্তু খুব রাগ করছে। মায়ের একদম মুড অফ।"
....." সত্যি গো,আমারও কিন্তু খুব মনে হচ্ছে গতবারের মেনুগুলোর কথা। উফফফ্!"
...." এই পেটুক,তাহলে ওদের না করে দাও কি বলো?"
...." আরে ধুসস্ আমি মিস করছি ঠিকই কিন্তু ওরা সবাই আসবে এটা ভীষণ এক্সাইটিং।"
...." তাহলে এই উইকএন্ডে শিলিগুড়ি থেকে ওদের জামাকাপড় গুলো কিনে ফেলি পাশের বাড়ির মুনিয়া বলছিলো ওখানে একটা ভালো বুটিক আছে।"
...." একদম মহারানী,আমার কার্ড তো আছেই,চলে যাওনা একদিন মুনিয়াকে নিয়ে।"
" তা হচ্ছেনা মিঃ ফাঁকিবাজ তোমাকেই যেতে হবে সাথে,তুমি কি গো আমাকে একা ছেড়ে দেবে?"
....." না সত্যিই একা ছাড়া যায়না,সুন্দরী মিত্তি বৌটা আমার,মজা করছিলাম জাষ্ট। আসলে বুটিক গুলোতে একটা মেয়ে মেয়ে ব্যাপার আছে তো তাই একটু হেসিটেট করছিলাম।"
.....সত্যিই উইকএন্ডটা দারুণ কাটলো ওদের,নর্থবেঙ্গলে এইসময় বর্ষার আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। সবুজে সবুজ প্রকৃতি তার মধ্যে লম্বা লম্বা ছাতা সবার হাতে,বৃষ্টি ধোয়া রাস্তাগুলো ঝকঝক করছে। এরমধ্যেই ওরাও বেশ গুছিয়ে কেনাকাটা করলো। "এই শোনো এবার জামাইদের পুরো জামাই সাজিয়েই ছাড়বো। কি সুন্দর কালার্ড ধুতিতেও কোঁচায় হাল্কা স্টিচ আর তার সাথে মিক্সড এন্ড ম্যাচ পাঞ্জাবী। শাড়িগুলোও বেশ হয়েছে তাইনা? একদম লাভবার্ডস ড্রেস। ছবিতে খুব ভালো লাগবে,থ্রি পেয়ারস অফ মেয়ে এন্ড জামাই। সো নাইশ।"
....." ইশ্ শুধু তোমারই ষষ্ঠীর সাজগোজটা আমার দেখা হোলোনা। তোমার জন্য পছন্দ করে একটা শাড়ি আর মা বাবারটাও কিনে ফেলো।"
...." মা বাবারটা পরে কিনলেও হবে। আমি তো এক্ষুনি যাচ্ছিনা। "
...." কিনে ফেলোনা,আবার বার বার আসা। মাকে ছবিটা পাঠিয়ে দিয়ো,মা খুশি হবেন। খুব রাগ হয়েছে। অবশ্য হওয়াটাই স্বাভাবিক।"
শপিং করে খেয়ে দেয়ে আসতে বেশ রাত হয়ে যায়,মনটা সত্যি আজ খুব ভালো লাগছে তুলির। শপিং করতে কার না ভালো লাগে! তারপর এই এতোগুলো শাড়ি নিজের পছন্দে কেনা সত্যিই খুব এক্সাইটিং ব্যাপার। সবগুলো পেয়ার করে গুছিয়ে রাখছিলো। " থোরা সা ইস না চিজ পর ভি দিল দো,মেরে জান।"...রিমঝিম বর্ষাতে তুহিন তুলিকে কাছে টেনে জানলার পাল্লাটা খুলে দেয়। একঝাপটা ভিজে হাওয়া আর বৃষ্টির মিষ্টি আবেশে বড় কাছাকাছি ওরা দুজন।
...." তুমি স্টেশনে যাবে তো? আমি আর যাচ্ছিনা। এদিকে অনেক কাজ। ইশ্ ওরা কালই আসতে পারতো। একদম নাকি আজ না এলে এসেন্সটা জমবেনা।"
....." আমি বেরোচ্ছি বুঝলে,তোমার এদিকে সব মানে ব্রেকফাস্ট রেডি তো?"
