Skip to main content

Posts

বাসাবদল

ঠিক করে ওর সব জিনিস গুছিয়ে দিয়েছিস তো বোন? আমি তো বিয়ের ঝামেলায় এদিকে দেখতেই পারিনি। কথাটা বলেই মা আমার মুখের দিকে না তাকিয়েই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। আমি খুব চেয়েছিলাম মা আমার দিকে তাকাক একবার কিন্তু মা তাকায়নি। হয়ত বা আর মায়া বাড়াতে চায়নি যা এখন বুঝি। তবে তখন খুব মন খারাপ হয়েছিল।       আর আমি আঁকড়ে বসেছিলাম আমার প্রিয় বালিসটাকে,যেটার সাথে সেই কোন ছোটবেলা থেকে বন্ধুত্ব আমার। বাড়িতে লোকজন এলেও কিছুতেই নিজের ভালোবাসার এই একমাত্র জিনিসটাকে ছাড়তাম না কখনও।     আসলে আমার অনেক দুঃখ,ব‍্যথা,আনন্দ আর শান্তির ঘুমের জায়গা তো ওটাই ছিল। সেই কবেকার অভ‍্যেসে ঐ নরম বালিসটাকে জড়িয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছি। কখনও বা কোন কষ্টের মুহূর্তে একলা কেঁদেছি।
আজকাল আমরা কর্তা গিন্নী বেশিরভাগই দুজনে একাই ঘুরতে যাই ছেলেমেয়েদের ছাড়া। অনেকেই মজা করে বলে হানিমুন ভালোই চলছে। কেউ বা বলে ভালোই তো ফূর্তি করে বেড়াচ্ছো,বাড়িতে যে মেয়েটা রয়েছে তার খবর নিচ্ছো তো? অথবা ভালোই তো আছো,দুদিন বাদে বাদেই হিল্লী দিল্লী ঘুরে বেড়াচ্ছো।        হিল্লী,দিল্লী ঘুরেই হোক বা যার যা পছন্দ করেই হোক সবারই উচিত ভালো থাকার চেষ্টা করা। অনেক খারাপ থাকা আর খারাপ লাগা পেরিয়ে একটা বয়েসের পর আমরা সবাই একটু ভালো থাকতে চাই। তাতে হয়ত অনেকেই বলে বুড়োবুড়ি ফূর্তি করে বেড়াচ্ছে(অবশ‍্য যারা বলে তারা ভাবে না চিরকাল ছুড়ি কেউ থাকে না),কেউ বা বলে ওদের অনেক টাকা,আমাদের অত নেই বাপু খরচ করার মত। অনেকেই আবার সুলুক সন্ধান করেন মগজাস্ত্র খাটিয়ে আমরা কোথায় টাকা পাই?       আসলে আমাদের জীবনের কষ্টের দিনগুলো যেমন একাই সইতে হয় ঠিক তেমনি আনন্দের দিনগুলোরও প্ল‍্যানিংও একাই করতে হয়। যেমন আমরা করেছি ছেলের বিয়ের সময়। সেটা কিভাবে কতটা পরিকল্পনা করে এগোতে হয় তা জানাটাও ভীষণ জরুরী,যেটা আমার ব‍্যক্তিগত মত। তবে অবশ্যই কাউকে কষ্ট দিয়ে বা স্বার্থপর হয়ে নয়।       ...

