Skip to main content

মুক্ত করো ভয়

"হ‍্যাঁ মানে কতদিন আপনাদের শারীরিক সম্পর্ক নেই?

নাকি ছিলো এখানে বলছেন নেই।

তাহলে আপনার এই সন্তান যাকে আপনি আপনার নিজের ছেলে বলে খুব গলাবাজি করছেন তাকে কি মানে অভিজিতবাবুর সাহায‍্য ছাড়াই..নাকি অন‍্য কারো সাহায‍্যে এনেছেন?"

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কেমন যেন দম আটকে আসে পৌষালীর। উঃ আর যেন লড়তে পারছেনা, গলাটা পুরো শুকনো খটখটে।জিভ আড়ষ্ট হয়ে আসছে মুখের ভাষারা আজ যেন লজ্জাতে নির্বাক।

পান খাওয়া রঙছোপ লাগানো দাঁত বার করে ওদিকে একটা হাসি হেসে উকিলবাবু আবার শুরু করেন," কি পৌষালী দেবী কিছু বলুন? ডিভোর্স নেবেন, আপনি অত‍্যাচারিত, মোটা খোরপোষ দাবী করেছেন আর এতটুকু কথার কোন উত্তর দিতে পারছেননা? বলুন কতদিন আপনাদের শারীরিক সম্পর্ক নেই? আপনিই কি তাহলে শারীরিক ভাবে অক্ষম তা স্বীকার করছেন?"

কানে হাত চাপা দেয় পৌষালী,ওদিকে ওর উকিল তখন মৃদুস্বরে আপত্তি জানায় আপনি কিন্তু আমার মক্কেলকে অযথা হেনস্থা করছেন।

কোন ভারী হাতুড়ির শব্দ হয়না তাই পৌষালীকে বলতে হয়, "প্রথমদিকে দুএকদিন হয়েছিলো অনেক চেষ্টায় আর তাতেই আমার সন্তান আসে। তারপর শুধুই অত‍্যাচার করেছে আমার ওপর। ও বিকৃতকাম এক পুরুষ, নিজের শরীর সায় না দেওয়াতে সারারাত আমার ওপর অত‍্যাচার করতো। এক কথা আর কতবার বলবো?"

পৌষালী বুঝতে পারে শোয়ার ঘরের শোয়াশুয়ির গল্প খুব আনন্দ সহকারে উপভোগ করছে অনেকেই। অভিজিত তারমধ‍্যেই চিৎকার করে, " ওর আমার প্রতি কোন ভালোবাসাই ছিলোনা, সম্পর্ক হবেটা কি করে?"

জজের ধমকে আর উকিলের ইশারায় বসে পড়ে অভিজিত।

" আচ্ছা আপনি তো বলছেন অনেক অত‍্যাচার করতো,তা কি করতেন উনি? অভিজিত বাবুর পক্ষে যারা বললেন তারা তো সবাই বলছে ওনার মত মানুষ হয়না। তাহলে এবার আপনি বলুন কি অত‍্যাচার মানে কেমন অত‍্যাচার করতেন উনি?"

লজ্জায় কুকড়ে যায় পৌষালী কি করে দেখাবে ওর সারা বুকে আঁচড়ের দাগ আর ফোস্কার দাগ। পিঠ ভর্তি কামড়ের দাগ ভয়ে দরজা বন্ধ করেও রেহাই পায়নি অত‍্যাচার আরো বেড়েছে আরও যে কি করতো অভিজিৎ তা বলতে পারবেনা কিছুতেই বলতে পারবেনা। মুখে কিছুটা বলে চুপ করে যায় পৌষালীও জানে আড়ালে হলেও হয়ত ওকে কিছুটা দেখাতেও হবে।

একদল লোক কান পেতেছে মুখে কারো হাসি কারো বা রাগ। অভিজিত হাসছে সেই হাড়হিম করা হাসিটা ও জানে সব কথা কিছুতেই বলতে পারবেনা পৌষালী। আর প্রমাণও করতে পারবেনা।

