Skip to main content

Posts

পুজোর ঠাকুর দেখা

ছোটবেলার দুর্গামন্ডপ,একচালায় ডাকের সাজের দুর্গাঠাকুর সবই এখন অতীত। মা,বাবা চলে যাবার পর দীর্ঘদিন গ্ৰামের বাড়ির পুজোর নস্টালজিক স্বাদে বঞ্চিত মন। কলকাতার থিমের পুজোর ভিড়ে মাঝেমাঝেই উঁকি মারে ছেলেবেলার সেই দিনগুলো। গ্ৰামের একটা পুজোকে কেন্দ্র করে কত হইচই আর বাড়িতে আত্মীয়স্বজনের মেলা। তারপর বিজয়া দশমীর মেলার আনন্দটুকু দুহাতে ধরে মাকে বিদায় দেবার পালা বিজয়াদশমীর মিষ্টিমুখে। দীর্ঘদিন কলকাতা শহরে থাকার সুবাদে এখন আমি মোটামুটি শহুরে,তবুও কোথায় যেন এখনও মাটির গন্ধমাখা মনটা মাঝেমধ‍্যেই উঁকি দেয় স্মৃতির ঝাঁপি নিয়ে। ছুটে যেতে ইচ্ছে করে একছুট্টে ছোটবেলার দিনগুলোতে। কিন্তু সময় বড় কঠিন,যা যায় তা যায়ই আর ফেরত আসে না কখনও। তবুও আমরা অনেক কিছু হারিয়ে ভালো থাকতে শিখে যাই,অনেক কষ্ট আর কান্নাকে লুকোতে শিখি হাসিমুখে। তাই নাইবা হল গ্ৰামের সেই দিনগুলো ফেরত পাওয়া,দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালে ক্ষতি কী?  কর্তার উদ‍্যোগেই আমরা দুজনে আজ বেরিয়েছিলাম ডাব্লুউবিটিসির বাসে গ্ৰাম বাংলার ঠাকুর দেখতে ধান‍্যকুড়িয়া আর আড়বালিয়াতে। সকাল আটটায় এসি বাস ছাড়ল ধর্মতলা ট্রামডিপো থেকে। বাসে ওঠার কিছুটা বাদে এলেন পরিবহনমন্ত্রী তিনি য...

কেনিয়ায় কয়েকদিন

     কেনিয়ায় কয়েকদিন রুমাশ্রী সাহা চৌধুরী জঙ্গলপ্রেম আমার প্রথম থেকে ততটা না থাকলেও যত পরিণত হয়েছি ততই নেশাতুর হয়েছি জঙ্গলের ডাকে। তবে আজকাল কেন জানি না মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে এত কোলাহল আর কৃত্রিমতা ছেড়ে চলে যাই সবুজের কোলে যেখানে শুধু নীরবতাকে উপভোগ করব আর প্রাণভরে শ্বাস নেব। খুব ভোরে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে,সারারাত টেন্টের আসেপাশে শুনব রাতজাগা পাখির গাছের ডাল ঠোকরানোর কুটুর কুটুর শব্দ অথবা কোন বন‍্যজন্তুর পায়ের খসখস আওয়াজ। আর সেইরকমই একটা ভালোবাসার টানে জঙ্গলে যাওয়ার ইচ্ছে মাঝেমধ্যে মনকে ব‍্যাকুল করে। তবে এবার আমাদের ইচ্ছে হল স্বদেশ পেরিয়ে আফ্রিকার জঙ্গলে যাব। বহুদিন ধরে ইচ্ছে মাসাইমারা যাব,গ্ৰেট মাইগ্ৰেশন দেখব কিন্তু কোনভাবেই তা সম্ভব হচ্ছিল না। আসলে বোধহয় কখনও জীবনে সুযোগ হঠাৎই আসে,অনেক আগে থেকে পরিকল্পনা করেও কিছু হয় না।      মাসতুতো দেওর নাইরোবিতে থাকে,অনেকদিন ওর সাথে তেমনভাবে যোগাযোগ হয়নি। এবার হঠাৎই দেখা হল ওর সাথে। ওর সাথে দেখা হবার কিছুদিন পরে একদিন আমার স্বামী প্রস্তাব দিল কেনিয়া যাবার। ব‍্যাস ঐ আর কী উঠল বাই তো কেনিয়া যাই। শুরু হয়ে গেল তোড়জোড়। এই প্র...

