Skip to main content

Posts

all out blog

#অলআউট_সারাদিনের# #রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী# বিয়ের পর নতুন জীবনে পা রাখার সাথে সাথে কখন যে দায়িত্বগুলো একটু একটু করে বাড়তে শুরু করেছিলো বুঝতেই পারিনি। তবে রান্নাঘরে রান্না করতে গিয়ে অস্থিরতা বাড়তো খুবই একেই আমি নতুন বৌ তারপর রান্নার অভিজ্ঞতাও তেমন ছিলোনা আর তার সাথে রান্নাঘরে ভীষণ মশার উপদ্রব। বেশিরভাগ সময়ই হাত পা ফুলিয়ে ফুলকো লুচি বা অমলেট নিয়ে বেরোতাম বাইরে।                    একদিন বলেই ফেললাম," ইশ্ যদি মশারির ভেতরে থেকে রান্না করা যেতো! তাহলে ভালো হত।"       এর মধ‍্যেই আমার স্বামীর ডেঙ্গু হলো,খুব দূর্বল শরীর,জ্বর বমিভাব কিছু খেতে পারেনা। ওকে নিয়ে কদিন খুব দুশ্চিন্তায় কাটলো।ওষুধ খেয়ে ঠিক হতে বেশ কিছুদিন লেগে গেলো।       ও ভালো হয়ে গেলেও নিশ্চিন্ত হতে পারলামনা। যদি শান্তিতে থাকা না যায় তাহলে বোধহয় কোনকিছুই মন দিয়ে করা যায়না।           হঠাৎই একদিন আমার স্বামী অফিস থেকে ফিরলো একটা ছোট বাক্স নিয়ে দেখে মনে হলো গিফ্ট বক্স। আমি খুশি হয়ে বললাম," কি আছে গো এতে?"  ও হেসে বললো "আমার ভালোবাস...

জীবন যখন যেমন ৭

একটা সপ্তাহ স্বপ্নের মত কেটে যায় জোজোর। আবছা ভোরের আলোয় পর্দা সরিয়ে মিষ্টির ঘুমন্ত মুখটা দেখা তারপর ওর ঘর লাগোয়া ছোট বারান্দায় বসে পুজোর প‍্যান্ডেলের দিকে তাকিয়ে পুজোর গন্ধ নেওয়া। কখনো ভেজা চুলের জল ছড়ানো মিষ্টিকে দেখে শিশিরের পরশ পাওয়া আবার কখনো মিষ্টির কুয়াশাকাটানো হাসিতে নিজেকে খুঁজে পাওয়া বন্ধু থেকে আরো বিশেষ কিছু হিসেবে। কিন্তু মহা মুশকিল হয়েছে মিষ্টিটা তো এখনো ওর কাছে বড়ই হয়নি,ও এখনো সেই কালচিনিতে অঙ্ক করার ক্লাশেই পড়ে আছে। এই তো সেদিনই রান্নাঘরে রান্না করতে গিয়ে হাতে ছ‍্যাকা খেয়ে যেই উঃ করে উঠেছে জোজো ভালোমানুষী করে দেখতে যেতেই রীতিমতো খুন্তি নিয়ে ছুটে এসেছে.."রান্নাঘরে এলেই খুন্তি দিয়ে নাক পুড়িয়ে দেবো।আজকের খিচুড়ি আমিই বানাবো যা এখান থেকে।"       বাপরে এই মেয়ে নাকি কদিন আগে বালিশে মুখ ঢেকে কাঁদতো সেটা কি ভালোবাসা হারিয়ে? না কি হেরে গিয়ে? মাঝে মাঝেই এই কথাটা খুব মনে হয় জোজোর সত‍্যিই কি সায়মকে ভালোবাসতো মিষ্টি? নিশ্চয় ভালোবাসতো তাইতো বিশ্বাস করছিলো। ভালোবাসার বিশ্বাস নিয়ে যে কতজন যে এভাবে খেলা করে কে জানে?            মিষ্টির মন খারাপের ...