দিনের পর দিন নির্দিষ্ট তারিখে কোর্টে আসে পৌষালী, প্রতিদিন কতরকমের লোক আর তাদের নানারকম ভাবে হেনস্থা,কুৎসিত ইঙ্গিত ওকে একলা মহিলা দেখে।

অত‍্যাচার সহ‍্য করতে না পেরে পালিয়েছিলো একদিন পৌষালী অভিজিতের নজর এড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিয়ে হাতে তখন কোন টাকা পয়সা তেমন নেই সেভাবেই আবার ফিরে এসেছিলো বিধবা মায়ের কাছে। এতদিন মুখ বুজে থেকেও শেষে মায়ের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলো। মা মাথায় হাত রেখে বলেছিলো," আমি বিধবা মানুষ একা থাকি,হয়ত তেমন কিছুই নেই তবুও তোকে আর ওখানে ফিরে যেতে হবেনা। তোকে মুক্ত হতেই হবে ঐ জানোয়ারটার কবল থেকে। কিছুতেই আমি ছাড়বোনা তোকে দেখি আসুক অভিজিত।"

অদ্ভুতভাবে মনে হয়েছিলো পৌষালীর সেদিন মায়ের হাতে যেন ত্রিশূল আর মা স্বয়ং দুর্গা। দিনের পর দিন অভিজিতের উৎপাত,পীড়ন ওদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন‍্য। প্রত‍্যেকদিন এক অভিশপ্ত অভিজ্ঞতা আর তারপর নিজেই ডিভোর্সের জন‍্য এগিয়ে যায় পৌষালী।মনে এক অদ্ভুত জেদ আর ফিরবেনা কিছুতেই অভিজিতের কাছে,ছেলেকেও ফেরত দেবেনা।

কিছুতেই যেন মীমাংসা হয়না কেসের,আর যেন পারেনা অসহনীয় হয়ে যায় জীবন পৌষালীর ততদিনে পাড়ায় এক লেডি ডাক্তারের চেম্বারে কাজ নিয়েছে পৌষালী। একদিন পেটে খুব যন্ত্রণা হওয়াতে বলেই ফেলে," দিদি আজ আমাকে একটু দেখে দেবেন। শরীরটা ভালো লাগছেনা কদিন ধরেই পেটে ব‍্যথা।

ডঃ অসীমা মুখোপাধ্যায় গাইনোকলজিস্ট বেশ নাম ডাক আছে ওনার। পৌষালী পেটের কাপড়টা আলগা করে সায়ার দড়ি ঢিলে করে।

উনি চমকে ওঠেন,পেটটা যেন কাটা দাগে ভর্তি কেউ যেন চামড়া ছিঁড়তে চেয়েছিলো পেটের।

" কি করে হলো এমন! উঃ তোমার বাথরুম ঠিকমত হয়তো? মানে কোন অসুবিধা হয়না তো?

দীর্ঘ অত‍্যাচারের চিহ্ন বহন করছে এখনো ওর শরীর,পেট আর গোপনঅঙ্গ নীরবে। এই অত‍্যাচারের কথা যে কিছুতেই সরবে বলতে পারেনা কোর্টে গিয়ে পৌষালী।তবে আজ সবটাই ডাক্তার ম‍্যাডামকে বললো।

" আমি দেখেই বুঝেছি,ইশ্ কত কষ্ট সহ‍্য করেছো! কিন্তু কেন? আর কতদিন সুখের ঘরের আশায় অসুখের সাথে ঘর করবে আমাদের দেশের মেয়েরা বলতে পারো?"

" দিদি তবুও ও আমাকে মুক্তি দিচ্ছেনা,সমানে শাসাচ্ছে,ছেলেকে তুলে নিয়ে যাবে বলছে। ডিভোর্স দেবেনা বলছে। সবাই জানে আমিই চরিত্রহীন। আমি আর পারছিনা দিদি। নিত‍্য কোর্টে একা যাতায়াত। মায়ের কাছে ছেলে পড়ে থাকে একলা। ভয়ে মরি সবসময়। আচ্ছা দিদি একেবারে মরে যাওয়া যায়না?"