....." হ্যাঁ গো,মলিনাদি আর ওর বোন সামলাচ্ছে সবটা। আলুর দম,ছোলার ডাল সব রেডি। এলেই গরম গরম ফুলকো লুচি।"
তুলি বার বারই বারান্দায় বেরোচ্ছে,ঢুকছে। তুহিন জানালো দার্জিলিং মেল আধঘন্টা লেট আছে। ওফ সত্যিই খুব এক্সাইটেড লাগছে,এর মধ্যেই স্নান সারা হয়ে গেছে তুলির। জিপের শব্দ কানে আসতেই দৌড়ে যায় গেটের কাছে। "বৌমণি আমরা এসে গেছি গো...."
মাতিয়ে তোলে ওর ছোট ননদ আর ননদাই,মিলি আর সিদ্ধার্থ।সবাই একে একে নামছে,কিন্তু একি! চোখটা একবার কচলে নেয় তুলি। সবার শেষে গাড়ি থেকে নামলো যারা তাদের দেখে।কি দেখছে এটা,স্বপ্ন নয়তো!
মুখে একটা শুকনো হাসি মাখিয়ে নামছে ওর মা আর হৈ হৈ করে নামছে ওর বাবা আর শ্বশুরমশাই।...." তোমরা! কাল যখন বললাম কিছু বললেনা তো।"
....হাসতে হাসতে বললো ওর বাবা," আর বলিসনা,তৎকালে টিকিট কেটে বেয়াই আমাদেরকে পুরো হাইজ্যাক করে তুলে আনলো।"
....." আরে তুলিমা,আমাকে টানলো মেয়েরা,আমার তো আসার কথাই ছিলোনা। আরে তোমরা সব আনন্দ করবে আর আমাকে বসে একা বাগান দেখতে হবে। তাই নিয়ে এলাম ওনাদের জোর করে।"
মা বাবাকে দেখে একরাশ আনন্দে মনটা উড়ে গেলো ফুরফুর করে তুলির। কিন্তু মায়ের মুখটা যেন একটু গোমড়া। যাক ম্যানেজ হয়ে যাবে আস্তে আস্তে।
..... আয়োজন দেখে সবাই তো পুরো মুগ্ধ,একদম খাবার জন্য রেডি। শুধু ওর মা বাগড়া দিলো আজ ষষ্ঠীরদিন আগে পূজো তারপর অন্য কথা। শেষে মলিনাদিকে দিয়ে মাকে কাছেই মন্দিরে পাঠিয়ে পূজো দিয়ে আনাতে হাসি ফুটলো মায়ের মুখে। শুধু একবার কানে কানে বললো," তোর শ্বশুরমশাই বেশ আছে,নিজের সব দায় দায়িত্ব আমার মেয়েটার ঘাড়ে ফেলে। ঐ জন্যই আমি আসতে চাইছিলাম না।তোর বাবা যা শুরু করলো।"
মাকে ইশারায় চুপ করতে বলে বললো," এই যে সবাই লাইন দিয়ে ফেলো এবার মাতৃদেবী তোমাদের পাখার বাতাস দেবেন।"
মহা খুশি ননদ ননদাইরা,শ্বশুর মশাইয়ের চোখের কোলটাও একটু ভিজলো," বেয়ানের জন্য কতদিন বাদে এই পাখার বাতাসে মন প্রাণ জুড়োলো।" এই বলে কপালে হাত ঠেকালেন।
....." ওহ্ বৌমণি তোমাদের এই বারান্দাটাই তো স্বর্গ,আমার তো উঠতেই ইচ্ছে করছেনা।"
মনে মনে গজগজ করে সুষমা তবে আর কি সবাই মিলে বসে আড্ডা মারো আর আমার বোকা মেয়েটা খেটে মরুক। নিজের জামাইয়ের জন্য জামাকাপড় এনেছেন,ওদের জন্য তো আনা হয়নি,জানতেনই তো না আসবেন বলে। বেয়াইমশাই পুরো ষড়যন্ত্র করে বুদ্ধু বানালো। তাই বাধ্য হয়ে কিছু টাকা খসে গেলো চক্ষুলজ্জার খাতিরে এক যাত্রায় পৃথক ফল তো হয়না। মনে মনে বললেন মহা সেয়ানা এক বেয়াই পেয়েছেন,পুরো খরচটা কেমন ওনার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে আনন্দে নেত্য করে বেড়াচ্ছেন।