ডিসট‍্যান্ট রিলেশনশিপ

চড়ুইগুলো এসে বারান্দায় অনেকক্ষণ ধরে কিচমিচ করছে কিন্তু তবুও আজ উঠতে ইচ্ছে করছে না সুনিতার। বড় ক্লান্ত মনটা,যেন বহুদিনের বয়ে চলা শোকের যাত্রাপথ পেরিয়ে সে ভেঙেচুরে গেছে। সুনিতা কান পাতে এক সুরে পাখিগুলো কিচিরমিচির করে যাচ্ছে সমানে,আসলে তন্ময় ওদের অভ‍্যেস খারাপ করেছে। সকালে ফুলগাছকে আদরে জল দিয়ে ওদের পরিচর্যা করার সময়ে এই পাখিগুলোর সাথেও বকবক করত। নিজের জন‍্য ভিজিয়ে রাখা ছোলা আর বাদামের ভাগ দিতে দিতে কত কথাই না বলত। শেষে তো সুনিতা নিজেই রাগ করে বলত,' আচ্ছা এগুলো খাও নিজের শরীর ঠিক রাখার জন‍্য। বল এতে শক্তি হয়,বি টুয়েলভ আছে। তা এই ভিটামিন আর পুষ্টি সবই তো ছাদে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর পাখিদের পেটে যাচ্ছে।'     তন্ময় হাসত,' আরে ওরা আর কতটুকু খায়,আমিই তো খাই। অতগুলো করে ভেজাও আর কত খাওয়া যায়?'    একটা সময়ের পর পাখিদের জন‍্য দানাশস‍্য এনে সেগুলোই ছড়িয়ে দিত ছাদে তন্ময়। ওরা আনন্দে খেত সেগুলো। তন্ময় চলে যাবার পরেও সুনিতা সেই গম,ছোলা দিয়ে পাখিদের খেতে দেয় রোজ। প্রথম কয়েকদিন কিছুই করতে পারেনি,তারপর ওদের চিৎকারে মনে হয়েছিল ওরা যেন বলছে আমাদের খুব খিদে পেয়েছে। একটু খাবার দাও। তাই পায়ে ব‍্...

নর্থবেঙ্গল ট্রিপ

হঠাৎই প্ল‍্যান আর বেরিয়ে পড়া,তবে সবটাই হয়েছিল আমাদের স্কুলের পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস‍্য জয়িতার জন‍্য। দলে টেনেছিল দু একজন ছাড়া মোটামুটি সবাইকেই। আমিও রাজি হয়ে গেছিলাম। যদিও উত্তরবঙ্গ আমার ভালোবাসার জায়গা মন ভাসে মাটির গন্ধে,সবুজে ভেজে চোখ আর আমের সুবাসে মেশে ছোটবেলার গন্ধ। মালদা থেকে ভালুকা রোড পর্যন্ত প্রতিটা স্টেশনে মিশে আছে ছোটবেলার কত স্মৃতি আর ভালোবাসার কথা। জায়গার খোঁজ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ঠিক হল তাবাকোশিতে যাওয়া হবে কারণ আমাদের হাতে সময় কম আর তাবাকোশির সৌন্দর্য অসাধারণ। চারদিকে চা বাগান ঘেরা একটা সুন্দর নিরিবিলি জায়গা। রাতে বৃষ্টির শব্দ আর রঙ্গভঙ্গ নদীর জলের আওয়াজ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। যদিও আমি গতবছর ঘুরে এসেছি তাবাকোশি তবুও এই সুযোগটা মিস্ করতে মন চাইলো না। সবাই মিলে যাব একসাথে,আর সবাই মহিলা সুতরাং এটার আবার একটা অন‍্যরকম আনন্দ আছে। জয়িতাই টিকিট কাটলো,এনজিপিতে রিটায়ারিং রুম বুক করল এবং ফেরার টিকিট বন্দেভারতে কাটলো। তাবাকোশিতে হোমস্টে ঠিক করা,গাড়ির সাথে কথা বলা সবই ও করল। বুঝলাম আমাদের সর্বকনিষ্ঠা সদস‍্যটি খুবই পারদর্শী সব ব‍্যাপারেই। আর সফর শেষেও একটা কথাই বললাম সবটাই তোর জ...

কাজল নয়না

-সত‍্যি বহ্নিদি আমার মনে হয় তোমার ঐ কাজলকালো চোখের দীঘিতে হাঁস না হলেও যদি মাছি হয়েও ডুবে যেতে পারতাম তো বেশ হত। -'ইশ্ খুব ফিচেল হয়েছিস তাই না? দাঁড়া তোর হচ্ছে। আরে আমার চোখের দীঘিতে মাছি হয়ে ডুব মারলে তো আমার চোখ দুটোই তো যাবে। তারপর মরে গিয়ে সারাক্ষণ চোখ গেল,চোখ গেল বলে কাঁদব।' -বালাই ষাট,অমন কথা বলতে নেই,তুমি এমন বললে তো সন্দীপ দা আমাকে পেটাবে। হায় রে যদি এই বান্দা ছেলে হত..তবে সন্দীপদাকে লেঙ্গী মেরে তোমাকে ইলোপ করতাম। আই লাভ ইউ বহ্নিদি।       বহ্নিদি কথাগুলো শুনে পাহাড়ি ঝর্ণার মত খিলখিলিয়ে হেসে উঠেছিল। বহ্নিদির চোখদুটোও হেসেছিল হাসির দোলায়। চোখে টানা কাজলের রেখা যেন আরও মায়াবী করে রেখেছিল চোখদুটোকে।        আমাদের পাড়াতে দুটো বাড়ি পরেই বহ্নিদিরা থাকত। এখনকার মত তখনকার পাড়া কালচার ছিল না। বেশ বিকেল হলেই আমরা জমায়েত হতাম,তাতে খেলাধুলার সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনার কথাও হত। আবার নানাবিধ চক্রান্তও হত,মানে কাদের গাছের জামরুল পেকেছে,কাঁচা আমের মাখা কাদের গাছের আমে ভালো হয় এইসব নানাবিধ গল্পও হত। ছোট থেকেই দেখেছি বহ্নিদি আমাদের টিমলিডার আবার আদর্শও বলতে পারো। তাই আ...

দাগ ভালো

'এই মিস্টিটা খেয়ে দেখুন,আমাদের কৃষ্ণনগরের একদম নামকরা মিস্টির দোকানের সরপুরিয়া।'     সুবোধবাবু একের পর এক মিস্টির সুখ‍্যাতি করে যাচ্ছেন আর প্লেট এগিয়ে দিচ্ছেন ছেলেপক্ষের দিকে। দেখছেন এরা বেশ খাদ‍্যরসিক,আয়েশে মুখে মিস্টি পুরে বলছেন,' হ‍্যাঁ সত‍্যি দারুণ। যদিও আমার সুগার তবে আপনি যেভাবে বলছেন তাতে আর না খেয়ে থাকতে পারছি না। হ‍্যাঁ তা অনেক তো খাওয়া হল এবার মেয়েকে আনুন,দিনের আলোতে মেয়েকে দেখব বলে সকাল সকাল চলে এলাম। যা দিনকাল পড়েছে,আজকাল সবাইকে সুন্দরী লাগে বুঝলেন মশাই,সবই মেকআপের জাদু।'  -' হেঁ হেঁ তা যা বলেছেন,তবে আমার মেয়ে খুব সাধারণ,মানে এই পড়াশোনা নিয়ে থাকে। অত সাজগোজের বালাই নেই। দেখলেই বুঝতে পারবেন।' -'দেখুন আমাদের আধুনিক পরিবার মেয়েরা সাজবে এটাই তো ভালো। কিন্তু ঐ যে মুখোশে আসল মুখ ঢাকা পড়ে যাবে তাতেই আমার আপত্তি। আরে বাবা যার সঙ্গে চব্বিশ ঘন্টা থাকতে হবে তাকে মুখটাই দেখানো ভালো।'     ছেলের বাবার কথা শুনে একটু দমে যান সুবোধবাবু। ভদ্রলোক পেশায় প্রধানশিক্ষক,এখনও দুবছর চাকরি আছে। ওদের একমাত্র ছেলে আজ আসতে পারেনি,হঠাৎই অফিসের ট‍্যুরে দিল্লি যেতে হয়েছে বলে...