Skip to main content

সেরা সময়ের কোলাজ

#সেরা_সময়ের_কোলাজ#
#রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী#

জীবনে দুঃখের মুহূর্তগুলোকে আমরা একটু বেশিই ভালোবাসি তাই দুঃখ আর না পাওয়ার মুহূর্তগুলোকে আদরে মনে পুষতে পুষতে কখন যে ছোট ছোট সুখগুলো হুস করে উড়ে যায় বুঝতেই পারিনা।


 এটা তো আমাদের সবারই হয়,কোথাও বেড়াতে গেছি বেশ খুশির পাল্কীতে বসে মন দুলছে আনন্দে হঠাৎই মনটা খাদে পড়লো মানে মনে পড়লো কোন আঘাতের অথবা দুঃখের কথা। ব‍্যাস আর কোথায় যায়,হয় স্বামীর সাথে গন্ডগোল নাহলে আরো কিছু ব‍্যাস ঘোরার আনন্দে একদম গুলে গেলো উচ্ছের রস।

       ঠিক এর উল্টোটাও হয় অর্থাৎ হঠাৎই বন্ধুবান্ধবের সান্নিধ্যে অত‍্যন্ত উৎসাহী হয়ে আপনার স্বামী এমন কিছু বলে ফেললো যাতে মেজাজ গেলো খাপ্পা হয়ে।সুতরাং কথা কাটাকাটি,অশান্তি এবং শেষে অকাল বর্ষণে চোখের কাজল ধুয়ে সেল্ফির বারোটা।

         এমন পরিস্থিতি আমাদের মত আম জনতা সবাই ফেস করেছি আমি হলফ করে বলতে পারি। তাই আজকাল কোথাও যাওয়ার আগে মোটামুটি আগে থেকেই বলে নিয়ে যাওয়া হয়..নো অশান্তি। তবে আজকাল কিছু বললে কানে ইয়ারপ্লাগ গুজে জাস্ট ইগনোর করা...ইশ্ লিখতে বসে কিসব হিজিবিজি বলে যাচ্ছি!
        আসলে আজকাল যা সহজেই হজম করি বা রুখে দাঁড়াই একসময় সেই ক্ষমতা ছিলোনা। অন‍্যের খারাপ ব‍্যবহার মোটেই সহ‍্য হতোনা অথচ উত্তরও দিতে পারতাম না। একটা সময় সংসারে দেখেছিলাম মায়ের ওপর রাগের কারণে কিছুটা ভুক্তভোগী হতে হত সন্তানকেও। যেমন খারাপ কিছু করলে মায়ের মত হয়েছে আর ভালো করলে আমাদের বাড়ির ছেলে।
             আমার ছেলেও এই সমস‍্যার শিকার,সরকারী স্কুলে লটারীতে সুযোগ পাওয়াতে ওকে যখন স্কুলে দিই তখন ওর বয়েস পাঁচবছর দুমাস। আপার কেজি থেকে ওয়ানে এসে খুব একটা কিছু পারতোনা।সবচেয়ে দূর্বল হয়ে গেলো অঙ্কে..রেজাল্ট খুব একটা ভালো করতোনা। ঐ আর কি পাশ করে যেতো।
      অনেকেই বললো একটা বছর রেখে দিতে,আমি রাজি হলামনা পাশ করছে যখন চলুক এগিয়ে অযথা রাখবো কেন। কিন্তু প্রতি রেজাল্টের পর শুনতাম টিপ্পনি..অঙ্কে কত পেয়েছে? অঙ্কতে তো ওর আবার খুব সমস‍্যা,তা পাশ করেছে তো?

