Skip to main content

Posts

Showing posts from September, 2021

আমার পুজোর স্মৃতি

আবার একটা পুজো এসেছে আকাশে নীল নীল ছেঁড়া মেঘের খেলা। কলকাতা থেকে একটু বাইরের দিকে গেলেই দেখা যায় কাশফুলের মেলা। সারাবছর অপেক্ষায় কাটে আমাদের এই সময়টার জন‍্য মনে হয় মা আসছেন। আসলে মা দুর্গা ধনী গরীব সকলের ঘরের মেয়ে উমা। যাকে সুখ দুঃখের কথা বলা যায় ঘরের মেয়ের মত পিঁড়ে পেতে বসিয়ে শাক ভাত খাওয়ানো যায়। ছোট বড় সবাই আশা করে বসে থাকি আমরা মা আসছে,ঐ তো মায়ের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আসলে মা শব্দটা বড় নিরাপদ একটা আশ্রয়,ভীষণ মিঠে একটা নাম। যাঁর কাছে শান্তি পাওয়া যায়,যাঁর আদরে শাসনে আর শিক্ষায় শেখা যায় অনেক কিছু। জীবনে চলার পথে মায়ের শেখানো সব কিছুই আমাদের সাহায‍্য করে এগিয়ে যেতে। মনে হয় মা আমাদের সাথেই আছেন সবসময়। দশহাতে রক্ষা করছেন মা দুর্গা আর আমাদের মা দুহাতে ধরে রেখেছেন সংসারের সবটা। মা বলে ডাকলে শরীর মন সব যেন জুড়িয়ে যায়।                ছোটবেলার পুজোর আনন্দ আর এখনকার পুজোর অনেক ফারাক। অনলাইনে শপিং হচ্ছে কত জামা জুতো এসে জমা হচ্ছে ঘরের কোণে কিন্তু সেই আনন্দ যেন আর খুঁজে পাই না। আমার ঠাকুরদা খুব ভালো সেলাই করতেন। আমাদের ছোটবেলায় ঠাকুরদার দেওয়া উপহার ছিল রঙ...

পিকলুর প্রথম বেড়ানো

মুঠোফোনে আওয়াজ হতেই ব‍্যস্ত হয় মাধুরী ঐ বোধহয় ছেলের মেসেজ এল। আজ সারাদিন ওর সাথে যোগাযোগ করা যায়নি একদম। ওহ্! এই হয়েছে এক বাউন্ডুলে ছেলে যাব যাব করে এমন জায়গায় গিয়ে বসে আছে যেখানে কোন নেটওয়ার্ক নেই। এ যেন সারাদিন অনন্ত অপেক্ষার পর শ্রীমানের একটা ফোন পেয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া। মা হওয়ার যে কত জ্বালা তা এখন বোঝে খুব ভালো করে। একটা সময় ভগবানকে বলত কবে যে বড় হবে ছেলেটা আর এখন মনে হয় ছোট ছিল তাই ভালো এত উৎপাত তখন করেনি। এর আগেও সোলো ট্রিপে গেছে পিকলু তবে সে জায়গায় ফোন পাওয়া যেত কিন্তু এখানে তো যোগাযোগ করাই যায় না।      আগেই অবশ‍্য সে কথা বলে গেছে ছেলেটা তবুও অগত‍্যা ট্র‍্যাভেলিং এজেন্টকে মেসেজ করে মাধুরী। ওপার থেকেও একই উত্তর আসে এখন ট্রিপে আছে, রাতে হোমস্টেতে গিয়ে ফোন করবে নিশ্চয়।     ওর অস্থিরতা দেখে বিকাশ বলে এই জন‍্য আমাদের বাঙালী ছেলেমেয়েদের কিছু হল না। সারাক্ষণ মায়ের তাবেদারি তারপর বৌয়ের নজরদারি আর তারপর শেষ বেলায় মেয়ের খবরদারি। মোটামুটি নারীদের পায়ের তলায় থেকেই কখন যে জীবনের শেষ হয়ে যায়। আরে ছেলে তোমার বড় হয়েছে এত চিন্তা কিসের শুনি? বিন্দাস ঘুরছে বেড়াচ্ছে দেশ দেখছে। ...