" চোখের জলটাকে এভাবে নষ্ট কোরনা পৌষালী, মায়ের কথা ভাবো,ছেলের কথা ভাবো। আমার তো মনে হয় তুমিই অন‍্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছো প্রতিবাদ করোনি।"

কান্নাজড়ানো গলায় বলে পৌষালী," বাবা দেখে বিয়ে দিয়েছিলো ভেবেছিলো ওদের অবস্থা ভালো আমি সুখেই থাকবো।সংসারে কোন ঝামেলা নেই মা আর ছেলে। এক এক করে শাশুড়িমা আর বাবা দুজনেই চলে গেলেন। অবশ‍্য বাবা থাকতেই একটু করে শুরু হয়েছিলো। দিদি এখন তো মনে হয় আমার উকিলও ওর সাথেই যোগ দিয়েছে। আমি শুধু শুধু হেনস্থা হচ্ছি ডিভোর্স পাচ্ছিনা। এত খারাপ লাগে দিদি।"

" আচ্ছা তুমি আবার পড়াশোনা করবে? মনের জোর আছে? যদি আমি ব‍্যবস্থা করে দিই?"

অবাক হয়ে যায় পৌষালী, আত্মবিশ্বাসী হাসি হেসে ওর কাঁধে হাত রাখে অসীমা। ওর নিজের মতই স্বাধীনতার আকাশ আর জমিটাও যদি খুঁজে দিতে পারে মেয়েটাকে ক্ষতি কি?

" কি পড়াশোনা দিদি?"

" কেন আইন নিয়ে পড়াশোনা।যে আইনের দরজায় গিয়ে নিত‍্য কড়া নেড়ে ফিরে আসছো তোমার নিজের মুখেই যদি একদিন মীমাংসা হয় নিজের ওপর হওয়া অত‍্যাচারের কাহিনীর অসমাপ্ত কেসটা আর অপরাধী যদি শাস্তি পায় তাহলে কেমন হয়? একবার চোখ বুজে ভাবো তো?"

কেমন যেন হারিয়ে যায় পৌষালী হঠাৎই মনে পড়ে হ‍্যাঁ ও তো শুনেছে এমন ঘটনা। হয় এমন হয় মানে হয়েছে। নিশ্চয় পারবে ও পারতে হবেই ওকে।

" আমি পারবো দিদি, আপনি শুধু আমাকে একটু সাহায‍্য করুন।"

" আমি তোমাকে একবাক্স দেশলাই দেবো পৌষালী। নিজের অপমানের আগুনে নিজেই সেগুলো জ্বালিয়ে তোমাকে পথ চলতে হবে।

মামলার দিন পিছিয়ে পিছিয়ে পৌষালীকে হারিয়ে দেওয়ার বদলে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে নিজের অজান্তেই অভিজিত। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে গেছে পৌষালী, একটু একটু করে নিজেকে শান দিয়েছে সমৃদ্ধ করেছে জ্ঞান আর চেতনা জয় করেছে ভয় আর লজ্জা। এর মধ‍্যেই মাঝে মাঝে অভিজিত এসে থাবা বসায় বার করে তার নখ দাঁত ফিরিয়ে নিতে ছেলেকে। কর্কশ ভাষায় জানায়," কিছুতেই মুক্তি দেবেনা ওদের।আগে জানলে ওর শরীরটা ছিড়ে টুকরো টুকরো করে গোপনঅঙ্গ জ্বালিয়ে দিতো।"

মোবাইল রেডি করে রেখেছিলো মাকে দিয়ে গোপনে ভিডিও রেকর্ডিং করায়। ঠান্ডা মাথায় একটা একটা করে প্রমাণ জোগাড় করে। আর ডাক্তার দিদির কাছ থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট।

*******************

ডাক্তার দিদির কাছ থেকে কালই ছুটি নিয়েছে পৌষালী তবুও আজ আর দেখা না করে পারেনা।

পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে, " দিদি সবই আপনার জন‍্য।"

অসীমা হেসে বলে," সবটাই তোমাকে স্বাধীন করার জন‍্য। এই যুদ্ধ তোমায় জিততে হবে, তোমাকে আমি শুধু অস্ত্রটা তুলে দিয়েছি।"

বেরোনোর আগে ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আদর করে মাকে প্রণাম করে বাবার ছবির সামনে এসে দাঁড়ায় পৌষালী। অস্ফুটে বলে," আশীর্বাদ কোরো যেন জয়ী হতে পারি।"

মা এসে মাথায় ঠাকুরের ফুল ঠেকিয়ে দেন।

আজ কোর্টে মাথা নিচু করে নানান লোকের দৃষ্টি এড়িয়ে আর ভয়ে ঢুকছেনা পৌষালী। মাথা উঁচু করে গায়ে কালো কোট আর সাদা শাড়ি পরে ঢুকছে আত্মবিশ্বাসী পৌষালী ওকে যে যুদ্ধ করে ছিনিয়ে নিতে হবে স্বাধীনতা আর মুক্ত করতে হবে নিজেকে।

একের পর এক প্রমাণ আর যুক্তিতে উড়ে গেলো অভিজিতের উকিলের পানের রঙমাখা দাঁতের হাসি। অভিজিতের চোখদুটো ওকে অগ্নিদৃষ্টিতে দেখলেও আজ আর ভয়ে কুকড়ে রইলোনা পৌষালী জিততে ওকে হবেই।

নিজের কেস নিজে লড়ে নিজেকে স্বাধীন করার যুদ্ধটা জিতে গেলো পৌষালী তবে অভিজিতের ঐ পাপমাখা টাকার আর ওর দরকার নেই নিজের স্বাধীন উপার্জনের টাকায় ঠিক মানুষ করতে পারবে ছেলেকে।

বদ্ধ আদালতের বাইরে এসে খোলা নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে নিজেকে কেমন যেন অনেকদিন বাদে খুব হাল্কা লাগে পৌষালীর। বিকেল শেষ হয়ে সন্ধ‍্যে নামার পথে,পাখির দলেরা উড়ে যাচ্ছে বাসার দিকে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা ছোট ছেলে পতাকা বিক্রি করছে পাশেই কোথা থেকে গান ভেসে আসছে কদম কদম বাড়ায়ে যা খুশিকে গীত গায়ে যা। বাচ্চা ছেলেটার কাছের থেকে কয়েকটা পতাকা নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ায় পৌষালী.. আজ থেকে শুরু হলো এক অন‍্য স্বাধীনতার গল্প ওর হাত ধরে হয়ত মুক্তি পাবে আরো কোন পৌষালী যেমন অসীমা দি ওকে এগিয়ে দিয়েছিলেন।


সমাপ্ত:-


Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...

জন্মে জন্মে

চাকরির বদলি নিয়ে এক নির্জন জায়গাতে গেছেন একজন। জায়গাটা নির্জন তাই বৌকে নিয়ে যেতে পারেননি। তারপর বদলি হয়েছেন বিজয় নগরে। এখানকার মিউজিয়াম দেখাশোনার দায়িত্ব তার ওপরে।     এবার ঠিক করেছেন কুসুমকে নিয়ে আসবেন এখানে। মায়ের কাছে শুনেছেন কুসুম খুব মন মরা। কুসুমকে বিজয়নগরে আনার পরই সে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। জায়গাটা তার ভীষণ পছন্দের। তার বায়নাতে ছুটি পেলেই সুরজ সিংকে ঘুরিয়ে দেখাতে হয় জায়গাটা।    কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা। কুসুমকে পাওয়া যায় না। বিজয়নগরের শুকনো চান ঘরে কলকলিয়ে ঢোকে জল। আর সেই জলে ভাসে কুসুম।     অবাক হয় সুরজ ওর সাথে কে? কেয়ারটেকার ছেলেটাকে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে।