Skip to main content

Posts

পুর্ণেন্দু পত্রী স্মৃতি শিল্প গ্ৰাম

বর্ষায় মন উড়ু উড়ু তাই উঠল বাই চলো করি ঘুরু ঘুরু। কিন্তু কোথায় যাই? হাতে মাত্র একটা পুরো দিন,নো থাকাথাকি। ভাবি চলো ভাবি,এই ভাবতে ভাবতেই ঠিক হল বেশি দূরে নয় যাব কাছাকাছি। দূরে গেলে যাতায়াতেই কেটে যায় অনেকটা সময়,সুতরাং সংক্ষিপ্ত হয় থাকার সময়টা।      পুর্ণেন্দু পত্রী স্মৃতি শিল্পগ্ৰামের কথা ফেসবুকে পড়েছি। তাই ঠিক হল সেখানেই যাবো,কারণ কলকাতা থেকে মাত্র ঘন্টা দুয়েকের মধ‍্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় সেখানে।     আমরা গাড়ি করে গেছিলাম,আপনারা চাইলে ট্রেনে করে উলুবেড়িয়া স্টেশনে নেমে সেখান থেকে টোটো বা বাসে করে মোহিনী মোড়,তারপর মোহিনী মোড় থেকে ধান্ধালিয়া পুর্ণেন্দু পত্রী শিল্পগ্ৰামে পৌঁছে যেতে পারেন।    ভগবানের কাছে হাত পেতে মন খুলে চাইলাম হে ভগবান বৃষ্টি দিও,আহা মরসুমের প্রথম বর্ষা সুখ মাখতে মাখতে যাবো। ভগবান ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করলেন,সক্বাল সক্কাল বৃষ্টি এলো। বৃষ্টি মাথায় করেই,মনে খুশি নিয়ে বেরোলাম সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ। গাড়ি চললো এগিয়ে,আমরা দলে পাঁচ। আমাদের আগেরদিন পর্যন্ত প্ল‍্যান ছিল আমরা পটচিত্র গ্ৰামে যাবো,কিন্তু হঠাৎই ওদিকে বন‍্যা থাকতে পারে ভেবে মত ঘুরেছে রাতে। ...

জন্মে জন্মে

চাকরির বদলি নিয়ে এক নির্জন জায়গাতে গেছেন একজন। জায়গাটা নির্জন তাই বৌকে নিয়ে যেতে পারেননি। তারপর বদলি হয়েছেন বিজয় নগরে। এখানকার মিউজিয়াম দেখাশোনার দায়িত্ব তার ওপরে।     এবার ঠিক করেছেন কুসুমকে নিয়ে আসবেন এখানে। মায়ের কাছে শুনেছেন কুসুম খুব মন মরা। কুসুমকে বিজয়নগরে আনার পরই সে প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। জায়গাটা তার ভীষণ পছন্দের। তার বায়নাতে ছুটি পেলেই সুরজ সিংকে ঘুরিয়ে দেখাতে হয় জায়গাটা।    কিন্তু পূর্ণিমার রাতে ঘটলো অদ্ভুত ঘটনা। কুসুমকে পাওয়া যায় না। বিজয়নগরের শুকনো চান ঘরে কলকলিয়ে ঢোকে জল। আর সেই জলে ভাসে কুসুম।     অবাক হয় সুরজ ওর সাথে কে? কেয়ারটেকার ছেলেটাকে দেখে মাথা গরম হয়ে যায়। খুন করে ফেলতে ইচ্ছে করে।

বেড়ানো

বন্ধুত্ব চির নবীন,বন্ধুত্ব চির সবুজ..বন্ধুত্ব মানে কাউকে ছোট করা বা পাল্লা দেওয়া নয়। বন্ধুত্ব মানে পাশে থাকা একফালি খোলা জানলা হয়ে যার ছোট্ট ছিটকিনি খানা পুট করে ঘুরিয়ে খুলে দিলেই চোখে মুখে আর মনে লাগে বসন্তের সুবাস। বন্ধুত্ব মানে এক মেঘমুক্ত শরতের আকাশ অথবা একমুঠো কাশফুল যা দেখলে হঠাৎই মেঘলা মনে ওঠে রোদ আর গোমড়া মুখে ফোটে হাসি।       এই বন্ধুত্বের গল্প অনেক পুরোনো,অনেকদিন আগে তিনদশকের বেশি পেরিয়ে গেছে। ফেলে আসা সময়ের ছেলেমানুষী ভরা আমরা এখন প্রায় বুড়ি, অবশ‍্য তা অন‍্যের চোখে। আমাদের বন্ধুত্ব তো বলে এই তো যেন সবই সেদিনের কথা। সেদিনও বছরের হিসেবে যোগ বিয়োগ করে দেখলাম মাঝে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর..কিন্তু আমরা রাখি না তার খবর। হাতে গোনা কিছু ভালো বন্ধু নিয়ে বেশ আছি,মন পড়ে আছে সেই হাসি মজায় ভরা দিনগুলোতেই। আর এখনি বা হাসি মজা কম কী?দেখা হলেই উপচে পড়ে কত কথা।         বন্ধুত্ব হয়েছিল,আবার হারিয়েও গেছিল জীবনযুদ্ধে। দুজনের জীবনেই তখন ভীষণ অন্ধকার। তার মাঝেই ঠিকানাটুকু সম্বল করে একদিন ছুটে গিয়েছিলাম যদি পাওয়া যায় বন্ধুর খোঁজ। পেয়েছিলাম খুঁজে,তারপর আর হ...

রীল ভার্সেস রিয়াল

বাড়ি থেকে বেরিয়ে এয়ারপোর্টে আসা পর্যন্ত সময়ের মধ‍্যেই একটা ছোটখাটো কনটেন্টের ওপর শর্টস বানিয়ে নেবে ভেবেছে পিউলি। তারপর যখন এয়ারপোর্টে ওয়েট করবে তখন আরেকটা ছোট ভ্লগ বানাবে সাথে থাকবে প্লেনের টুকিটাকি গল্প। দেশে ফেরার আনন্দের সাথে অবশ‍্যই মাথায় আছে রেগুলার ভিডিও আপডেট দেওয়ার ব‍্যাপারটা। আর এই রেগুলারিটি মেনটেইন করছে বলেই তো কত ফলোয়ার্স হয়েছে এখন ওর। সত‍্যি কথা বলতে কী এটাই এখন ওর পরিবার হয়ে গেছে। সারাটা দিনই তো এই পরিবারের কী ভালো লাগবে সেই অনুযায়ী কনটেন্ট ক্রিয়েট করে চলেছে। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মোটামুটি বুঝে গেছে যে খাওয়াদাওয়া,ঘরকন্নার খুঁটিনাটি,রূপচর্চা,বেড়ানো এইসব নিয়ে রীলস বেশ চলে। কনটেন্টে নতুনত্ব না থাকলে শুধু থোবড়া দেখিয়ে ফেমাস হওয়া যায় না। উহ কী খাটুনি! তবে অ্যাকাউন্টে যখন রোজগারের টাকা ঢোকে তখন তো দিল একদম গার্ডেন হয়ে যায় খুশিতে। নেট দুনিয়ায় এখন পিউলিকে অনেকেই চেনে,তবে তাতে খুশি নয় সে। একেকজনের ভ্লগ দেখে তো রীতিমত আপসেট লাগে কত ফলোয়ার্স! মনে হয় প্রমোট করা প্রোফাইল। সে যাকগে নিজেকে সাকসেসফুল কনটেন্ট ক্রিয়েটার হিসেবে দেখতে চায় পিউল।         এখন সামার ভ‍্যাকেশন চলছে...