      ওর চেষ্টা, তার সাথে আমার চেষ্টা চললো সমানতালে।একটা সময় দেখলাম অঙ্কটা বোঝানো আর হচ্ছেনা আমার দ্বারা,ওর তখন ক্লাস এইট। টিউশন দিলাম..আজও ভাসে চোখে সেই দৃশ‍্য পড়তে যাবেনা বলে কাঁদছে চেয়ারে বসে।
        অনেক বকেঝকে বুঝিয়ে পাঠালাম সেখানে।তারপর সেখান থেকেই হয়ত পা রাখা সাফল‍্যের সিঁড়িতে।নিজের আগ্ৰহ আর অধ‍্যাবসায়ে কখন যে ভালো হয়ে গেলো বুঝতেই পারিনি। 
একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম হ‍্যাঁ রে ঘুরে দাঁড়ালি কি করে? উত্তর পেয়েছিলাম," একটা সময় মনে হত পড়াশোনা করিয়ে দেওয়াটা তোমার কাজ। কিন্তু একটা সময় মনে হয়েছিলো এটা তো আমার দায়িত্ব।না পড়লে কি করবো? এক অঙ্কই বারবার করতে লাগলাম তখন?"
     জিজ্ঞেস করলাম কখন?
"  তুমি ভোরে উঠে স্কুলে চলে যাওয়ার পর।"
     ও যেদিন মাধ‍্যমিকে স্কুলে সবার মধ‍্যে প্রথম হয়েছিলো আমি তখন পা ভেঙে বাড়িতে শুয়ে,পায়ে প্লেট বসেছে।ভীষণ মন খারাপ জানিনা আর হাঁটতে পারবো কিনা?
         কিন্তু হঠাৎই এক ঝলক তাজা হাওয়া আমার বদ্ধ মনের অলিগলি দিয়ে ঢুকে এসে বলেছিলো...জীবনে সব খারাপ হয়না কিছু ভালোও হয়। দুপায়ে উঠে দাঁড়িয়ে ওকে জড়িয়ে ধরতে পারিনি তবে চোখটা জলে ভিজে গেছিলো ভীষণ আনন্দে।
       জীবনে অনেক কষ্ট করেছি,আঘাতও সয়েছি অযথা।অপমানিত হয়েছি অকারণে কখনো ব‍্যবহৃত হয়েছি কিছু উদ্দেশ্যপূরণকারীর কাছেও। কষ্ট পেয়েছি সব ভুলতে পারিনি,মচকেছি কিন্তু ভাঙিনি। না চাইতে জীবনে অনেক কিছু পেয়েছি,আবার হারিয়েছিও কিছু। নিজে যেদিন চাকরি পেয়েছিলাম আনন্দ হয়েছিলো খুব,স্বাবলম্বী হওয়ার আনন্দ তবে সন্তানের সাফল‍্যের আনন্দ বোধহয় সব কিছুকেই ছাড়িয়ে যায়। আজও নিজের অনেক সংগ্ৰামের কষ্ট ভুলে যাই আত্মজ আর আত্মজার সাফল‍্যে।
       আর আমার খুশির মুহূর্তগুলো আমি নিজেই খুঁজে নিই কখনো কিছুক্ষণ একা সময় কাটিয়ে নিজের সাথে,কখনো কলম ধরে অথবা কখনো আলমারির বন্ধ দরজা খুলে শাড়ি নাড়াচাড়া করে।
     আবার কখনো জাস্ট কিছুই না করে মনটাকে একটু আরামে রাখি। আরে সুখ আর অসুখের চিন্তায় বেচারা যে কাহিল হয়ে পড়ে সেটা ভাবো কি কখনো? তাই চোখ বুজে কিছুক্ষণ বসে থাকো এবার দেখবে খুব ভালো লাগবে,অথবা চোখ খুলে বারান্দায় বা ছাদে উঠে ভোরটা অথবা বিকেলটা কাটিয়ে দাও।যেমন আমার বাসের জানলা থেকে দেখা কলকাতার ভোরটাকে খুব মিস্ করি এখন এই কয়েকমাসে। ছোট ছোট খুশির মুহূর্তগুলোকে এক সাথে জমা করে বানাতে চাই জীবনের সেরা সময়ের কোলাজ...এসো সবাই ভালো থাকি।
   