তুলি মনে মনে আন্দাজ করছে সবটাই,কেন মায়ের মুড অফ। তবুও হাসিমুখে দুইপক্ষকেই সামলে রেখেছে। " বৌমণি করেছো কি,এতো ভালো ড্রেসের কালেকশন কোথায় পেলে? এর পর কিন্তু এখান থেকেই শপিং করবে।"
....." আরে তা তো হবেই,তোমাদের পছন্দ হয়েছে তো? আমি কিন্তু খুব টেনশনে ছিলাম। "
তুহিন ব্যস্ত ভগ্নীপতিদের নিয়ে," বাহ্ এতো বেশ র্যাম্পে হাঁটার মতো,তিন জোড়া জামাই মেয়ে।"
সিদ্ধার্থ আওয়াজ দেয়," আরে দাদা তিন নয় চার,আর মাসিমা মেসোমশায়কেও দারুণ লাগছে। তাহলে পাঁচ,শুধু আমার শ্বশুরমশাইটা একলা পড়ে গেছেন।"
একটা কষে ধমক লাগায় মিলি সিদ্ধার্থকে। সেলফি আর গ্ৰুফিতে সবাই বেশ মাতোয়ারা। সুষমা উঁকি মারেন রান্নাঘরে,অনেক রান্নাই এগিয়ে আছে,শুধু গরম করে নিলেই হবে। ইশ্ এত আতুপাতু করে মানুষ করা মেয়েটা কি হাড়ভাঙা খাটুনিই না খেটেছে। তবুও হাসির শেষ নেই পারেও বটে।
...." আমাদের তুলিমা সত্যিই গুছিয়ে সংসার করছে,এতো সাজিয়ে গুছিয়ে এতোরকম রান্না বহুদিন বাড়িতে খাইনি আপনাদের বেয়ান চলে যাবার পর।"
...." সত্যি বউদি,ভেটকিপাতুড়ি,মুইঠ্যা,বড় বড় চিতলপেটি,ইলিশ ভাপা,চিংড়ী মালাইকারি মাংস কিছুই তো বাকি রাখোনি। ব্যাপক হয়েছে কিন্তু পদগুলো।"
....." তবে বাবা, তুমি কিন্তু এতো কিছু খাবেনা। তাইনা দিদি?"
....."আরে একটা দিন তো সব অল্প করে খাক। কিছু হবেনা।"
...." এই তো পারমিশন পেয়ে গেছি আমার ছেলের। "
কোথা দিয়ে যে দুটো দিন কেটে গেলো হৈ হৈ করে বোঝাই গেলোনা।
শুধু সুষমারই মনটা খচখচ করতে লাগলো মেয়েটার জন্য। আর রাগ হোলো বেয়াইয়ের ওপর,বিয়ের সময়ই বুঝেছিলেন খুব চালাক ভদ্রলোক,মিষ্টি কথায় লোক ভোলান। আসলে একদম কিপ্টের ডিম,জামাইষষ্ঠীতে বেশ নিখরচায় কাটিয়ে দিলেন।
.....বারান্দায় বসে সবাই হৈ হৈ করে গল্প করছে বিকেলে,মলিনাদির তৈরি পকোড়া আর চায়ে পুরো জমে গেছে আসর। হঠাৎই ওর শ্বশুরমশাই বলেন," আমার সাথে তুহিনের একটা প্ল্যান হয়ে গেছে,সবাই চট করে গুছিয়ে নাও কাল কিন্তু আমরা দার্জিলিং যাচ্ছি। একদম পাক্বা,তুহিন গাড়ি ঠিক করে ফেলেছে ফোন করেছিলো।"
ওর ননদরা শুনে তো একেবারে বাবাকে জড়িয়ে ধরে," বাবা,তুমি এতো কিছু পারো,আমরা তো ভাবতেই পারছিনা।"
....." তাহলেই বোঝো,তোমাদের বাবা কি করতে পারে! আসলে মনটা তো মরেই গেছিলো তোদের মা চলে যাওয়ার পর। বেয়ানকে দেখে আবার এনার্জি পেলাম। "