বিপাশা কথা

জীবনের কোন সময় আপনি কেমনভাবে উপভোগ করছেন সেটাই বোধহয় সবচেয়ে বড় কথা। বাড়ির ডেক্সটপ কেনার পর ছেলের উদ‍্যোগে প্রথমে অরকুট আর তারপর ফেসবুকে এলেও আমার কাছে মোবাইল ফোন এবং ডিজিটাল ক‍্যামেরা কোন কিছু না থাকাতে ফটো তেমন দেওয়া হত না। তাছাড়া তখন সময় কোথায়? দুই ছেলেমেয়ে,চাকরি,সংসার নিয়ে দারুণ ব‍্যস্ততা চলছে। হয়ত বা সারাদিনে ঐ একবার স্কুল যাবার সময় আয়নাতে মুখ দেখে যেতাম। খাবার দাবার কোন কিছুতেই বাছাবাছি ছিল না। সব কাজ সেরে বাড়িতে যা রান্না হত খিদের পেটে তাই গপাগপ গিলতাম। বাচ্চা হবার আগে বা পরের যাত্রাপথ তো ছিল আরও শোচনীয়। আমার শাশুড়িমা ছিলেন না,সুতরাং বাচ্চা হবার আগের যত্ন করার মত তেমন কেউ ছিল না। মা দূরে থাকতেন তাছাড়া তিনিও চাকরিরতা। আমরা মা,মেয়ে দুজনেই যেহেতু চাকরি করতাম তাই কারোরই একটানা কারও কাছে এসে থাকা সম্ভব ছিল না। ছেলের সময় যখন নার্সিং হোমে ভর্তি হতে গেলাম আমার মনে আছে আমি রাত্রি প্রায় নটা নাগাদ বাড়ি থেকে না খেয়ে ভর্তি হলাম সেখানে। নার্সিংহোমে তখন খাবার প্রায় শেষ,তবুও পরের দিন আমার সিজার হবে তাই খাওয়া হবে না জেনে ওরা একটু ঠান্ডা ডাল ভাত এনে দেয় এবং কথাও শুনতে হয় তার জন‍্য। মা অনুরোধ করেও ...

বাসা

ফোনটা খুলতেই একটা ছোট্ট নোট পায় রাজ,একটু অবাক হয় এত সকালে মা আবার কী মেসেজ করল? ঘুম থেকে উঠেই তো মাকে না দেখলে ওর দিনই শুরু হয় না। কখন কী খাবে? কোথায় ওর জিনিসপত্র সবই মা হাতের কাছে গুছিয়ে দেয় বরাবরই। সেখানে একটা ছোট্ট নোটস লেখা,' বাবু আজ একটু ম‍্যানেজ করে নে আমি একটু দরকারে বেরোলাম। চাবি আমার কাছে আছে।'   কী জানি কোথায় এমন দরকার পড়ল যে সাতসকালে মাকে বেরোতে হল। এখন কে ওকে সকালে গরম জলে লেবুর রস দেবে? তারপর আমন্ডের খোসা ছাড়িয়ে,ওয়ালনাট ভেজানো হাতের কাছে ধরবে?   মনটা একটু তেঁতো হয়ে গেলেও নিজেকে সামলায় রাজ। মায়ের কথা মনে পড়ল আবার..' বড়ো হবি না নাকি কখনও? আমি কী চিরকাল থাকব? সবসময় খালি মা আর মা। এত বড় ছেলেকে সব গুছিয়ে দিতে হয়। ওহ্ আর পারি না বাপু। তোর কাজ সারাদিন সারতে সারতে আমি হাঁপিয়ে উঠি। ঘরটার কী অবস্থা করে যাস খেয়াল আছে? আর কত জ্বালাবি আমাকে? ভুলে যাস বোধহয় আমিও একটা মানুষ।'    মায়ের রাগ হয়েছে বুঝতে পারে রাজ,অবশ‍্য এমন রাগ মাঝেমধ‍্যেই মায়ের হয়। তখন একপ্রস্থ চ‍্যাঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় করে। ছোটবেলা থেকেই এমন দেখে এসেছে মাকে। তখন মা রাগ করে বকলে ওর কান্না পেত,চোখে জল আস...