Skip to main content

সম্পর্কের পাঁচকাহন

#বন্ধনে_রেখো_রাখী#
#রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী#

         #সম্পর্কের_পাঁচকাহন#

                          (১)
"বোন দাঁড়া আমি আসছি বলছি। একা যাবিনা পড়তে।"..."তোর জন‍্য দিদি আমি আর বড় হবোনা কোনদিন,সবসময় শুধু নজরদারি। কোন ছেলে পর্যন্ত ঘেঁষেনা আমার কাছে তোর ভয়ে।"

     "না না আমার মস্তানদির কথা বলছি,চিরকাল পাহারা দিয়েছে এমন করে। এখন তো আমি চাকরি করছি আর কত সামলাবি শুনি?"

    "তোর এই প্রতিদিন দেরি করে আসা এবার বন্ধ কর,মা বাবাকে আর কত সামলাবো আমি?"

   ..."এই দি চোখটা বন্ধ করনা একটু,গলাটা জড়িয়ে ধরে ওর হাতে রাখীটা পরিয়ে দিতে দিতে মুখে চকোলেট আর আমার প্রথম মাইনেতে কেনা ঘড়িটা দিতে দিতে বললাম," হ‍্যাপি রক্ষাবন্ধন দি। মানে আমার রক্ষাকর্তা। ভাইবোন,দি সবই তো তুই।....চোখের কোণটা আনন্দে চিকচিক করে উঠলো দির," পাগলী একটা ! কবে বড় হবি শুনি?"

***************************
                                (২)

"বাবা একটা রাখী এনে দিয়োনা গো।"...."কাকে পরাবি শুনি? তোর তো ভাই নেই।"...ছোট্ট মিমির বায়নাতে আনতেই হয়েছিলো রাখী বাবাকে তার সাথে একটা পুচকে ডেয়ারী মিল্কের প‍্যাকেটও। খুব ভাইয়ের বায়না ছিলো মিমির তবে ওর মা জানতো অপারেশনের পর আর ভাইবোন কেউই আসবেনা ওর তাই গোপালঠাকুরকে দেখিয়ে বলেছিলো," ঐ তো তোর ভাই"। তারপরে আর বলতে হয়নি কিছু কোনদিন শুধু বায়না মেটাতে হয়েছে।

   মাঝে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর মিমি এখন পাকা গিন্নী। রিয়ম হাঁক মারে,"এই যে মহারাণী তোমার ভাইয়ের জন‍্য রাখী গিফ্ট সব এসে গেছে। এমন শালাবাবু জন্মেও দেখিনি,দিদির পেছন পেছন এক্কেবারে দিদির শ্বশুরবাড়ি এসে হাজির হয়।"...." এই যে আমার ভাইকে নিয়ে একটাও বাজে কথা নয়।"...হেসে ফেলে রিয়ম," হ‍্যাঁ ওনাকে ঘুষ দিয়েই তো দিদিকে কাছে পেতে হয়।"

*******************
                                 (৩)

মা বাঁদরটা কই শুনি? অফিস থেকে তাড়াতাড়ি এলাম ওর জন‍্য আর এখনো আসেনি!"...."আজও তুমি ওকে বাঁদর বলে ডাকবে বৌমা,আমার ছেলেটাকে আদর দিয়ে বাঁদর তো তুমিই বানিয়েছো।...." তাই নাকি মা? আগে ল‍্যাজটা যা বড় ছিলো এখন অনেক ছোট হয়েছে।"

  বিয়ের দিনই আব্দার রেখেছিলো ওর একমাত্র ছোট দেওর..." এই যে আমি অত বৌদি টৌদি বলতে পারবোনা। মধুরাদি বলবো না না শুধু দিদি বলবো। অনেকদিনের শখ।"..."তাহলে তো কানমলাও খেতে হবে মাঝে মাঝে।"..."ও আমার অভ‍্যেস আছে।"

    বরের থেকে দশ বছরের ছোট ভাইটাকে কখন যে অপত‍্যস্নেহে ভালোবেসেছিলো বুঝতেই পারেনি। সব বায়নাই করতো ওর কাছে।

....." বান্দা হাজির দিদি,আগে গিফ্ট দেখাও পছন্দ হলে হাত দেবো।"...." তবে রে! প্রত‍্যেকবার এক নাটক।"

   পেছন থেকে মধুরার হাতে গানের সিডি আর গল্পের বই ধরিয়ে দিয়ে বললো,"এই জন‍্যই একটু দেরি হয়ে গেলো।....দাও এবার তোমার রক্ষামন্ত্রপূত রাখী।"