...." আপনি তো মহা মজা করেন দাদা,সত্যি না এলে খুব মিস করতাম।"...শুধু একটু লজ্জা পেলো সুষমা।
পরের দিন ফুল ব্যাটেলিয়ান একদম সেজেগুজে বেড়িয়ে পড়লো সকালে,সত্যি এ যেন এক উপরি পাওনা। মাঝে মাঝেই একটু করে গাড়ি থামিয়ে,চাবাগানের সামনে ছবি তুলছে ওরা সবাই। ননদাইরা আওয়াজ দিচ্ছে প্রজাপতিরা এবার উঠে এসো,দেরি হয়ে যাচ্ছে। ফ্লাক্সের চা আর স্ন্যাক্স খেতে খেতে কুয়াশা কেটে এগিয়ে ওদের জিপটা পৌঁছে গেলো দার্জিলিং।
....." শোনো এখানকার সব খরচ কিন্তু আমার,কেউ পাকামো কোরোনা। আসলে এই ট্রিপটা শুধুই আমার তুলিমা আর বেয়ানের অনারে। এবার যেন আমার অনেকটা নিশ্চন্ত লাগলো এখানে এসে।"
তুলির মুখটা বড় উজ্জ্বল লাগে দেখতে,অনেক কিছুর পর এটা বোধহয় সব মেয়েদেরই বড় প্রাপ্তি। আর সত্যি বলতে প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে। বাবার কথা শুনে কলারটা একটু উঁচু হলো তুহিনেরও।
....সেদিন কেভেন্টার্সে বসে সবার অনেক আনন্দের মধ্যে একটা বড় আ্যনাউন্সমেন্ট করলেন ওর শ্বশুরমশাই," শোনো আজ আমার বৌমাষষ্ঠী,সবটাই তুলিমার অনারে,আর বেয়ান আমার ভি আই পি গেষ্ট। উনি ছিলেন বলেই তো এতো ভালো একটা মেয়ে পেয়েছি আমরা। "
মনে মনে সত্যিই লজ্জিত হলেন সুষমা,আসলে মানুষকে বোধহয় চিনতে অনেকদিন লেগে যায়। সবার হৈ চৈ এর মধ্যেই কথাগুলো কানে এসে সত্যিই মনটা ভরে গেলো সুষমার।
......" তোমাদের মা চলে যাবার পর বড় দিশাহারা হয়ে গেছিলাম,ভেবেছিলাম আমার জামাইরা বোধহয় আর কোনদিন শ্বশুরবাড়িতে আনন্দ করতে পারবেনা। তুলিমা আমার সেই দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে। তাই আজ সবটাই তুলিমার অনারে, আরে কি খাবি অর্ডার দে সবাই। আজ আমার বৌমাষষ্ঠী,গিফ্টটা ডিউ রইলো কিন্তু।"
নিজের চেয়ারটা আরো এগিয়ে শ্বশুরমশাইয়ের কাছে এসে বসে তুলি সত্যি মেয়েদের কথা এমনভাবে কয়জন ভাবে? ততক্ষণে ননদরা হৈ হৈ শুরু করেছে," ইউনিক প্ল্যান দিলে তো বাবা জামাইষষ্ঠীর পরেই বৌমাষষ্ঠী,এবার আমাদের শ্বশুরবাড়িতেও চালু হতেই হবে।"
কেভেন্টার্সের আলোয় ঝলমল করে উঠলো আরো অনেকগুলো মুখ টুকরো খুশির আনন্দে। মায়ের মুখের পরিতৃপ্তির হাসিটা বড় স্বস্তি দিলো তুলিকে। এক ছাদের তলায় একটু খুশি আর হাসিতে পরিবারকে থাকতে দেখে মনটা ছুঁয়ে গেলো ওদের বাবাদের। উৎসব যাই হোকনা কেনো,ভালো থাকাটাই আসলে শেষ কথা।©ইচ্ছেখেয়ালে শ্রী
সমাপ্ত:-
Comments
Post a Comment