ইলিশ সুন্দরীর স্বপ্নে

শাড়ির প‍্যাকেট হাতে নিয়ে ট্রাম থেকে নেমেই চোখে পড়ে যায় বাবলুদার ম‍্যাগাজিন কর্ণারটা। রঙীন পুজোসংখ‍্যার দিকে একবার চোখ না মিলিয়ে আর পা বাড়াতে পারে না ঋতু। কি সুন্দর সুন্দর সব ম‍্যাগাজিনের কভার পেজ। বাড়িতে পুজোর জন‍্য হয়ত একটা পূজাসংখ‍্যা আসবে তবুও বাবলুদার দোকানে দাঁড়িয়ে বেশ চোখ রাখা যায় সবগুলোর পাতাতেই একবার করে। আজকাল অবশ‍্য অনেকেই বুদ্ধি করে পলিথিন কাভারে ঢেকে পূজাসংখ‍্যা বের করেন যাতে ঋতুর মত অনেকেই দৃষ্টিসুখে বইয়ের সাথে ভাব করা থেকে বঞ্চিত হয়। সকালের পর এই সময়টা ম‍্যাগাজিনের দোকানটা বেশ ফাঁকা থাকে। ওকে দেখেই মুখ উঁচু করে হাসে বাবলুদা, ও বৌদি যে। কোন বই লাগবে নাকি? এবার কিন্তু দারুণ দারুণ সব বই বেরিয়েছে। কোনটা লাগবে নিন ডিসকাউন্ট আছে সবেতেই।      একটু লাজুক হাসে ঋতু,আগে একটু দেখে নি তারপর বলছি কোনটা নেব। তাড়াতাড়ি ওর পছন্দের বইগুলোর পাতা উল্টে শাড়ি,গয়না আর রান্নার পাতাগুলো একবার দেখে নেয়। তার সাথে গল্পের সূচিপত্রটাতে চোখ বুলিয়ে নেয়। হঠাৎই চোখ পড়ে যায় এই পুজোতে সাবেকি নিয়মে রান্নার পাতাটাতে একটু চোখ বুলিয়ে খুব নস্টালজিক লাগে ঋতুর। নিমেষে মনে পড়ে যায় কত পুরোনো কথা। কপালে ...

অনুস্মৃতি

বিছানায় শুয়ে শুয়ে টিভির সিরিয়ালে মন ডোবান অতীন। দেখতে দেখতে বয়েসটা সত্তর ছুঁই ছুঁই হতে চলল। তবুও মনে হয় এই তো সেদিনের কথা সবটাই। কবে যে ছোটবেলা পেরিয়ে যৌবনে পা রেখে হাঁপাতে হাঁপাতে পৌঁছে গেছেন বার্ধক‍্যে বুঝতেই পারেননি। কুমকুম সুতোর রীল ছড়িয়ে ব‍্যস্ত অকাজে। চিরকালই কুমকুমের খুঁজে খুঁজে কাজ বের করাকে অকাজ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারেননি। বললেই বলত,' বুঝলে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা তাই এটা ওটা নিয়ে ব‍্যস্ত থাকি,নিজেকে এই করেই ভালো রাখি।'       একটু সেলাই করেই ঘাড়ে টান ধরে তাই কিছুক্ষণ বাদে আবার সেই ভালো লাগছে না বলে সুতোর রীল ছড়িয়ে বাইরের বারান্দায় এসে দাঁড়ায় কুমকুম। ওঁর অস্থিরতা দেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার সিরিয়ালে চোখ রাখেন অতীন। আজকাল যে কি হয়েছে কে জানে? সবসময় এক না ভালো লাগা অসুখ ঘিরে ধরেছে ওদের দুজনকে। হাতে টাকা পয়সা আছে অথচ যেন সবই ফিকে কিছুতেই ভালো লাগে না। মন খুঁজে পায় না কোন কিছুতেই আনন্দ। শুধু মনে হয় বড় তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে গেল। সময়কে মুঠোতে ধরতে না ধরতেই মানে ট্রেনে গুছিয়ে বসতে না বসতেই স্টেশন চলে এলো।      ও কুমকুম কোথায় গেলে? বাইরে দাঁড়িয়ে কি ক...

স্ট‍্যাটাস

জন্মদিনের পায়েসের গন্ধ বহুদিন পাননি সুধা। আহা ছোটবেলার সেই দিনগুলোতে কত অপেক্ষা থাকত এই দিনটার জন‍্য। বাবা কদিন আগে থেকেই বলতেন,' বল তোর কি কি খেতে ইচ্ছে তাই হবে জন্মদিনে। তবে সবই নিরামিষ রান্না হবে কিন্তু। শুভ অনুষ্ঠানে নিরামিষ পদই ভালো।'      সুধা হেসে বলত,' মায়ের হাতের সেই ফুলকো লুচি ছোলার ডাল আর সাধনের দোকানের রসগোল্লা এটাই ভালো বাবা। আর মা তো পায়েস করবেই।'         জন্মদিন মানেই একটা নতুন জামা,নতুন গল্পের বই আর তার সাথে গরম লুচি পায়েসের সুবাস।      বিকেল হতে হতেই বারান্দা ভরত ছোট্ট ছোট্ট চপ্পলে সুধার বন্ধুরা এসে হাজির হত। তাদের হাতে থাকত রঙিন কাগজে মোড়া গল্পের বই, কলম,শো পিস। । ওরা সুধার জামাটায় হাত দিত। কি সুন্দর জামাটা রে!       বাবা এনেছে রে,এই দেখ সাথে কি সুন্দর ক্লিপ! জামা জুতো আর মাথায় ছোট্ট ঝুটিতে চিকচিক করত লাল তারার ক্লিপ। সবাই এলে মায়ের বানানো নক্সাকাটা আসনে বসত সুধা। ঐ আসনটা সুধার খুব পছন্দের ছিল।        সেই আসনে লক্ষ্মী মেয়ের মত মাথা নীচু করে বসত। মা বাবা আর বাড়ির বড়রা মাথায় ঠেকাত ধান দূ...