সম্পর্কগুলো এমনি শক্তবন্ধনে থাক মিষ্টি রাখীর জন‍্য।

****************
                               (৪)

...."এমন পোড়াকপাল কারো আছে আমি তো জানিনা।কোথায় বেয়ানকে সাথে নিয়ে একটু ঠাট্টামশকরা করবো তা নয়তো সব গেলো জলে।"...ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন এক দেখাতেই পছন্দ করে খুব ভালো লেগেছিলো পরিবারটা। কিন্তু হঠাৎই বেয়াইমশাই চলে গেলেন। তারপর আর দেরি করেননি ছেলেকে বলে বেয়ানকে নিয়ে এসেছিলেন একদম নিজেদের বাড়ির একতলায়। " না না বাড়ির বৌমা সারাক্ষণ বাপের বাড়ির দিকে মন রেখে যদি মনখারাপ করে বসে থাকে তাহলে চলবে কি করে? তার থেকে এই বেশ ভালো একসাথে থাকবো তিনটে বুড়োবুড়ি।"....বেয়ান থেকে কখন যে চন্দ্রা ছোটবোন হয়ে গিয়েছিলো বুঝতেই পারেননি শংকর। " দাদা হাতটা দিন দেখি। আর এই মিষ্টিগুলো কিন্তু খেতেই হবে। আপনার পছন্দের নকুড়ের সন্দেশ।"....." গেলো গেলো সব গেলো ঠাট্টা করবো কোথায় তা নয়তো দাদা। সব আমার গিন্নীর চক্রান্ত সব বুঝি।"

......" দাদা ছাড়া আর কিছু যে ভাবতে পারিনা আপনাকে। শুধুই কি রক্তের সম্পর্কই সব?".....এ এক অন‍্য বন্ধন,যা যত্নে বেঁধে রেখেছে সম্পর্কগুলোকে।

*****************
                             (৫)

  "এই যে অনেকক্ষণ ধরে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি কলেজের সামনে তোর পরীক্ষা দিয়ে বেরোতে এতো দেরি হলো কেন শুনি?"..." তুমি কেনো এসেছো? দি কোথায়?আমি তোমার বাইকে যাবোনা। ছেলেরা পেছনে লাগবে।"..."মারবো টেনে এক থাপ্পড়,সেই নেড়ু কাল থেকে এতো বড় করলাম। ছেলেরা পেছনে লাগবে। তবেরে...আয় ফুচকা খাবি।"

    ছোটভাই আর বোনের জন‍্য কিছুতেই বিয়েতে মত দিচ্ছিলোনা উমা। বাবা নেই ওদের কে দেখবে? তারপর থেকেই নিজের ভাইবোনের মতই ওদের দায়িত্ব নিয়েছে প্রশান্ত। দেখতে দেখতে ওরাও বড় হয়ে গেলো।

......" এই শার্টটা শুধু তোমাকেই মানায় জামাইবাবু,কাঁচাপাকা চুলে নীল শার্ট দুর্দান্ত লাগবে। দেখি দেখি এবার হয়ে যাক একটা সেল্ফি।"

....."এদিকে জামাইবাবুও বলবি,আবার রাখীও পরাবি। কি যে করিস না!"

...."তুমি আমার টু ইন ওয়ান দাদা+জাম্বো। তাইতো তোমায় এতো ভালোবাসি। ভালো থেকো আমার মিষ্টি জামাইবাবু।"....হাসে উমা,সত‍্যিই প্রশান্তর তুলনা হয়না।

রাখীর লাল হলুদ সুতো যত্নে রেখো বাঁধনগুলো। আলগা হতে দিয়োনা।ইচ্ছেখেয়ালে শ্রী
সমাপ্ত:

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...

জন্মে জন্মে

চাকরির বদলি নিয়ে এক নির্জন জায়গাতে গেছেন একজন। জায়গাটা নির্জন তাই বৌকে নিয়ে যেতে পারেননি। তারপর বদলি হয়েছেন বিজয় নগরে। এখানকার মিউজিয়াম দেখাশোনার দায়িত্ব তার ওপরে।     এবার ঠিক করেছেন কুসুমকে নিয়ে আসবেন এখানে। মায়ের কাছে শুনেছেন কুসুম খুব মন মরা। কুসুমকে বিজয়নগরে আনার পরই সে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। জায়গাটা তার ভীষণ পছন্দের। তার বায়নাতে ছুটি পেলেই সুরজ সিংকে ঘুরিয়ে দেখাতে হয় জায়গাটা।    কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা। কুসুমকে পাওয়া যায় না। বিজয়নগরের শুকনো চান ঘরে কলকলিয়ে ঢোকে জল। আর সেই জলে ভাসে কুসুম।     অবাক হয় সুরজ ওর সাথে কে? কেয়ারটেকার ছেলেটাকে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে।