Skip to main content

Posts

নতুন কিছু

'বিয়ে তো এগিয়ে এল বৌমা তা আমাদের দাদুভাই কবে আসছে?'   ছাদে কাপড় মেলতে মেলতে শ্রমণা শাশুড়িমাকে বলে,' হ‍্যাঁ এক সপ্তাহ আগে হয়ত আসবে মা। দেখা যাক কেমন ছুটি পায়। এদিকে তো সব গোছগাছ আমাদের করতে হচ্ছে। উনি বিয়ে করে আমাদের ধন‍্য করবেন শুধু।' -' তাও ভালো যে বিয়ে করছে। মানে সেটাই তোমাদের ভাগ‍্যি।'   আচারে রোদ দিতে দিতে সুষমাদেবী বলেন। রান্নাঘরের দায়িত্ব শ্রমণাকে দিলেও আচার সামলান একদম নিজের হাতে। কোন মরশুমে কী আচার বানানো হবে,কী উপকরণ লাগবে,কেমন পাক দেবেন সবই তাঁর নখদর্পণে। সুতরাং এই বিষয়টা মানে বড়ি, আচার ইত‍্যাদি--- ওহ্ আরও আছে মানে পিঠে,পায়েস ইত‍্যাদিও নিজের হাতেই করতে তিনি ভালোবাসেন।    দেখতে দেখতে শ্রমণা শাশুড়ি হতে চলল তবুও তিনি ভরসা পান না। বললেই বলেন,' আরে যতদিন আমি আছি ততদিন করে খাওয়াই। এসব না থাকলে তো একদম বেকার হয়ে যাব।'      কোনদিনই কোন অধিকার বুঝে নিতে শ্রমণা মরিয়া হয়ে ওঠেনি,একটা সময় দায়িত্ব নিজেই চেপে গেছিল কাঁধে।     শাশুড়িমা অবশ‍্য কথায় কথায় বলেন,' এই তো সেদিন বিয়ে হয়ে এলে বৌমা,এরমধ্যেই কেমন পাকা গিন্নীর মত ভাব সাব হয়ে গেছে তোমার। সবই যে...

সহযাত্রী

-'তুই কখন ফিরবি?   রাতে ট্রেন মনে আছে তো?' -' হ‍্যাঁ মনে আছে,কেন থাকবে না?' -' মানে তোর এখনও প‍্যাকিং হয়নি তাই বলছি।' -' একদম চাপ নিস না,ঠিক হয়ে যাবে সব। তুই তো জানিস আমার লাস্ট মিনিটে সব হয়। যেমন তোর সাথে প্রেমটাও হয়েছিল একদম লাস্ট মোমেন্টে।'   গালে সিঁদুরের রঙের আলপনা খেলে যায় হঠাৎই আলতার ইন্দ্রর কথা শুনে। ফোনেই খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে। -' যারা সব লাস্ট মোমেন্টে করে তাদের জীবনে অনেক কিছু কিন্তু মিস হয়ে যায়। তাই দেখিস আমাকে ধরতে পারলেও আজকের ট্রেনটা যেন মিস্ না হয়।'   -' এই প্লিজ আমার জিনিসগুলো একটু এক জায়গায় করে রাখবি? আমি গিয়ে স‍্যাকে নিয়ে নেব ফটাফট।' -' তুই কী ভাবিস আমি কী বেকার? আমারও তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছে। এখনও একটা বড় সাবমিশন বাকি আছে। তার মাঝেই তোকে ফোন করছি। কারণ আমার তো যত দায়।' -' আচ্ছা আচ্ছা বাবা আমারটা আমিই করে নেব। তুই তো শর্ত দিয়েছিলি বিয়ের আগেই যার যার কাজ তাকে করতে হবে। ইশ্ ভুলে গেছিলাম একদম। ওকে রাখি রে বাই। আমারও একগাদা কাজ পড়ে আছে। তারপর ছুটে আসব বাড়িতে। তারপর প‍্যাক করে একদম কু ঝিক্ ঝিক্...'      ইন্দ্র ফ...

চোরাবাজারে শপিং

সকাল থেকেই গিন্নীর ঝাঁঝালো ছ‍্যাঁক ছোঁক চলছে রান্নাঘরে আর তার সাথে গজগজ চলছে সমান তালে...' ওহ্ যবে থেকে এসেছি এই বাড়িতে প্রাণটা পুড়ে কয়লা হয়ে গেল। যবে চিতায় উঠব তবে মুক্তি হবে। সকাল থেকে সবাই নিজেকে নিয়ে ব‍্যস্ত আমার কথা আর কার মনে থাকে?'  কানটা আবার খাড়া করে একবার সাধনার অভিযোগ শোনেন অতীনবাবু। তারপর আবার ডুবে যান রেডিওটা নিয়ে,ওহ্ এই তো একটা সঙ্গী তাঁর যার গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করে তাঁর দিন কাটে। একটু গালে হাত দিয়ে গাল টিপলেই বেশ সুন্দর গান গেয়ে তাঁকে জ্বালা যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে। অবশ‍্য এই রেডিওটা দিয়ে গেছে তার একমাত্র কন‍্যা চাকরি পেয়ে পুণাতে যাবার আগে। অতীনবাবুর বাবার আমলের রেডিওটা নাভিশ্বাস তুলছিল অনেকদিন থেকেই,ঘরঘর খড়খড় করে আওয়াজ করত। ঠিক যেন মনে হত এই যেন প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাবে। অবশ‍্য সেটাই হল একটা সময় একেবারে অচল হয়ে গেল।     অতীনবাবু বরাবর হিসেবী,আসলে ছেলেবেলার বড় হওয়ার ওপর বোধহয় অনেক কিছুই নির্ভর করে। মা বাবা যেমন হন,তাঁদের অভ‍্যেস যেমন তার ছাপ সন্তানের ওপরেও পড়ে। একটা সময় টানাটানিতে মানুষ হয়ে ওটাই অভ‍্যেস হয়ে গেছিল তাই নিজের জীবনেও বরাবর দড়ি টানাটানি করে...
গতবার কোচবিহার গিয়ে মদনমোহন দর্শন হলেও পুজো দেওয়া হয়নি বিশেষ কারণে, তাই এবার আবার যাওয়া। তার সাথে বহুদিনের ইচ্ছে ছিল আমার কর্তার রাসের মেলা দেখার তাই অনেকগুলো কাজ হাতে নিয়ে খুব কম সময়ের জন‍্য যাওয়া কোচবিহার। পদাতিক এক্সপ্রেসে গিয়ে দুপুরে পৌঁছে বিকেলেই মদনমোহনের সান্ধ‍্যকালীন দর্শন ও পুজো দিয়েছিলাম তারপর গেছিলাম মেলাতে। সাথে ছিল হীরাদি,জামাইবাবু আর মুন্নী। যাদের উদ‍্যোগে আর সাদর আহ্বানেই আমাদের যাওয়া। সন্ধ‍্যেবেলাতে সব রাস্তা মোটামুটি বন্ধ থাকে,তাই গাড়ি দূরে রেখে বেশ কিছুটা পথ হাঁটতে হয় মন্দির এবং মেলাতে যেতে। তাই দিদিদের সাথে পা মেলালাম আমরা। যদিও জামাইবাবু আরও কিছুটা পথ যাতে আমরা গাড়িতে যেতে পারি সেই ব‍্যবস্থা করেছেন। মদনমোহন মন্দিরের অনেকটা আগেই দেখলাম রাস্তার ধার ধরে মেলা বসেছে আর দলে দলে লোক চলেছে মেলার পানে। আমরাও সেই ভীড়ে পা মেলালাম। রাস উপলক্ষে রাতে আলোতে আলোতে সেজে ওঠে মদনমোহন ঠাকুর বাড়ি,সে এক অপূর্ব সুন্দর দৃশ‍্য। শ্বেতশুভ্র মন্দির আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে নানা রঙের আলোর সাজে। মেলার সময় মূল প্রবেশ দ্বার বন্ধ থাকে। তার থেকে এগিয়ে পাশের দরজা দিয়ে মেটাল ডিটেক্টর পেরিয়ে আমরা ঢুকলাম।...
দশ পাতার ১ লাইনে কী বানান 16 pager তেরো লাইনে পারলেন না।  23 পাতার 12 লাইনে কী বানান।  ২৬ পাতার ২৪ লাইনে মালতীর মা হবে। ২৬ পাতার ৩০ লাইনে কী বানান। ২৮ পাতার ২১ লাইনে দের মে ঘুমিয়ে কী হবে( কী বানান) ২৯ পাতার ১৯ লাইনে কী বানান। মেয়েটা কী ওকে ঘুষ দিতে চায়? ৩০ পাতার ৩ লাইনে কী বানান। ৩৩ পাতার চার লাইনে কী বানান। ৩৬ পাতার ১২ লাইনে কী বানান। ৩৬ পাতার ২১ লাইনে কী বানান। ৩৬ পাতায় ২৩ লাইনে কী বানান। ৩৭ পাতার ২ লাইনে নীচে হবে। ৩৭ পাতার ৫ লাইনে ব‍্যস্ত হবে।  ৩৭ পাতার শেষ লাইনের আগে লাইনে কী বানান। ৪৩ পাতার ২৩ লাইনে কী বানান। ৪৫ পাতার ১ লাইনে নীচে হবে। ৪৬ পৃ: ৩ লাইনে কি বানান কী হবে দুবার ৪৮ পৃঃ ১৮ লাইনে কী হবে। ৫৪ পৃঃ ২০ লাইনে ব‍্যস্ত বানান। ৫৮ পৃঃ শেষ লাইনে কী হবে ৫৯ পৃঃ ৬ লাইনে ব‍্যস্ত হবে। ৬০ পৃঃ ৬ লাইনে কী হবে। ৬২ পৃঃ ৬ লাইনে ব‍্যস্ত হবে। ৬৩ পৃঃ ১৪ লাইনে কী হবে। ৬৪ পৃঃ ৩ এবং ৬ লাইনে কী হবে। ৬৪ পৃঃ ২৭ লাইনে কী হবে। ৬৭ পৃঃ ১৫ লাইনে কী হবে, ২৯ লাইনে কী হবে। ৬৮ পৃঃ ১৮ লাইনে কী হবে, ৬৯ পৃঃ ৫ লাইনে অন‍্যের হবে। ৬৯ পৃঃ ৬ লাইনে কী হবে। ৬৯ পৃঃ ১৩ লাইনে কী হবে ৬৯ পৃঃ ২৮ লাইনে কী হবে।...