নবরূপা

#নবরূপা# #রুমাশ্রী_সাহা_চৌধুরী# রাস্তার মোড়ের লাল বাড়িটা আজ যেন বড়ই চুপচাপ।উল্টোদিকের বাড়িতে থাকা সোনাই কতবার করে ঘুরে গেছে বারান্দায়। মাঝে মাঝেই এসে বারান্দায় দাঁড়ায় আর গালে হাত দিয়ে লালবাড়ির দিকে তাকায় ঐ বুঝি বিয়াস কাম্মা হাত নাড়বে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অন্তুকে খাওয়াতে খাওয়াতে।আর তারপর কত এলোমেলো বকবক করবে," সোনাই বুড়ি এই দ‍্যাখ আমার কোলে উঠেছে অন্তু বুড়ো।"       ওপাশ থেকে খিলখিল করে হেসে উঠতো সোনাই," ও মা কাম্মা আমিও বুড়ি আর অন্তুও বুড়ো! কেন গো? আমার আট আর ওর তো সাত।তুমি এটুকুও জানোনা যে আমরা বাচ্চা।"        ও পাশ থেকে বুড়ো আঙ্গুলের কাঁচকলা দেখিয়ে কাম্মা বলতো," দুটোই তোরা বুড়োবুড়ি।কই তোদের দাঁত আছে দেখাতো দেখি?"        মুখে চাপা দেয় সোনাই,সত‍্যিই তো সেই কবে সামনের চারটে দাঁত পড়েছে এখনো উঠলোনা কিছুতেই।অন্তুটারও তাই,এই সেদিন বলছিলো," সোনাইদি,দাঁতটা কবে জন্ম নেবে বলতো? আমি সেদিন হ‍্যাপি বার্থডে বলেই চকোলেট খাবো। দাঁতের ফাঁক দিয়ে চকোলেট গলায় চলে গেছিলো জানো।"           দুজনেই দুজনের দুঃখ বুঝেছিলো সেদিন,একেই বন্ধু...

জীবন যখন যেমন(৬)

সবুজ কচিকচি পাতাগুলো চাবাগানে দোলা দিচ্ছে,শহরজুড়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। দুষ্টুর পড়াশোনার চাপ বেড়েছে,কয়েকমাস বাদেই টেস্ট তারপর ফাইনাল।নিজেকে আরেকবার প্রতিযোগিতার মাঠে রেখে প্রমাণ করা। মাঝেমাঝেই মনে হয় এই পরীক্ষাগুলো যদি সত্যিই না থাকতো সত‍্যিই কি পড়াশোনার জন‍্য পরীক্ষা না পরীক্ষার জন‍্য পড়াশোনা? চোখের চশমাটা কপালে তুলে কলমটা গালে রেখে ভাবে দুষ্টু। কেজানে ভবিষ্যত কি ছবি এঁকে রেখেছে ক‍্যানভাসে ওর জন‍্য?             ভবিষ‍্যতের চিন্তায় অস্থির দীপ্ত আর পারেনা স‍্যারের কাছে না এসে। স্কুলবাড়ি, ওদের হস্টেল আর চা বাগান কানে কানে বলে যায় ফেলে আসা ছাত্রবেলার কথা।মনে হয় স্কুলই বোধহয় সবচেয়ে সেরা সময় ছাত্রজীবনের যেখানে নিয়ম শেকলে বাঁধা জীবন শেখায় অনেক কিছু।বেনিয়ম আর বেখেয়ালে চলা স্বাধীন জীবনে হয়ত ভুল হয়ে যায় অজান্তেই।            অনেকদিন বাদে স‍্যারের বাড়িতে পা রাখছে,পেয়ারা গাছের তলায় এসে মনে হয় দুষ্টুর সেই পেয়ারা ছোঁড়ার কথা। কেমন আছে দুষ্টু? ওকে তো স‍্যার বলেছিলেন মাঝে মাঝে সময় পেলে দুষ্টুকে একটু গাইড করতে।সত‍্যিই কিছু পারলোনা ও,কিচ্ছুই হয়ত হবেনা। ...