Skip to main content

বুদ্ধিমন্ত

বুদ্ধিমন্ত#
রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী#
দুধে আলতায় পা ডুবিয়ে,আলতামাখা লাল টুকটুকে পা দুটো ফেলে আনন্দী। উলু দেয় সবাই,হাসি আর খুশিতে বাড়িটা ভরে ওঠে,আরে বিয়েবাড়ি বলে কথা। এইটুকু আনন্দ না থাকলে জমে নাকি? যদিও এই বাড়িতে এর আগে দু একদিন এসেছে প্রণয়ের সাথে আলাপ হওয়ার পরে। ভালো লেগেছিলো এই বাড়ির মানুষগুলোকে,সবাই যেন সবার সাথে জড়িয়ে আছে ভালোবাসার বন্ধনে।
     " এদিকে এসো বৌমা,চলো আম্মাকে প্রণাম করতে হবে।" হাতটা ধরেন ওর শাশুড়িমা। প্রণয়ের আম্মা,এখন হাঁটতে পারেননা হুইলচেয়ারে বসে থাকেন।
    আনন্দী প্রণাম করলে ওর গালদুটোতে আলতো আদর করে কপালে চুমু দিয়ে আম্মা বলেন," জন্ম এয়োস্ত্রী হও,শতপুত্রের জননী হও।"
  "আম্মা শতপুত্র! কোথায় থাকবে গো?"
হেসে ফেলে সবাই প্রণয়ের কথা শুনে।
" আম্মা আশীর্বাদ করো একটা পুত্র বা কন‍্যা যাই হোকনা কেন তোমার মত আদর আর সম্মান পাই। আমার পুত্র যেন মা,স্ত্রী বা যে কোন নারীকে সম্মান করতে শেখে।"
    " দেখেছো নাতবৌ আমার শুধু লক্ষ্মীমন্তই নয়,বুদ্ধিমন্তও বটে।"

শহরের মুখ ঢাকলো হোর্ডিংয়ে
কোথাও হচ্ছে সাবেকি বা থিমপূজা।
প্রকৃতি মেখেছে শিউলির গন্ধ,
আসছেন মা দশভুজা।

দুগ্গা তুমি মা জননী
নৌকায় কেন আসবে শুনি?
ময়ূরপঙ্খী সোনার বজরা
পাঠালাম তোমার তরে।
মাগো এবারকার মত
নদীপথে এসো মোদের ঘরে।
মায়ের পাশে সিংহমামা
চুপটি করে বসে।
একমনে মা পূজাপ্ল‍্যানিং
করছেন নিরিবিলিতে এসে।
কার্তিকঠাকুর ক‍্যামেরা নিয়ে
উঠে এসেছেন ছাদে, কিন্তু
ভীষণ ব‍্যাস্ত এখন সেল্ফিতে
নানান পোজ দিতে।
ময়ূর বেচারা উদাস মনে
আকাশে মেঘের প্রহর গোনে।
গণেশদাদা ভীষণ বাধ্য
মায়ের আদরের ছেলে,
উঁকি দিয়ে বাইরে দেখছেন
লাড্ডু খাওয়া ফেলে।
হংসরাজের বেজায় মজা
দিন কাটছে সুখে।
মনের সুখে কাটছে সাঁতার
গঙ্গানদীর বুকে।
সরস্বতী, লক্ষ্মী দুইবোন
বজরার সামনে বসি,
আনমনা হয়ে তাকিয়ে আছেন
মনে ধরেনা খুশী।
মামার বাড়ী কখন যাবে?
হাতে সময় নেই যে বেশি।
"শুনছো মাঝি,কোথায় তুমি?
সবাইকে দাও বলে---
রওনা আমরা দিয়ে দিয়েছি
পৌঁছে গেলুম বলে।"

----সবাইকে জানাই শুভ মহালয়ার শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
                #রুমাশ্রী#

      #বং_নাকে_পূজোর_গন্ধ
#রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী

কাল তনুকার মেসেজটা দেখে হেসে ফেলে ঝিমলি কি মিষ্টি একটা নাক, নাকটা উঁচু করে গন্ধ নিচ্ছে। কি গন্ধ নিচ্ছে? পূজো পূজো গন্ধ যে গন্ধ নাকি স্পেশালি বংরা পায়। সত‍্যি তো বর্ষা কাল পেরোতেই বংদের টিকোলো নাকে, বোঁচা নাকে আসতে থাকে পূজোর গন্ধ। ঝিমলির পূজো পূজো অনেক দিন শুরু হয়ে গেছে ফেসবুক আর হোয়াট্স আ্যপে। তনুকা ঝিমলির প্রাণের বন্ধু এখন দিল্লীতে, বেশ কিছুদিন আগে গেছে পোষ্ট ডক করতে। দিল্লীতে থাকলেও বং ললনা তনুকা নাক উঁচু করে কলকাতার পূজোর গন্ধে গন্ধে একদম হাজির কলকাতায়।

আজকাল কি সুন্দর সুন্দ‍র ইমেজ পাঠায় বন্ধুরা , কখনও মা ছানাপোনা কোলে নিয়ে নৌকোয় পাড়ি দিয়েছেন, কখনও বা মায়ের মুখের নীচে ছড়ানো শিউলি ফুল। বেশ ভালো লাগে সকালে উঠে কাশফুল আর শিউলিফুলের মাঝে মাকে দেখতে। মায়ের সাথে যতই শপিং করুক ঝিমলি তবুও পূজোর আগে হাতিবাগান, গড়িয়াহাট আর দক্ষিণাপনে বন্ধুদের সাথে না ঘুরে ঘুরে বেড়ালে পূজোর শপিংটা ঠিকঠাক হয়না বলতে গেলে গন্ধটা ঠিক জমেনা। তারপর তনুকা এসেছে ঝিমলিকে পায় কে?
আজ সকালেই তনুকার মেসেজ, 'এই ঝিমলি কাল তো মহালয়া বেরোবি নাকি ভোরবেলা?' 'কেন রে ?' জিজ্ঞেস করে ঝিমলি? 'আরে চলনা তোর বং নাকে একটু স্পেশাল পূজোর গন্ধের ছোঁয়া দেবো। আন্টির পারমিশানটা একটু নিয়ে রাখিস প্লিজ।'

পরদিন ভোরবেলা ঝিমলি একদম তৈরি, না হয়ে উপায় আছে? ভোর চারটে থেকে জ্বালাচ্ছে তনুকাটা, টেক্সটের পর টেক্সট। সাদা ধবধবে চিকনের কুর্তি আর নক্সিকাঁথার লাল ওড়নায় স্নিগ্ধ লাগছে ঝিমলিকে। ভোর পাঁচটায় ঠিক হাজির তনুকা ওর ব্লু ইঅন ড্রাইভ করে, ব‍্যাস আর কি ঝিমলি মাকে আর বাবাকে আদর করে বসে পড়ে তনুকার পাশের সীটে, সুধা বলতে থাকেন, 'শোন তনু সাবধানে ড্রাইভ করবি বুঝেছিস আর কিছু স‍্যান্ডউইচ আর মিষ্টি দিয়ে দিয়েছি খেয়ে নিস কিন্তু।' তনুকা গাড়ীতে স্টার্ট দেয় , 'বাইইই আন্টি।' 'আরে বলেতো যা কোথায় যাচ্ছিস।' 'পূজোর গন্ধ নিতেএএএ।' সুধা হেসে ফেলেন।

এফ এম অন করে দেয় তনু তখনও একটা চ‍্যানেলে মহালয়া হচ্ছিলো। সত‍্যি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গলায় চন্ডীপাঠ  শুনে মা ও বোধহয় মর্ত‍্যে না এসে পারেন না। এত ভোরে এমন করে কলকাতাকে অনেকদিন দেখেনি ঝিমলি। রাস্তায় আজ লোকজনের বেশ আনাগোনা, অনেক ভোর থেকেই আজ গঙ্গার ঘাটে ভীড়। পিতৃপক্ষের অবসানে আর দেবীপক্ষের শুরুতে আজ যে পিতৃপুরুষকে জল দেবার দিন। ঝিমলির বাবাও তো আজ যাবেন গঙ্গায়।