সমাপ্ত:-

Comments

Popular posts from this blog

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...
প্রায় আঠেরো দিন ঘরছাড়া হয়ে আজ সকালে এক কাপ চায়ের কাপে জানলা দিয়ে দেখা সমুদ্দুরের পাড়ে থাকা সূর্যধোয়া সুইডেনের স্টকহোম শহরটাকে বন্দি করার চেষ্টা করছি...ঘরছাড়া মন হয়েছে বাইন্ডুলে এই মাঝবয়েসে। আর অবশ্যই কিছুটা ছন্নছাড়াও,কারণ খাওয়া,শোওয়া আর ঘুম কিছুরই ঠিক,ঠিকানা নেই। বঙ্গনারী এয়ারপোর্টে এসে সিকিউরিটি চেকের উৎপাতে টুক করে হাতের নোয়াখান খুলে ব‍্যাগে রাখছি,ঠান্ডাতে কাবু হয়ে কোট প‍্যান্টলুন পরে ঘুরছি এই সমস্ত সব কান্ড এর মাঝেই বেজে উঠলো ফোনখানা।  সুতরাং ফটো তোলাতে ক্ষান্ত দিয়ে মন দিলাম ফোনে,মেয়ের ফোন..এখানকার সকালবেলায়  একবার কথা হয়েছে,ঘন্টাখানেক বাদে আবার ফোন তাই বুঝলাম কোন বিশেষ দরকার। ডাক ছাড়লাম, -' হ‍্যালো,বুড়ো(আমাদের আদরের ডাক) কিছু বলবি? ওপাশ থেকে একটু লজ্জা লজ্জা ঢোক গেলা গলায় শুনলাম..' হ‍্যাঁ,মা এখন কি করছো? উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম,' শহরটাকে দেখছি রে,এমন সকাল জানি না আবার কবে হবে। অপূর্ব লাগছে রে হোটেলের জানলায় বসে শহরটা দেখতে।'  ওপাশ থেকে আবার মিহি গলায় ভেসে এল,' আচ্ছা মা চোদ্দ শাক কেমনভাবে বিক্রি হয়?'  এদেশে এসে বেড়ানোর গুঁতোতে অনেক কিছুই মাথা থেকে মিসিং,অবশ‍্য মে...
সালটা দুহাজার এগারো,মেয়েটা তখন বেশ ছোট,ছেলেটা সে বছরেই কলেজে ঢুকেছে। আর আমার মেয়ের কথায় আমরা তখন খুব গরীব ছিলাম। তবে সে আরও বলে তখন আমাদের মুঠোতে সুখ ছিল,আমরা তখন বেঁধে বেঁধে ছিলাম। ডাইনিং স্পেশে পাতা পুরোনো সোফাটায় আমি বসে শনিবার রাতে ডিডি ন‍্যাশনালে সিনেমা দেখতাম আর বুধবারে দেখতাম চিত্রহার। কখনও ওরাও এসে বসত আমার কোলে পিঠে,একসাথে বসে আমাদের চলত কত কথা আর ওদের দুই ভাইবোনের খুনশুটি। কখনও বা ঝগড়া আর মারামারিও হত,ধুপধাপ তাল পড়ত পিঠে। ওদের বাবা অফিস থেকে এলে দুজনেই উৎসুক হয়ে তাকাতো বাবার হাতের দিকে,তারপর পড়ার মাঝে জুটত ব্রেক বাবার আসার উপলক্ষে চপ,বেগুনী আর চুরমুর সেলিব্রেশনে। আমাদের হাতে তখন ফোন এলেও মুঠোতে বিশ্ব ছিল না,ছিল না ফেসবুক পাড়ায় যখন তখন ভ্রমণ। আমরা একই ছাদের তলায় বাস করেও আলাদা ছিলাম না,আমাদের অনলাইন শপিং ছিল না তখন তাই ছেলেমেয়েদের নিয়ে শপিং করে কিছু খেয়ে ফেরার দিনগুলো খুব আনন্দের ছিল। ছেলের দীর্ঘ পরীক্ষার সমাপ্তির পর আমরা চলে গিয়েছিলাম তালসারিতে। গত দুদিন ধরে তালসারির কথা এত পড়ছি যে আজ হঠাৎই মনে হল আমরাও তো গেছিলাম তালসারিতে। ছবিগুলো অ্যালবাম করে রাখা ছিল বলে পেলাম। আমাদের মধ‍...