নীরবতা

বাবা মায়ের সাথে কথা বলার সময় থাকত না ছেলের, এখন আর তারা কথা বলতে পারেন না। তাই ফুরিয়েছে সব কথা।

ভাড়াটিয়া

রবীন যখন স্টেশনে নামলো তখন সন্ধ‍্যে নেমে গেছে,ওদের শহর হলে হয়ত তেমন করে অন্ধকার বোঝা যেত না। স্টেশনের লাগোয়া দোকানগুলোতে জ্বলত আলো। পথ চলতি মানুষজন সেখানে কেনাকাটা করত,অথবা একটা মোগলাই বা রোল খেত গপগপ করে ক্ষিদের পেটে।                 সুতরাং ট্রেন থেকে নেমে ঐ পথ দিয়ে সিঙাড়া আর গরম চপ ভাজার গন্ধ নাকে নিয়ে হেঁটে যেতে বেশ লাগত। তবে ওর ঠিকাদারি কাজের সূত্রে অর্জুনপুরে এসে প্রথমেই একটা ধাক্কা খেল। বেশ নিরিবিলি জায়গাটা। ট্রেন থেকে বোধহয় এখানে চার পাঁচটা লোকও নেমেছে কিনা সন্দেহ।        সুতরাং কিছু করার নেই পিঠের ব‍্যাগটা আর হাতের বাক্সটা ধরে এগোতে থাকে স্টেশন থেকে বেরিয়ে। তার আগেই লোকটাকে ফোন করেছিল কিন্তু লোকটা ধরেনি। কী একটা বাবুরাম না কিছু নাম.. বলেছিল তো স্টেশনের বাইরেই থাকবে কিন্তু এখন তো ফোনও ধরছে না। বাইরে কিছুটা এগোনোর পর টিমটিমে আলোতে একটা চায়ের দোকান দেখতে পায়। মনে তো হচ্ছে খোলা। ওখানেই বরং একটু দাঁড়িয়ে বাবুরামকে আবার ফোন করে এগোবে। আর যদি সে অগত‍্যাই না আসে তো জিজ্ঞেস করেই এগোতে হবে।      ফোনটা হঠাৎই বেজে ওঠে...

হারিয়ে যাওয়া

গোলাপী কার্ডের মাঝে একগুচ্ছ গোলাপের ভীড়ে অনেকগুলো প্রজাপতি খুশিতে উড়ে বেড়াচ্ছে আর এক কোণে লেখা ইউ আর করডিয়ালি ইনভাইটেড অন দ‍্য অকেশন অফ লাভ অ্যান্ড কমিটমেন্ট।            মনটা হঠাৎই উড়ে যায় বত্রিশ বছর আগের অতীতে,একদম ছিপছিপে সুন্দরী একটা মেয়ে সবসময় ডান হাতে ঘড়ি পরত। দুপাশে কাটা লকস্ আর পিঠে শাসন করা সুন্দর সোজা কালো চুলের লুটোপুটি। কথা বললেই মুখে ঝলমল করত একটা মিষ্টি হাসি। ওর রুমমেট একটু বকবকিয়া হলেও ওর মুখে বেশি দেখা যেত হাসিই আর কথা কম। তাপ্তীর জন‍্য আমাদের ডিপার্টমেন্টে কজন ফিদা ছিল জানি না। কারণ ওর রোগা পাতলা চেহারাতেও বেশ ব‍্যক্তিত্বের ছাপ ছিল। চট করে নিজের ভারী মলাটের আবরণ খুলে বেরিয়ে আসত না কারও কাছেই।        তবুও আমাদের ওকে নিয়ে ফিসফাস আর কৌতূহল কম ছিল না। মাঝেমধ্যেই এর ওর সাথে ওকে জুড়ে আমরা ক্ষ‍্যাপাতাম। ও মিটমিট করে হাসতো কিছু বলত না। কখনও বা বলত,' ইশ্ ঐ প‍্যাংলা কাঠি,ক‍্যাবলা ছেলেটা ওকে আমার পাত্তা দিতে বয়েই গেছে। অমন কারও সাথে প্রেম করব ভাবলে তো সেই কবেই করতে পারতাম।'       আমাদের হাসির রোল উঠত। তারপর কেউ একজন ফ...