আরে ঐ তো ঠাকুর যাচ্ছে , কিন্তু মুখটা ঢাকা। ওমা মায়ের সাথে গণেশ ,লক্ষী,কার্তিক,সরস্বতী সবাই যাচ্ছে তবে ওরা পেছনের গাড়ীতে। কি সুন্দর লাগছে। ঝিমলি আনন্দে বলে ওঠে,'ঐ দ‍্যাখ তনু আরেকটা ঠাকুর, সিংহটা কত্ত বড়। হা হা অসুরটা ভয়ে সিঁটিয়ে গেছে, দ‍্যাখ দ‍্যাখ।'
লুকিং গ্লাসে চোখ রাখে তনুকা, হেসে বলে সত‍্যি তো। ঐ দ‍্যাখ দেশপ্রিয় পার্কের প‍্যান্ডেল, ওদের এবার কি থিম জানিস? জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দেয় ঝিমলি দেখার চেষ্টা করে প‍্যান্ডেলটা। বকুনি দেয় তনুকা,' এই যে বং সুন্দরী ,পূজোর গন্ধ নিতে গিয়ে নাকটাই যদি কাটা যায় তবে আর কি দিয়ে গন্ধ নিবি শুনি?' হাসতে হাসতে  বাড়ানো মুখটাকে গাড়ীর ভেতরে করে ঝিমলি।

খুব স্মার্ট লাগছে তনুকা কে আজ আকাশী নীল টপ আর ব্লু জিন্সে। ঝিমলি নাক উঁচু করে আজ ভোরের শিউলির গন্ধ নিচ্ছে আর বক বক করেই যাচ্ছে। ঐ দ‍্যাখ তনু রাস্তার ওপরের প‍্যান্ডেলটা কি কিউট! ওমা এখানে ঠাকুরও এসে গেছে। তনুকা হাসতে হাসতে বলে ,' ও বঙ্গললনা তোমার বকবকুম থামাও দেবী, আমায় আর জ্বালাসনে এবার গাড়ী গিয়ে প‍্যান্ডেলে ধাক্কা দেবে।' হাসতে থাকে ঝিমলি,ইস এই তোর পাকা হাত?

ঢাকুরিয়া ব্রীজে ওঠার মুখে একটু সাইড করে গাড়ীটা তনু,মুখ বাড়িয়ে বলে উঠে আয়, একদম পারফেক্ট টাইমে এসে গেছি বল। ঝিমলি অবাক হয়ে তাকায় ,তনুকা বলে, 'রুদ্র ,আমার সাথেই রিসার্চ করে জে এন ইউ তে। আর রুদ্র, এই হচ্ছে আমার বক বকুম বং সুন্দরী সখী ঝিমলি। রুদ্রকে তুলে নিয়ে এবার স্পীড বাড়ায় তনু। ভোরের মিস্টি গন্ধ আর পূজো পূজো আমেজে চোখ বুজে আসে ঝিমলির, হঠাৎই চমক ভাঙে হাইওয়ে ছাড়িয়ে গাড়ী ঢুকছে গ্ৰামের মধ‍্যে, কি সুন্দ‍র সবুজে সবুজ চারিদিক!ভোরের সূর্যের আলোয় স্নান করে প্রকৃতি যেন সেজে উঠেছে মা উমার আগমনের প্রতীক্ষায়।

-আমরা কোথায় যাচ্ছি রে?
-ধৈর্য্য  সখী, এক্ষুনি দেখতে পাবি। গ্ৰামের পথ ধরে গাড়ী এসে পৌঁছয় রূপনারায়ণের ধারে রূপনারায়ণপুরে, রুদ্রই এই রাস্তাটুকু ড্রাইভ করে নিয়ে এলো। নদীর ধারে কাশফুল দেখে ছুট লাগায় ঝিমলি গাড়ী থেকে নেমে।ইশ্ কি সুন্দর লাগছে! হাত দিয়ে একটু ছুঁয়েই শরতের হিমের পরশ পায় কাশফুলের গায়ে। ওর পাগলামি দেখে তনুকা হেসে ফেলে, সত‍্যি ঝিমলিটা এখনও ফুলের মত সুন্দর আর ছেলেমানুষ।