আনন্দের ছোঁয়া

আনন্দের_ছোঁয়া পুজোর গন্ধ আকাশে বাতাসে ভাসার আগে থেকেই বাঙালীর পুজোর কেনাকাটা শুরু হয়ে যায়। বাজারের দোকানগুলোতে উঁকি মারে নানা রঙের শাড়ি জামাকাপড়। আজ থেকে প্রায় ছাব্বিশ বছর আগের স্মৃতিতে ডুবে যায় লিলি তখন অনলাইন শপিং ঢোকেনি মধ‍্যবিত্ত বাঙালীর অন্দরে। জামাকাপড় কিনতে যেতেই হত বাজারে অবশ‍্য এখনও বাজারে যায় মানুষজন। অবশ‍্যই যাবে,নাহলে বাজারের দোকানীদের কী হবে শুনি?     লিলি কলিংবেলের আওয়াজে দরজা খোলে ডেলিভারি বয় দাঁড়িয়ে ওকে ওটিপি বলতেই প‍্যাকেটটা দিয়ে চলে যায়। প‍্যাকেটের ভাজ খুলতে খুলতে হঠাৎই মনের মাঝের স্মৃতির ঝাঁপি যে কখন খুলে গেছে বুঝতেই পারেনি। সোফাতে বসে জামাটায় হাত বোলাতে বোলাতে মনে হয় সেই সময় একটা দুটো দিন ধরা থাকত বাজারের জন‍্য। সপ্তাহান্তে সেটা ছুটির দিনই হত,আগের দিন থেকেই থাকত উত্তেজনা সেটা নিয়ে। আর তৈরী হত একটা লম্বা লিস্ট। এখনকার মত তখন হাতে টাকা দিয়ে দেওয়া বা ফোন পে গুগল পে করে দেবার চল ছিল না। বাজারের ফর্দে যোগ হত শ্বশুর শাশুড়ির জামাকাপড়, ননদদের শাড়ি,নন্দাইদের শার্ট প‍্যান্টের কাপড়,বাচ্চাদের জামা প‍্যান্ট,বাড়ির কাজের লোকের শাড়ি আর লিলির মা বাবার জামাকাপড়।   ...

তখনও বৃষ্টি নামেনি

                           ১ যাত্রীরা অনুগ্রহ করে শুনবেন আপ দার্জিলিং মেল বারো নম্বর প্ল‍্যাটফর্ম থেকে ছাড়বে কথাগুলো শুনে হঠাৎই বুকটা কেঁপে উঠল দেবাঙ্গীর। আবার দার্জিলিং মেলে চড়বে কতগুলো বছর পরে কিন্তু আজ আর মেয়েবেলার বেড়াতে যাবার আনন্দের ঢেউয়ের ধাক্কা বুককে এলোমেলো করছে না বরং কত ঘটনা প্রবাহ মনকে নাড়িয়ে যাচ্ছে একের পর এক। স্টেশনের অনেক আলোর ঝলকানিতে চোখটা কেমন যেন ধাঁধিয়ে যায় ওর। বিন্দু বিন্দু আলোর বিচ্ছুরণ অবশ করতে চায় স্মৃতিকে। কিন্তু স্মৃতি যে বড়ই প্রিয় বন্ধু মনের সে কিছুতেই ছেড়ে যায় না মনকে আঁকড়ে ধরে রাখে ভালোবেসে প্রাণপনে। ঠিক মনে করিয়ে দেয় খুব ভালো লাগার আর খারাপ লাগার মুহূর্তগুলোকে।  -" মা কী ভাবছ বলত? চল চল তাড়াতাড়ি ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হয়ে গেছে। এরপর দেরী করলে ভীড় বাড়বে। এমনিতেই কত লোক। দাও তোমার ব‍্যাগটাও আমাকে দাও।"    দেবাঙ্গী তাড়াতাড়ি করে পা বাড়ায় মেয়ের সাথে। সেই ছোট্ট সম্রাজ্ঞী যাকে পৃথিবীতে আনার জন‍্য একাই রুখে দাঁড়িয়েছিল সবার বিপক্ষে সে আজ কত বড় হয়ে গেছে। দেবাঙ্গীর মত না থাকলেও নিজের...