মাসকাবারি

প্রতিবারই আগের দিন ডাক্তারের কাছে যেমন নাম লেখায় তেমনি নাম লিখিয়েছিল কামিনী। ওপাশ থেকে ভারী গলায় শুনতে পেয়েছিল,হ‍্যাঁ বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ চলে আসবেন। আর ডাক্তারবাবুর ভিজিট এখন ছশো টাকা। দেখানো হয়ে গেলে ওষুধটা এখান থেকেই নেবেন বুঝলেন।         এর আগেও এই ডাক্তারকে দেখিয়েছে কামিনী,তখন মুখে বিচ্ছিরি রকম ব্রণ বেরিয়েছিল। তবে তখন ভিজিট ছিল তিনশো। ডাক্তার বাবু মোটামুটি মাসে দেড়মাসে একবার করে সময় দিয়ে ডেকে সেই ব্রণ সারিয়েছিলেন আড়াই না তিন বছর ধরে। প্রথমে একরকম ক্রীম আর সাবান,পরের বার ক্রীম বদল,তারপর আবার রাতে এক রকম আর দিনে এক রকম এইভাবেই দীর্ঘ গবেষণাতে সেরেছিল মুখ। কামিনীর মুখের চামড়া কখনও লাল,কখনও কালো,কখনও ঘেমো,কখনও শুকনো হয়ে অবশেষে তিন বছরে একটা জায়গায় এসেছিল। ব্রণ ফুসকুড়ি ভেগেছিল ডাক্তারের চিকিৎসায়। প্রতি মাসের মাসকাবারি ডাক্তারের আর ওষুধের খরচ বন্ধ হয়েছিল বেশ অনেকটা অধ‍্যাবসায় আর আর্থিক গচ্চায়। তবুও কামিনী নিজেকে বুঝিয়েছিল মুখ বলে কথা,কত লোকেই তো হিজিবিজি মেখে আর ফেসিয়াল করে পয়সা খসায়। ও ডাক্তারের পেছনে করেছে তা যাক,তবুও তো মুখটা আবার ঠিকঠাক হয়েছে।     তবে ...

নকল সুখ

'আজ কী দিয়েছো গো! তুমি ঢুকতেই তো পুরো লেডিস কম্পার্টমেন্ট আলো হয়ে গেল।'  নিজেকে আয়নায় দেখে অবশ‍্য চুমু খেতে ইচ্ছে হয়েছিল নিজেরও জুহির। এমনকি অভিও বলেছে যে নীল এই জামাটাতে আজকে ওকে খুবই রয়‍্যাল লাগছে দেখতে।         অথচ নীল কিন্তু মোটেই ফেভারিট কালার নয় জুহির। বিয়েতে পাওয়া সব নীল শাড়িগুলো মোটামুটি সাইড করে রেখে দিয়েছে। একেই ওর শাড়ি পরতে ভালো লাগে না,মানে তেমন একটা ক‍্যারি করতে পারে না শাড়ি। তবুও বিয়ের পর মাঝেমধ্যে অঙ্গে চড়াতে হয় অসহ‍্য জিনিসটাকে। আর তখনই হয় মোটামুটি ল‍্যাজে গোবরে অবস্থা।        অফিসে যেতে হয় অনেকটা রাস্তা ট্রেনে করে সুতরাং অন‍্য পোশাকই পরা হয় বেশি। আগে জিন্স টপ বেশি পরলেও বিয়ের আগেই ওর লক্ষ্মীমন্ত আর বুদ্ধিমন্ত মা বলে দিয়েছিল প্রথমটা কুর্তা বেশি পরতে।   -'কেন মা? বিয়ের পর কী আর প‍্যান্ট পরা যাবে না? ওদের তো কোন আপত্তি নেই। তাছাড়া আপত্তি থাকলেও আমার কিচ্ছু এসে যায় না। এটা আমার ব‍্যাপার।'  মায়ের কাছে বকুনি খেয়েছিল। ' নতুন বৌ একটু এথনিক পোশাক পরলেই সুন্দর লাগে। মানে আমার তো ভালো লাগে। আমাদের ভারতীয় পোশাক কত কালারফুল জুহি...