Skip to main content

সবুজ প্রেম

#সবুজ_প্রেম#
#রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী#

"প্রি আ্যনিভার্সারি আউটিং আর কত কি যে শুনবো তার ঠিক নেই,আচ্ছা বলতো বিয়ের এই একবছরে কতবার এমন আউটিং হলো? কি জানি বাপু প্রথম আ্যনিভার্সারিতে লোকে সাজগোজ করে লোক খাওয়ায় সেসব নেই ওনারা চললেন জঙ্গলে বেড়াতে।"
          " মা লোক তো কতই খাওয়ালে বিয়েতে। একগাদা গিফ্ট,খাওয়াদাওয়া পরিশ্রম এত পারা যায়না তার থেকে এই ভালো। দুজনে কদিন একসাথে থাকবো। তোমাদেরকেও তো যেতে বলেছিলাম।"
     "আমাদের রক্ষে করো বাপু ঐ জঙ্গলে গিয়ে আর কাজ নেই,একটা দোকানপাট নেই কিছু নাই। বসে বসে ঝিঁঝিঁ পোকার কেত্তন শোনো। পুরী বা বেনারস হলে যেতাম।"
                  মুখ টিপে হাসে অভিমন‍্যু মায়ের কথা শুনে। যাক্ বেড়ানোটা হচ্ছে এটাই শান্তি,নাহলে আবার মহুয়ার মন খারাপ হয়ে যেতো। বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে ভালো লেগে গিয়েছিলো মহুয়াকে,মালবাজারে ওদের বাড়ির পাশেই সবুজের ঢাল আর চাবাগান। মাঝেমাঝেই চিতা এসে কাঁচের জানলায় আঁচড় কাটে। তবুও সবুজ অসম্ভব ভালো লাগে ওর। কিছুতেই রাজি করাতে পারেনি প্রথমে। না না মনপ্রাণ খুলে শ্বাসই নিতে পারবোনা তোমাদের বদ্ধ কলকাতায়,আমি কিছুতেই এই সবুজের আঁচল ছেড়ে যাবোনা।
        আমার মন খারাপ হলেই আমি লাল ওড়না উড়িয়ে আমার ছোট্ট স্কুটি চালিয়ে সোজা সবুজের কাছে গিয়ে চুপটি করে বসে থাকি। এখানকার গাছপালাগুলোর সাথে কবে যে বন্ধুত্ব হয়ে গেছে জানিনা। ওদের ছাড়া থাকা ইমপসিবল। জানো আমি ঘুম থেকে চোখ খুলেই আগে সবুজ দেখি। আর আমার বাগানের কি হবে শুনি? মা তো যত্নই নেবেনা।"
              তবুও প্রেমের বাঁধন বোধহয় ক্ষীণ করে সব বন্ধনকেই। অভিমন‍্যু জিতলো আর হারলো মহুয়া। চা গাছগুলোর নরম পাতায় হাতবুলিয়ে আদর করে আর জঙ্গলকে হাত নেড়ে চোখের জল মুছে গাছকৌটো হাতে মহুয়া পা রেখেছিলো শ্বশুরবাড়িতে। ফুলশয‍্যার পরদিন ভোরবেলা উঠে বলেছিলো," ইশ্ জানলা খুলেই একদিকে রাস্তা আর আরেকদিকে আরেকটা বাড়ি কোন গাছ নেই কেন?".."নিজেরা কোথায় থাকবো ঠিক নেই,ঘর থেকে সবুজ দেখবে কোথায়?পাশে একটা পার্ক আছে সেখানে নিয়ে যাবো তোমায়।"
                  তাতেও ভাঙেনি সুন্দরী বৌয়ের অভিমান তাই প্রমিস করতেই হয়েছিলো যখনই মন খারাপ হবে ম‍্যাডামের একটু হলেও ছোঁয়া দিতে হবে সবুজের আঁচল। তাই সময় পেলেই অভি মহুয়াকে নিয়ে চলে যায় লঙ ড্রাইভে বা বাইরে বেড়াতে। এই নিয়ে রাগ করে ওর মাও," কি যে গাছপাগলী বৌ আনলাম ঘরে বাবা কে জানে,বারান্দাতে কিছু রাখার উপায় নেই,একটা কাপড় শুকোনোর উপায় নেই,যেদিনই বেরোচ্ছে একটা করে গাছ এনে হাজির করছে।"