ঝিমলির হাত ধরে হাঁটতে থাকে তনু পাশে রুদ্র,মাধবীলতায় মোড়ানো একটা গেটের সামনে দাঁড়ায় ওরা,ভেতরে অনেকটা বাগান পেরিয়ে কি সুন্দ‍র একটা টিনের চালার বাড়ী, এমন বাড়ী দেউলটিতে দেখেছিলো ঝিমলি কথাসাহিত‍্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ‍্যায় এর বাড়ী। ওরা বাগান পেরোতেই শুনতে পায় দরাজ গলার ডাক, "এসো এসো দাদুভাই", কইগো দেবী এদিকে এসো দাদুভাই যে সঙ্গে করে কাশফুল আর শিউলিফুল ও এনেছে, দেখে যাও।

এগিয়ে যায় রুদ্র তার সাথে ওরাও, রুদ্র বলে আমার দিম্মা আর দাদুভাই। প্রণাম করে ওরা সবাই। দিম্মার হাতের সাজিতে ভরা শিউলি আর স্থলপদ্ম। ঝিমলি আর পারেনা বলে ওঠে,'ও দিম্মা আমিও কুড়োবো শিউলি'। হেসে ফেলেন দাদু আর দিম্মা,'যা না দিদিভাই এখনও কত ফুল গাছতলায়।'
তনুকা আর ঝিমলি ছুটে যায় বাগানে,রুদ্র গল্প করতে বসে দাদুভাই এর সাথে। শিউলি কুড়িয়ে গন্ধ নিতে নিতে বং নাকে পুরোপুরি আসে মিষ্টি মিষ্টি পূজোর গন্ধ। স্থলপদ্মের গাছের কাছে এসে থমকে দাঁড়ায় ওরা, ওমা! কি সুন্দর দূর্গার কাঠামো একচালাতে, প্রায় তৈরী হয়ে এসেছে। চোখ জুড়িয়ে যায় ওদের। দৌড়ে এসে বলে,'ও দিম্মা তোমরা দূর্গা পূজো করো নাকি? দিম্মা হেসে বলে ওই মা দূগ্গা তো আমার বানানো রে। কৃষ্ণনগরে পাল পাড়ায় ছিলো আমার বাপের বাড়ী। ছোট্ট থেকেই ঠাকুর বানাই আমি, না বানিয়ে পারিনারে দিদি। এত কিছু একা কি করে করো দিম্মা? একা কোথায় রে মা দূগ্গা আমায় হাজার হাত দিয়েছে রে। রুদ্র হাসে তনু আর ঝিমলির অবাক মুখ দুটো দেখে।
সত‍্যিই তাই বেলা বাড়তে বাড়তে দিদার হাজার হাতেরা আসতে লাগলো, দিদা গ্ৰামের মেয়েদের স্বনির্ভর হতে শেখান। কেউ বা দেয় গয়না বড়ী , কেউ তোলে কাপড়ে নক্সা আবার কেউ বানায় জ‍্যাম, জেলি আর আচার। দাদু বাচ্ছাদের পড়ান, হাতের কাজ আঁকা শেখান। ওরা গাছ লাগায়, ফুল ফোটায় আপনমনে।

শ্রদ্ধা ভালবাসায় মাথা নুয়ে যায় ওদের। জীবন এত সুন্দর! এখানে না এলে তা হয়ত জানা হোতনা। ওদের জলখাবার, মিষ্টি দিয়ে দিদা বসেন দেবীর চক্ষুদান করতে নিরিবিলিতে। রূপনারায়ণের স্বচ্ছ জলে ঘট ভরে দেবীর সামনে স্থাপন করলেন। আজ ঝিমলিরাও দেখলো দেবীর মৃণ্ময়ী থেকে চিণ্ময়ী হয়ে ওঠা। এত মিষ্টি আমেজ বোধহয় কোন দিন পায়নি আগে।

দুপুরে খেতে বসে তনুকা বলে ওঠে দিম্মা এত কিছু!
আজ নিরামিষ দিদিভাই , তোমাদের দাদুভাই তর্পণ করে নিরামিষ খান।সরু চালের ভাত, সোনামুগের ডাল,শাক,শুক্তো,পাঁচরকমের ভাজা, গয়না বড়ি,মোচাঘন্ট, ধোকার ডালনা,চাটনি , পাপড়,পুষ্পান্ন,পরমান্ন অপূর্ব সব নিরামিষ পদ।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন রূপনারায়ণের বুকে অস্ত যায় যায় তনুকা আর ঝিমলি তখন দিম্মা আর দাদুভাইকে প্রণাম করে বলে , 'আসি আমরা'। রুদ্র পূজোর কয়েকটা দিন দাদুভাইয়ের কাছেই থাকবে। দিম্মা আর দাদুভাই বলেন এসো কাশফুল আর শিউলিফুল। নবমীর দিন তোমাদের পথ চেয়ে থাকবো, বাড়ীর সবাইকে নিয়ে এসো।

ওরা এগিয়ে যায় গাড়ীর দিকে পেছনে হাত নাড়তে থাকে দাদু, দিম্মা, রুদ্র আর দিম্মার মেয়েরা । গাড়ীতে তনু বলে বং সুন্দরী কেমন লাগলো পূজোর গন্ধ? ঝিমলি বলে মন প্রাণ জুড়িয়ে গেলো রে, সারাজীবন হয়ত এই গন্ধটা ভরিয়ে রাখবে আমাকে। Love uuuuuu my bestie😊

-সমাপ্ত-

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...
সালটা দুহাজার এগারো,মেয়েটা তখন বেশ ছোট,ছেলেটা সে বছরেই কলেজে ঢুকেছে। আর আমার মেয়ের কথায় আমরা তখন খুব গরীব ছিলাম। তবে সে আরও বলে তখন আমাদের মুঠোতে সুখ ছিল,আমরা তখন বেঁধে বেঁধে ছিলাম। ডাইনিং স্পেশে পাতা পুরোনো সোফাটায় আমি বসে শনিবার রাতে ডিডি ন‍্যাশনালে সিনেমা দেখতাম আর বুধবারে দেখতাম চিত্রহার। কখনও ওরাও এসে বসত আমার কোলে পিঠে,একসাথে বসে আমাদের চলত কত কথা আর ওদের দুই ভাইবোনের খুনশুটি। কখনও বা ঝগড়া আর মারামারিও হত,ধুপধাপ তাল পড়ত পিঠে। ওদের বাবা অফিস থেকে এলে দুজনেই উৎসুক হয়ে তাকাতো বাবার হাতের দিকে,তারপর পড়ার মাঝে জুটত ব্রেক বাবার আসার উপলক্ষে চপ,বেগুনী আর চুরমুর সেলিব্রেশনে। আমাদের হাতে তখন ফোন এলেও মুঠোতে বিশ্ব ছিল না,ছিল না ফেসবুক পাড়ায় যখন তখন ভ্রমণ। আমরা একই ছাদের তলায় বাস করেও আলাদা ছিলাম না,আমাদের অনলাইন শপিং ছিল না তখন তাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে শপিং করে কিছু খেয়ে ফেরার দিনগুলো খুব আনন্দের ছিল। ছেলের দীর্ঘ পরীক্ষার সমাপ্তির পর আমরা চলে গিয়েছিলাম তালসারিতে। গত দুদিন ধরে তালসারির কথা এত পড়ছি যে আজ হঠাৎই মনে হল আমরাও তো গেছিলাম তালসারিতে। ছবিগুলো অ্যালবাম করে রাখা ছিল বলে পেলাম। আমাদের মধ‍...