                  "মা ছাড়োনা,ভালোই তো সেজেছে তোমার বারান্দা,পাশের কাকিমাও তো বলছিলো বেশ লাগছে।"
     " হ‍্যাঁ সকাল থেকে নতুনবৌ বারান্দায় গাছেদের জল দিচ্ছে আদর করছে। আর আমাদের চা টা সব আমাকেই করতে হয়।"
          মাঝে মাঝে সত‍্যি বিরক্ত লাগে অভির,মাকে সামলায় না বৌকে। সত‍্যি মায়েরই বা এত অশান্তি কেন,আর মহুয়াও যেন একটু বেশিই সবুজ সবুজ করে। আবার কিছু বললে অবুঝ হয়ে আদর করা বন্ধ,বৌয়ের মুখ ভার,মন খারাপ। নতুন বৌয়েরা শপিং করছে,রেস্তোরাঁয় খাচ্ছে আর এই মেয়ে গঙ্গার ধারে একটুকরো সবুজ পেলেই খুশি। তবুও মহুয়া বাড়িতে রঙ ধরিয়েছে,ওর বারান্দার ছোট টবগুলোতে সবুজ লাল,নীল,গোলাপি,আর হলুদের উঁকিঝুঁকি।
                      মাঝে যখন দুসপ্তাহের লম্বাছুটিতে মালবাজারে যখন চলে গেলো বারবার করে শাশুড়িমাকে বলে গেলো," মা আমি জানি তুমি আমার গাছগুলো নিয়ে বিরক্ত। তবুও একটু জল দিয়ো মনে করে। ওর ওপরে ভরসা করা যায়না।"
       " সংসারের রাজ‍্যের কাজ তার ওপর হাঁটুব‍্যাথা জানিনা কতটা পারবো। যমুনাকে বলে যাও। তখনই বলেছিলাম এত ঝামেলা বাড়িওনা সব আমার ঘাড়ে চাপবে জানিতো।"
               মনটা সত‍্যিই খারাপ হয়ে যায় মহুয়ার অভিমান করেই বলে," আচ্ছা থাক,অসুবিধে হলে কোরনা।" শ্বশুরমশাই অগত‍্যা সমাধান করেন," সত‍্যি বাবা ছোটখাটো জিনিস নিয়ে পারো তোমরা ঝামেলা করতে। আমি দিয়ে দেবো জল।"
                     মহুয়া যাবার পর যমুনার সাথে প্রায়ই ঝামেলা লাগতো ওর শাশুড়ি মালার। " সত‍্যি তোর ওপর ভরসা করা যায়না, মেয়েটা এসে বলবে আমরা গাছগুলোকে বাঁচতে দিলাম না।"
         মালা আর সুনীলের সাথে কদিনেই কেমন যেন বন্ধন হয়ে গেল গাছগুলোর। সকালে চায়ের কাপটা নিয়ে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গাছগুলো দেখতে ভালোই লাগে আজকাল।
       মহুয়া কদিন বাপেরবাড়ি থেকে এসে একটু মুখটা গোমড়া করেই ঢোকে,কেন যেন শিয়ালদা স্টেশনটা এলেই মন খারাপ হয়ে যায়। মালা ব‍্যাপারটা বোঝে কিছু বলেনা। প্রথমে ঢুকেই বারান্দায় গিয়ে মনটা একটু ভালো হয়, গাছগুলোতে অনেক ফুল ফুটেছে। "এই যে ঠিক আছে তো সব? আমিই জল দিয়েছি।"
       এরপর আর মুখ গোমড়া রাখা যায়না," আমি জানিতো তুমি যতই বলো তুমিই দেবে।"
   " আমি সার দিলাম সেবেলা কিছু নয়। সত‍্যি সবসময় নিজে সুনাম নেবে।"
"আচ্ছা বাবা দুজনেই প্রচুর আদর করেছো ওদের বোঝাই যাচ্ছে । আর কি এবার ছাদে একটা ছোট বাগান করবো। দারুণ হবে তাইনা?"
      গালে হাত দিয়ে বসে মালা,প্রশ্রয় দিলেই মাথায় ওঠে আজকালকার মেয়েরা। ঐ নড়বড়ে পুরোনো ছাদ তো টবের ভারে আরও ড‍্যাম্প হয়ে হয়ত বসেই যাবে। " আর দরকার নেই,এবার কিন্তু আমার রাগ হচ্ছে।"
      চুপ করে যায় মহুয়া,খুব মনে পড়ছে মা বাবার কথা আর মালবাজারের কথা। কত গাছ ওখানে!
                        রাতেই বৌয়ের মনখারাপ ভাঙাতে চেষ্টা করে অভি,দুসপ্তাহের বিরহের পর যদি গোমড়ামুখ দেখে কার ভালো লাগে! আর ঐ মানভঞ্জন করতেই জঙ্গল বেড়ানোর প্ল‍্যান হয়ে গেলো। নতুনভাবে আ্যনিভার্সারি সেলিব্রেশন,আদরে বরের বুকে মাথা রাখে মহুয়া।
"মা কিন্তু খুব রাগ করবে,এই প্ল‍্যান শুনলে। আমি কিন্তু পারবোনা বলতে।"
           মাকে বোঝাতে গিয়েই প্রচুর বকা খেলো অভি,মহুয়া তখন চুপ করে বসে। বুদ্ধিমতী মেয়ে মহুয়া এটুকু জানে মা ছেলের মাঝে কিছু কথা আর মান অভিমান থাকে যেখানে ওর না আসাই ভালো।
          শেষপর্যন্ত আ্যনিভার্সারির দিন এসে পৌঁছবে এমন প্রমিস করে ছাড়া পেলো।
                    সবুজের মাঝে ছোট্ট কটেজে শুধুই নিস্তব্ধতা তারমাঝে সারাদিন কতশত নাম না জানা পাখির ডাক আর প্রজাপতির আনাগোণার মাঝে শুধু দুজন একদম দুজনের কাছাকাছি। সম্পর্কের তারগুলো আবার বাজলো সুরেলা আওয়াজে। মন ভালো হয়ে গেলো মহুয়ার। কতদিন বাদে আবার প্রজাপতির পাখার ছোঁয়া আর ময়ূরের ডাক। কখনও একঝাঁক হরিণের ছুটে যাওয়া। ক‍্যামেরা বন্দী হলো কত রঙীন সবুজ ছবি। মালাও দেখলো কলকাতায় বসে হোয়াটসআ্যপে,তার সাথে ধমকালো একদম ভরপুর মনভালো নিয়ে যেন ফিরে আসে। প্রতিবারের মত গোমড়ামুখ নিয়ে নয়।
                      এবার ফ্লাইটে ফেরা,উফ্ ফিরেই আবার ব‍্যস্ততা। কে জানে মা কি ব‍্যবস্থা করেছে যদিও বলেছিলো খাবার আনিয়ে নিতে।
            বাড়িতে ঢুকতেই মহুয়া শুনলো," অনেক আনন্দ করেছো একা একা এবার আমাদের দিকেও একটু তাকাও।"
       আশ্চর্য হয় মহুয়া,একটু রাগও হয় এ আবার কি ধরনের কথা!
             সুনীল এসে মালার হাতে প‍্যাকেটটা দেয়,মহুয়া প্রণাম করে ওদের দুজনকে।"বিকেলে এগুলো পরে নিয়ো,দেখো পছন্দ হয়েছে কিনা?"
                 গাঢ় সবুজ শাড়িতে লাল জড়ির পাড় তার সাথে সোনার চেনে প্রবালের লকেট আর কানের দুল। সবুজ আর নীল পছন্দের রঙ মহুয়ার তবে অভি বলে ওকে লাল বেশি মানায়। শাড়িটা পরে মহুয়া,মাঝে মালা এসে দেখে যায়। বাবা শাশুড়িমাও বেশ সেজেছে,অবশ‍্য উনি ছবি তুলতে বেশ উৎসাহিত।হবেই না কেন ফেসবুক করে তো।
                 " চলো ছাদে যাই কয়েকটা ছবি তুলি ওখানে,ঘরে ছবি ভালো ওঠেনা।
              অনেকদিন বাদে একসাথে চারজনের ছাদে ওঠা। ছাদে উঠে অবাক হয়ে যায় মহুয়া,ছাদের ওপরটা কি সুন্দর করে সাজানো আর চেয়ার পাতা। "ঐ পাশটায় কি সুন্দর মা!"
হঠাৎই মহুয়ার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে শব্দগুলো,চোখটা আটকে যায় ছোট্ট একটা কোণে একদম সাজানো ছাদের বাগান দেখে। সাতদিনে কখন হলো এতকিছু?
          হঠাৎই পেছন থেকে হ‍্যাপি আ্যনিভার্সারি আর হাততালিতে চমকে তাকায় মহুয়া,ওর বাবা মা ,সেজকা,কাম্মা,আর পিমি তার সাথে এবাড়ির আরও কয়েকজন। এত খুশি একসাথে ভাবতেই পারেনা। ছুটে যায় মহুয়া মায়ের কাছে।
                  অভির বন্ধুরাও এসে পড়েছে,কিন্তু সবার হাতে ছোট ছোট টবে শুধুই নানান সুন্দর গাছ। এমন আ্যনিভার্সারিও হয়!
     .." আরে বিয়ের আনন্দের আর চাপের তালে মনেই ছিলোনা ৫ইজুন বিশ্বপরিবেশ দিবসে বিয়েটা করে ফেলেছিলাম। তাই আজ একটু অন‍্য ফ্লেভারে হয়ে যাক আ্যনিভার্সারি। যদিও ছাদের বাগানের পুরো প্ল্যানটাই মায়ের,আমি একটু আ্যড অন করে দিয়েছি।"
               মহুয়ার খোলা আকাশটা আজ কখন যে বন্দি হয়েছে অভিমন‍্যু চ‍্যাটার্জীর প্রেমের ফাঁদে বুঝতেই পারেনি।
    ছাদে সবুজের প্রসারতা আরও বাড়ালো সবার আনা উপহারের ছোট্ট টবগুলো। আড্ডা আর হৈ চৈয়ের মাঝে সবাই তখন হরিয়ালি কাবাবে কামড় বসাতে ব‍্যস্ত।copyright protected@ইচ্ছেখেয়ালে শ্রী
ভালো লাগলে লেখিকার নামসহ শেয়ার করুন।

সমাপ্ত:-
                 

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...

জন্মে জন্মে

চাকরির বদলি নিয়ে এক নির্জন জায়গাতে গেছেন একজন। জায়গাটা নির্জন তাই বৌকে নিয়ে যেতে পারেননি। তারপর বদলি হয়েছেন বিজয় নগরে। এখানকার মিউজিয়াম দেখাশোনার দায়িত্ব তার ওপরে।     এবার ঠিক করেছেন কুসুমকে নিয়ে আসবেন এখানে। মায়ের কাছে শুনেছেন কুসুম খুব মন মরা। কুসুমকে বিজয়নগরে আনার পরই সে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। জায়গাটা তার ভীষণ পছন্দের। তার বায়নাতে ছুটি পেলেই সুরজ সিংকে ঘুরিয়ে দেখাতে হয় জায়গাটা।    কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা। কুসুমকে পাওয়া যায় না। বিজয়নগরের শুকনো চান ঘরে কলকলিয়ে ঢোকে জল। আর সেই জলে ভাসে কুসুম।     অবাক হয় সুরজ ওর সাথে কে? কেয়ারটেকার ছেলেটাকে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে।